বৃহস্পতিবার ২৭ জুন, ২০১৯ ইং , ১৩ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

রোজায় শিক্ষার্থীদের সুস্থতা

মে ২২, ২০১৯ | ৩:৫৮ অপরাহ্ণ

পর্ব- ৬

বছর ঘুরে আবারো এলো রোজা। গরমের দিনে রোজা হওয়ায় আমাদের প্রায় ১৫ ঘণ্টা অভুক্ত থাকতে হবে। তাই রোজা ভেঙেই অনেকে হাপুসহুপুস করে একগাদা খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে করে পেটে গ্যাস, বদহজম ও নানারকম শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। রোজায় সুস্থ থাকতে তাই বাকি যে ৯ ঘণ্টা হাতে থাকে, সে সময়ে পরিকল্পিতভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে হবে। এতে রোজায় ওজন বেড়ে যাওয়াসহ আরও যেসব সমস্যা দেখা দেয় তা থেকে মুক্ত থাকা যাবে।

সারাবাংলার পাঠকদের জন্য নিয়মিত রোজায় সুস্থতার টিপস দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ আজমেরী রহমান সিন্থীয়া।

 

বিজ্ঞাপন

গ্রীষ্মকালের এই রোজায় না খেয়ে থাকতে হচ্ছে প্রায় ১৫ ঘন্টা। তাই দীর্ঘ সময়ে রোজা পালনের প্রস্তুতিও সঠিক হওয়া দরকার। তা না হলে, শরীর দুর্বল ও গ্লুকোজ লেভেল কমে গিয়ে মাথা ঘোরার সঙ্গে বমি ভাব হতে পারে। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক ও কিডনীজনিত সমস্যাও হতে পারে।

সুস্থ থেকে ভালোভাবে রোজা পালন করার জন্য কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। চলুন জেনে নেই, শিক্ষার্থীরা কীভাবে সুস্থ থেকে রোজা পালন করতে পারেন-

ইফতার

– ক্লাশ আর বাইরের কাজ ইফতারের আগেই শেষ করে বাসায় ফেরা উচিত, যেন কিছুটা সময় বিশ্রাম নেওয়া যায়।
– সারাদিন শেষে শক্তি সঞ্চারের জন্য ২/৩ টি খেজুর দিয়ে হোক ইফতারের শুরু।
– খালি পেটে লেবুর শরবত খাওয়া ঠিক না। এই বয়সের অনিয়মিত খাদ্যাভাসের জন্য অনেকেরই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় আগে থেকেই ভোগেন। তাই ইফতারের শুরুতে অন্য খাবার খেয়ে তারপর লেবুর শরবত খেতে হবে।
– ইফতার মেন্যুতে পেট ঠান্ডা করে এমন ফলের জুস যেমন পেঁপের শরবত, বেলের শরবত, বাঙ্গির শরবত খাওয়া ভালো।
– একবারে অনেক পানি না খেয়ে ১০/১২ গ্লাস পানি অল্প অল্প করে খান।
– মৌসুমি ফল বেশি থাকলে ইফতার হতে পারে পুষ্টির পরিপূর্ণ উৎস।
– এই বয়সীরা ভাজাপোড়া ছাড়া ইফতার মানতে চায় না। তাই যতটা সম্ভব ঘরের তৈরী ভাজাপোড়া খান। আর বাইরের খাবার হলে তা পরিমাণে কম খেতে হবে। তবে দুটোক্ষেত্রেই সঙ্গে খাবেন সালাদ।

সেহেরী

– সেহেরীতে একটি সিদ্ধ ডিম দিতে পারে সারাদিনের চালিকা শক্তি।
– তিন ভাগ খাবারের একভাগ ভাত আর দুই ভাগ সবজি, মাছ, মাংস হওয়া উচিত।
– গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেশি থাকলে চিড়া, দই, কলা সেহেরীতে খাওয়া যেতে পারে।

খাবার খেতে হবে সময় আর প্রয়োজনীয়তা বুঝে। সুস্থতাকে প্রাধান্য দিয়ে ঘরের খাবার বেশি খান। কাচ্চি বিরিয়ানি কিংবা বাইরের ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। সুস্থ, সুন্দর আর বরকতময় রোজা পালন করুন।

 

সারাবাংলা/টিসি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন