মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ইং , ১১ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

গণপরিবহনে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রুল

মে ২২, ২০১৯ | ৭:২৪ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহনে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রুল জারি করেছেন আদালত। এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বুধবার (২২ মে) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

রুলে মটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর ধারা ৬০(৩) ও ২০১৭ সালের ২ মার্চ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি বাস্তাবায়ন করতে বলেছেন আদালত। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের জানমাল রক্ষায় বাস, মিনিবাসসহ সব ধরনের যানবাহনে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ সচিব, স্বারষ্ট্র সচিব, পুলিশ প্রধান, বিআরটিএ‘র চেয়ারম্যান, ফায়ার সর্ভিসের মহাপরিচালক ও বিআরটিএ’র প্রকৌশলী পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মিছবাহুল আনওয়ার। তার সঙ্গে ছিলেন, আইনজীবী মো. সোহরাব সরকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

বিজ্ঞাপন

পরে আইনজীবী সৈয়দ মিছবাহুল আনওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যানবাহনে ওভারহিটিংসহ বিভিন্ন কারণে প্রায়ই অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ গণপরিবহনে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা রাখার বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও ব্যবস্থা যদি যানবাহনে থাকে তাহলে এ রকম দুর্ঘটনা খুব সহজেই এড়ানো যায়।’

‘বর্তমানে বাজারে অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে এবং যানবাহনে ব্যবহার উপযোগী অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনসাধারণ বা যাত্রীসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই রিট আবেদনটি করা হয়। আদালত প্রাথমিক শুনানি নিয়ে অগ্নিনির্বাপন ব্যাবস্থা স্থাপনের বিষয়ে রুল জরি করেছেন‘, বলেন মিছবাহুল আনওয়ার।

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি ২৭-এর সানরাইজ প্লাজার সামনে রাস্তার গ্যাস পাইপলাইন লিক হয়ে ৭ নম্বর পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরে যায়। এতে কমপক্ষে ৮ যাত্রী আহত হন। গত ২৯ মার্চ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নূরে মক্কা পরিবহনের একটি বাসের ইঞ্জিন ওভারহিটিং হয়ে আগুন ধরে যায়।

এছাড়াও ১০ ফেব্রুয়ারি বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ির ক্রসিংয়ে চলন্ত একটি বাসের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ধরে যায়। একইভাবে ২০১৭ সালের ২৪ জুন সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিপিএটিসি’র সামনে বিআরটিসির দ্বিতল একটি বাসে আগুন ধরে গেলে ১৫ যাত্রী আহত হন। একই বছরের ২০ ডিসেম্বর শাহবাগে একটি বাসের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগে যায়।

সংবাদ মাধ্যমে দেশের বিভন্ন স্থানে যানবাহনে অগ্নি দুর্ঘটনার প্রকাশিত খবর যুক্ত করে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী আবুল বারাকাত মো. সাজ্জাদ আল বারী সোহেল।

সারাবাংলা/এজেডকে/এটি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন