মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ইং , ১১ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

প্রতিটি ম্যাচই আমার শেষ ম্যাচ: সাব্বির

মে ২৬, ২০১৯ | ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

কার্ডিফ থেকে: সাব্বির রহমান রোমানের ক্যারিয়ারটাই যেন উথ্থান পতনের। কখনো মাঠে বিতর্ক, কখনো মাঠের বাইরে। ফর্ম নিয়ে তাকে যতটা না মনোযোগি দেখা গেছে তার চেয়ে বেশি মনোযোগি দেখা গেছে বিতর্কিত সব কর্মকাণ্ডে। যা একাধিকবার তাকে দলের বাইরে ঠেলে দিয়েছে। তবুও বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা তার প্রতিভার ওপর আস্থা হারাননি। সবাই চেয়েছেন যে তার প্রতিভার ঝলক সে দেখায়।

সাব্বির সেটি দেখিয়েছেনও। ছয় মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসনের পর দলে ফিরেই নিউজিল্যান্ড সফরে দাপুটে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে অবশ্য সেই সুযোগ মেলেনি। সেটা টিম কম্বিনেশনের কারণে। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের খেলা চারটি ম্যাচের দুটিতে তিনি ব্যাটিংয়ে নেমেছেন শেষ সময়ে। দুটিতেই ছিলেন অপরাজিত। একটিতে নামতে হয়নি। আর ফাইনালে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ফিরে গেছেন রানের খাতা না খুলেই।

তবুও ভেঙে পরেননি এই টাইগার হিটম্যান। বরং দলের প্রয়োজনে বিশ্বকাপে দারুণ কিছু উপহার দিতে মুখিয়ে আছেন। আর ঠিক এ কারণেই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচকে শেষ ম্যাচ ধরে নিয়ে মাঠে নামতে চান এই লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৬ মে) কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিশ্বকাপের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে একথা জানালেন সাব্বির। তিনি জানান, ‘আমি সব সময় মনে করি এটাই আমার শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচ থেকেই পরের ম্যাচের জন্য জায়গা করে নিতে হবে। পরের ম্যাচ দিয়ে এর পরের ম্যাচে। তাই এখানেই সব কিছু দেয়ার চেষ্টা করি এবং চ্যালেঞ্জ নেই ভালো কিছু করে যেন পরের ম্যাচে আসতে পারি।’

সাব্বির আরও জানালেন, ‘সব সময় কঠিন প্রতিযোগিতায় আমি খেলে এসেছি। চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলেছি। এবারও আমার জন্য সহজ হবে না। চেষ্টা করব শতভাগ দেয়ার এবং সেরা ক্রিকেটটা দেয়ার। আমি যে ইনিংসগুলো খেলেছি দেশের বাইরে সেগুলোর ভিডিও দেখি সব সময়। নিউজিল্যান্ডে খেলা শেষ সিরিজটা আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করব এই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে।’

সবকিছু ঠিক থাকলে এই বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে সাব্বিরের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়। ২০১৫ সালে প্রথমটিতে যখন খেলেছেন তখন তিনি বয়সে একেবারেই তরুণ। চাইলেও আবেগের বশে দলের প্রয়োজনে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে এবারের সাব্বির বেশ পরিণত। যা তাকে নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাচ্ছে।

শুনুন সাব্বিরের মুখেই, ‘বিশ্বকাপ সব সময়ই উত্তেজনার। প্রথম বিশ্বকাপে অনেক সময় ইমোশন কাজ করেছে। কিন্তু এবার অনেক ম্যাচিউরিটির ব্যাপার আছে। এরপর চার বছর খেলেছি জাতীয় দলে। এতদিনে যা কিছু অর্জন করেছি নিজের ম্যাচিউরিটি দিয়ে হোক, সামর্থ্যের জায়গা থেকে হোক দলের জন্য ভালো খেলার চেষ্টা করব।’

সারাবাংলা/এমআরএফ/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন