মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ইং , ১১ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ইতিহাস অনুসন্ধানের গল্পে অনুরণিত বাতিঘর মিলনায়তন

মে ২৪, ২০১৯ | ৯:০৪ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ইতিহাসভিত্তিক সাহিত্যচর্চা নিয়ে প্রাণময় কথায় অনুরণিত হলো ঢাকার বাতিঘর মিলনায়তন। লেখক পাঠকেরা শুনলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ইতিহাস অনুসন্ধান ও লেখালেখির কথা। এই অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালও বললেন, বঙ্গবন্ধু ও উত্তাল সময়ের রূপায়ণ তিনি কীভাবে করেছেন তার রচিত গ্রন্থে।

শুক্রবার (২৪মে ) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বাতিঘরে ঢাকা ইনিশিয়েটিভ এর উদ্যোগে ইতিহাসভিত্তিক সাহিত্যচর্চা বিষয়ে লেখক-পাঠক সংলাপে এভাবেই উঠে আসে দেশকে এগিয়ে নিতে ইতিহাসভিত্তিক সাহিত্য রচনার গুরুত্ব। অনুষ্ঠানে আসা তরুণ পাঠকেরাও তাদের প্রতিক্রিয়া জানান।

অনুষ্ঠানে মুহিত বলেন, ‘আমার লেখা প্রবন্ধ ৩৫টি। বহু চেষ্টা করেও জীবনে একটা কবিতা লিখতে পারিনি। এটি আমার ব্যর্থতা। প্রবন্ধ মানেই গবেষণা। সব বিষয়ে সবসময় তথ্যও পাওয়া যায় না। ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত একই স্পিডে ভয়ংকর ব্যস্ত জীবন পার করেছি। ব্যস্ততার মধ্যেও যে ৩৫টি প্রবন্ধ লিখেছি, তা কম নয়। কারণ, আমার প্রতিটি লেখাই অনেক কষ্ট করে লেখা, অনেক গবেষণার ফসল।’

মুহিত বলেন, ‘আমি লেখালেখি শুরু করি যখন আমার বয়স ১০ বছর। ১৯৪৪ সালে একটি রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আমার লেখালেখি শুরু। পরবর্তীতে, ব্যাপকভাবে লেখালেখি শুরু করি ১৯৪৬-৪৭ সালে। সিলেটে ১৯৩০ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত প্রথমে সাপ্তাহিক, পরে দৈনিক যুগভেরী পত্রিকার সম্পাদক আমাকে পত্রিকাটির অর্ধেক দিয়ে দেন লেখালেখির জন্য। আমি তখন পত্রিকাটির কিশোর মজলিশ নামের পাতায় লিখতাম। অর্ধেক পত্রিকায় লেখার জন্য কার কাছে যাবো, কী করবো? তার থেকে আমি নিজেই বিভিন্ন নামে নানা ধরনের গল্প লিখতাম, শুধু কবিতা ছাড়া।’

বিজ্ঞাপন

সাবেক অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৫১ সালে আমি ঢাকায় চলে আসি। তার আগ পর্যন্ত জীবনের ১৭টি বছর সিলেটেই কাটিয়েছি। ঢাকায় এসে পায়ে হেঁটে অনেক ঘুরেছি। মুড়ির টিন বাসে ঘুরেছি। তখন কয়েক আনা বাস ভাড়া ছিল। ১৯৫২ সালে সংবাদ পত্রিকায় ‘ইরানের তেল’ নামে একটি প্রবন্ধ লিখি। ইংরেজি অবজার্ভার পত্রিকাতেও লিখতাম।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা অনেক ভালো ছিল। দ্বিতীয়বর্ষে থাকতেই ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করি। মুসলিম হলের নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক হই। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদ ছিল। সেসময় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বার্ষিক ম্যাগাজিন বের করতাম। তাতে শিক্ষকরাও লেখা দিতেন।’

বিশেষ অতিথি কথা সাহিত্যিক, দৈনিক কালের কণ্ঠ এর নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি নিয়মিত লেখালেখি করি ১৯৯১ সাল থেকে। প্রতিদিনই লেখি। সবসময় চেয়েছি, কাজ করলে বড় কাজই করবো। আমার অধিকাংশ বই ইতিহাসভিত্তিক ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প-উপন্যাস।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা ইনিশিয়েটিভ এর সমন্বয়ক পার্থ সারথি দাস বলেন, ‘সামনের পথে এগিয়ে যেতে অতীতের কাছ থেকে উৎসাহ দরকার। কিন্তু আমরা আমাদের ইতিহাসভিত্তিক সাহিত্য রচনায় ফেলে আসা আন্দোলন, বীর যোদ্ধা কিংবা দেশনায়ক কিংবা উত্তাল দিনগুলো পাঠকের কাছে উপস্থাপন করতে কতটা সফল হয়েছি?’ এমন প্রশ্ন সামনে রেখেই ইতিহাসভিত্তিক সাহিত্যচর্চা বিষয়ে লেখক-পাঠক সংলাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ভবিয্যতে এ বিষয়ে আরো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকা-ইনিশিয়েটিভ এর।

সংলাপে আরও অংশ নেন সাহিত্যিক ও অধ্যাপক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ঔপন্যাসিক ইসমাইল হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুন উর রশিদ, কবি রোকন জহুর, লেখক আরিফ খন্দকার।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক আবদুল্লাহ নুহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এস এ টিভির সহকারী বার্তা সম্পাদক মুস্তফা মনওয়ার সুজন, দীপক ভৌমিক, প্রকাশক মিঠু কবীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে অয়ন প্রকাশনী।

সারাবাংলা/এসএ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন