রবিবার ১৬ জুন, ২০১৯ ইং , ২ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

মুগ্ধতার আবেশে শেষ হলো শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা

মে ২৩, ২০১৯ | ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘প্রোগ্রামিংয়ের মতো নিরস একটি বিষয়ও কতটা আনন্দের সঙ্গে করা যায় সেটি এখানে এসে শিখলাম, আমি অভিভূত।’ জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার শেষ দিনে সারাবাংলার কাছে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছিল ক্ষুদে প্রোগ্রামার নাহিয়ান।

শুধু নাহিয়ানই নয়, তার মতো আরও অনেকে মুগ্ধ হয়েছে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার শিক্ষণীয় অনেক বিষয়ে। তাই দুদিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটিকে তথ্য ও প্রযুক্তিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ার মাধ্যম হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষক আসিফ শাহরিয়ার নাফিস বলেন, ‘প্রোগ্রামারদের জন্য দুটো দিন স্বপ্নের মতো কেটেছে। প্রতিটা ক্লাস শেষ হয়েছে সুন্দর অভিজ্ঞতায়, ক্লাস নেওয়া শিক্ষকরা অনেক জানেন, তাদের খুব কাছ থেকে পাওয়ায় আমরা ঋদ্ধ হয়েছি। আমাদের জানার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে বুধবার (২২ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) কনফারেন্স হলে ‘অবাক হচ্ছে বিশ্ব এবার, বাংলার শিশু প্রোগ্রামারা’ শিরোনামে প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসর।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বি এম আরশাদ হোসেন, সিআরআই-এর সহযোগী সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদসহ অনেকে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তথ্য প্রযুক্তিতে আরো দক্ষ করে গড়ে তুলতে সরকারের আইসিটি ডিভিশন ও তারুণ্যের প্লাটফর্ম ‘ইয়াং বাংলা’র আয়োজনে এই কর্মশালায় দেশের ৬৪ জেলায় ২০০টি ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবকে’কেন্দ্র করে এ প্রতিযোগিতা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার পর জেলার নির্বাচিত ল্যাবগুলোতে চলবে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা। প্রোগ্রামিংয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের আগ্রহের জায়গাটি সহজ ও উপভোগ্য করতে শিক্ষকদের এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রথমদিন স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং বিষয়ে এবং শেষ দিন পাইথন ভাষার ওপর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, কর্মশালায় দেশের ৬৪ জেলার ৪০০ জন শিক্ষক, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ২০০ জন ল্যাব কো-অরর্ডিনেটরসহ মোট ৬০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়া। রেজিস্ট্রেশনের জন্য http://nctpc.srdlict.com ঠিকানায় লগইন করতে অনুরোধ করেছেন আয়োজকরা।

গতবারের মতো এবারও চারটি ক্যাটাগরিতে হবে প্রতিযোগিতা। যে কোনো বিদ্যালয়ের শিশু থেকে ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্ক্র্যাচ জুনিয়র, ৩য়-৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্ক্র্যাচ, ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাইথন জুনিয়র এবং ৯ম-১০ম শ্রেণি ও সদ্য পাস করা এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পাইথন সিনিয়র ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণগ্রহণ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এবারই এসএসসি পাস শিক্ষার্থীরাও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলায় নির্বাচিত ২০০টি ল্যাবে শুরু হবে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ। প্রত্যেকটি ল্যাবে ওই অঞ্চলের সবকটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। প্রতিটি ল্যাবে গড়ে ৭৫জন করে দেশব্যাপী প্রায় ১৫০০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রতিযোগিতা শুরুর আগে আইসিটি শিক্ষক এবং ল্যাব প্রশিক্ষক তার ল্যাবের সেরা প্রতিযোগীদের বাছাই করবেন। প্রতি ল্যাব থেকে স্ক্র্যাচের জন্য তিনজন করে টিম গঠন করা হবে, পাঁচটি টিমে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিটি ল্যাব থেকে স্ক্র্যাচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। পাইথনের জন্য প্রতিটি ল্যাব থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী এককভাবে অংশ নেবে। প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়ে জেলা পর্যায়ে ক্যাম্প ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা পর্যায়ে বিজয়ীদের নিয়ে জাতীয় ক্যাম্প ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে সাভার শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে। প্রতি জেলা থেকে বিজয়ী স্ক্র্যাচ টিম এবং বিজয়ী পাইথন প্রতিযোগীরা জাতীয় ক্যাম্পে যোগ দিয়ে ফাইনাল প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে। সেখান থেকে বাছাই করা হবে সেরা টিম।

সারাবাংলা/টিএস/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন