শনিবার ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ২ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

আসন্ন বাজেটে ঘাটতি এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

মে ২৭, ২০১৯ | ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

হাসান আজাদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি থাকছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হচ্ছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা।

অন্যান্য বছর ঘাটতি বাজেট জিডিপি’র তিন থেকে চার শতাংশের মধ্যে রাখা হলেও এবার ৫ শতাংশ ধরে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। বাজেটের এই ঘাটতি পুরণে বৈদেশিক উৎস থেকে ৬০ হাজার ৫৮০ কোটি এবং আভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৮৪ হাজার ৮’শ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অর্থ মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ কথা জানান।

এখানে উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক  লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা।

ওই কর্মকর্তা জানান, অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এনে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়ে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কারণ সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে উপকারভোগীরা সবাই ধনী শ্রেণীর। যে কারণে সঞ্চয়পত্রে প্রকৃত সুবিধাভোগী অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য তেমন উপকারে আসছে না। এছাড়া আসন্ন বাজেটে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণের পরিমাণও কমিনে আনা হচ্ছে। ঋণ কমানোর কারণ হিসেবে এই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো। এরই মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান কমেছে। এর প্রভাব আগামী বাজেটে দেখা যাবে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস অর্থ সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, এর মধ্যে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে নেওয়া হবে ৫৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। এ হিসেবে চলতি অর্থ বছরের চাইতে আগামী অর্থবছরে ১২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা বেশি ব্যাংক ঋণ নেওয়া হবে। তবে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার ব্যাংক থেকে মোট লক্ষ্যমাত্রার ১৪ শতাংশ ঋণ নিয়েছে। টাকার অংকে এর পরিমাণ ৫ হাজহার ৯৮৮ কোটি টাকা। মূলত ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট ও ঋণ প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতেই ব্যাংক থেকে এত কম ঋণ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎসের অপরখাত সঞ্চয়পত্র থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে এই খাতে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ১২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৬০২ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, অর্থবছর শেষ হতে হতে এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে ঘাটতি বাজেট পূরণের জন্য চলতি বাজেট থেকে ৬ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা কম ঋণ ও অনুদান নেওয়া হবে। পরিমাণ চলতি বছরের তুলনায় খুব বেশি বাড়ানো হয়নি।

কারণ বাংলাদেশ স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে আগের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। যে কারণে ঋণ ও অনুদান দেয়ার পরিমাণও কমছে। পাশাপাশি বাংলাদেশও ঋণনির্ভরতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। এজন্য আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যাবে। চলতি বাজেটে এ খাত থেকে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। যা আগামী বাজেটে ৬ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা কম ঋণ ও অনুদান গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অপর একটি সূত্র জানায়, সঞ্চয়পত্র খাতের সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুফল পৌঁছে দিতে এ খাত কিছুটা সংকুচিত করা হচ্ছে।

সারাবাংলা/এইচএ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন