মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ইং , ১১ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

অশ্রুসজল ভক্তরা, নেওয়া হচ্ছে নজরুল ইনস্টিটিউট ও ঢাবি মসজিদে

মে ২৩, ২০১৯ | ২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘গুণী এক শিল্পীকে হারালাম। নজরুল সংগীতে তিনি ছিলেন এ সময়ের অভিভাবক’- বলছিলেন শিল্পী আব্দুল আলীমের ছেলে জাহাঙ্গীর আলীম। এসময় অশ্রুসজল চোখে শিল্পীর বাসা থেকে নামছেন শবনম মুশতারি। শোকের আবহ মোহাম্মদপুর কৃষি মাকেটের সি ব্লকে গলিতে। বাইরে বইছে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। এর মধ্যেও শিল্পীর অগণিত ভক্ত ও ছাত্রছাত্রীরা ভিড় করছেন।

তখনও খালিদ হোসেনের মরদেহ বাসায় এসে পৌঁছায়নি। রাত ১২টায় তার মরদেহ গোসল করিয়ে বাসায় আনা হয়। যে বাসায় এই শিল্পী ১৯৬৪ সাল থেকে থাকতেন। দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে কুষ্টিয়ায় কোটবাড়িতে বাড়ি করেছিলেন। তারপর ষাটের দশকে ঢাকায় স্থায়ী হয়েছিলেন নজরুল সংগীতের এই প্রবাদ প্রতিম শিল্পী। স্ত্রী ও ছেলে এবং ছেলের বউ নিয়ে এখানে ছিলেন শিল্পী।

আরও পড়ুনচলে গেলেন শিল্পী খালিদ হোসেন

বার্ধক্যের কাছে হার মেনে ৮৫ বছর বয়সে দেহত্যাগ করলেন তিনি। বেঁচে থাকার সময় তার ধ্যান জ্ঞান ছিলো নজরুল গীতি। বাসার তার শোভার কক্ষে এখনও গানের ডায়রি ও হারমোনিয়াম পড়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নজরুল গবেষক হিসেবে তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ। নজরুলের বহু ইসলামী গান তার গলায় যুগ যুগ ধরে শুনেছেন মানুষ। তার ছয়টি নজরুল গীতির অ্যালবাম এবং ১২টি ইসলামী গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। সঙ্গীতের অবদানের জন্য ২০০০ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।

আরও পড়ুন: নজরুল সংগীতশিল্পী খালিদ হোসেনের অবস্থা সংকটাপন্ন

শিল্পীর ছেলে আসিফ জানান, কালই মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়ার পথে রওয়ানা হবেন তারা। তার আগে প্রধানমন্ত্রীর নিদেশনা অনুযায়ী মরদেহ কোথায় কোথায় রাখা হবে তা ঠিক করা হবে। অসুস্থতার সময় প্রধানমন্ত্রী শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই চলছিলো শিল্পীর চিকিৎসা।

আসিফ জানান, মোহাম্মদপুরে বাসার পাশের মসজিদে ফজরের নামাজের পর তার প্রথম জানাজা হবে। এরপর সকাল ১০ টায় প্রথমে নজরুল ইনস্টিটিউট ও সাড়ে ১০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে কুষ্টিয়ায় তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে মরদেহ। সেখানেই সমাহিত করা হবে তাকে।

সারাবাংলা/এসএ/এমএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন