মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ইং , ১১ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বাজেটে পোশাক খাতে প্রণোদনা ১ শতাংশ বাড়ছে

মে ২৪, ২০১৯ | ১১:২৭ অপরাহ্ণ

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে পোশাক শিল্পের জন্য নগদ প্রণোদনা এক শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। পোশাক খাতে রফতানিকে উৎসাহিত করতেই প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

বর্তমানে পোশাকখাতে প্রণোদনা শর্তানুযায়ী, দেশীয় উৎপাদিত কাপড় ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাক রফতানি করার পর দেশে যে আয় আসবে তার ওপর ৪ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়। তবে বিদেশ থেকে কাপড় এনে পোশাক তৈরি করে রফতানি করলে কোনো প্রণোদনা পান না উদ্যোক্তারা। আবার নতুন বাজারের জন্য একইহারে প্রণোদনা দেওয়া হয়।

এর বাইরে ইউরোপের বাজারে দেশীয় কাপড় ব্যবহারের শর্তে পোশাক বানিয়ে রফতানি করলে ২ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন বাজেটে শর্ত বহাল রেখে সবক্ষেত্রে এখন যা আছে তার চেয়ে ১ শতাংশ বাড়তি প্রণোদনা দেওয়া হবে।

তৈরি পোশাক রফতানিতে ১ শতাংশ প্রণোদনা বাড়ানো বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি একেবারেই সুসংবাদ নয়। আমরা ৫ শতাংশ আশা করি। পোশাক রফতানির সবক্ষেত্রে আমরা নগদ ৫ শতাংশ প্রণোদনা চাই। এটা না হলে আমরা মর্মাহত হবো। আর অন্য শিল্প থেকে কিন্তু তেমনভাবে রিটার্ন আসছে না। পোশাক শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। অন্তত আগামী দুই বছরের জন্য ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া দরকার।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ফয়সাল সামাদ বলেন, ‘এই প্রণোদনা অনেক কম হয়ে যায়। রফতানি যদি বাড়াতে হয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গে যদি প্রতিযোগিতা করতে হয় তাহলে কমপক্ষে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিতে হবে।’

সারাবাংলাকে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘পোশাক রফতানিতে আমরা নগদ ৫ শতাংশ প্রণোদনা চেয়েছিলাম। আমাদের নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সে অর্থে ১ শতাংশ প্রণোদনা বৃদ্ধি খুব একটা হেল্পফুল হবে না। তাও যেহেতু ১ শতাংশ বাড়িয়েছে, তাই সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমরা আরও আলোচনা করব।’

তবে পোশাক খাতের প্রণোদনা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এই খাতের ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী পোশাক পণ্য রফতানি করার পর আয় দেশে এলে তার ওপর প্রযোজ্য হারে প্রণোদনা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রত্যাবাসিত আয়ের ওপর প্রণোদনা দেওয়া হয় না। বস্ত্র মূল্য অর্থাৎ সুতা, ডায়িং ও নিটিংয়ের দামের ওপর প্রণোদনা দেওয়া হয়। এর ফলে ৪ শতাংশের পরিবর্তে নিট প্রণোদনা ৩ দশমিক ২ শতাংশ পাওয়া যায়।

পোশাক মালিকরা মনে করেন, আইনে সরাসরি রফতানি বা প্রত্যাবাসিত আয়ের ওপর প্রণোদনা দেওয়ার বিধান আছে। সেই নিয়ম অনুসরণ করে প্রণোদনা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রণোদনার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ ও হার বাড়ানোর দাবি জানিয়ে কোনোরকম শর্ত ছাড়াই ঢালাওভাবে ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেন তারা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়াতে ওই বাজারের জন্য নতুন করে সাড়ে ১৬ শতাংশ প্রণোদনার কথা বলেছেন পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা।

উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য আরও বেশি নগদ প্রণোদনা দিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে যাতে নগদ প্রণোদনা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে পোশাক খাত থেকে রফতানি আয়ের ৭৮ শতাংশ আসে। গত অর্থবছরে মোট রফতানি আয় হয় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বা ৩৭ বিলিয়ন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ তিন লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পোশাক খাত থেকে এসেছে দুই হাজার ৯০০ কোটি ডলার বা দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে রফতানি খাতে বছরে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেয় সরকার। এর ৮০ শতাংশই ভোগ করছে পোশাক খাত। এর বাইরে পাট ও পাটজাত পণ্যে প্রণোদনার জন্য পৃথক বরাদ্দ থাকে বাজেটে। পোশাকে বাড়তি যে হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে, তার জন্য আসন্ন বাজেটে আরও তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকছে।

জানা যায়, ক্যাশ ইনসেনটিভের পাশাপাশি নানা ধরনের কর প্রণোদনাও পাচ্ছে পোশাক খাত। বর্তমানে পোশাক খাতে উৎসে কর ০.২৫ শতাংশ। পোশাকের বিভিন্ন সেবায় ভ্যাট ছাড় ও অব্যাহতিও রয়েছে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন