বিজ্ঞাপন

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন, অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

May 27, 2019 | 12:33 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সোনাগাজী থানার প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলায় প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, প্রতিবেদনে সেসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৭ মে) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন পিবিআইয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা। ট্রাইব্যুনালের পেশকার শমীম আহমেদ প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।

শামীম আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ১২৩ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলার বাদী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন মামলার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন। প্রতিবেদন ও গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়ে দুপুরে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

শামীম আহমেদ জানান, ১২৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনের মধ্যে মূল প্রতিবেদন ১৩ পৃষ্ঠার। বাকি ১১০ পৃষ্ঠা রয়েছে আনুষাঙ্গিক বর্ণনা।

সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি অভিযোগ দিতে আসার পর তাকে আপত্তিকর প্রশ্ন করা ও ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থানার প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আবেদন গ্রহণ করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসলাম জগলুল হোসেন মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে থেকে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। সেখানে তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা করতে থাকেন। ওই জেরার সময় ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তী সময়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে তা ছড়িয়ে দেন। ওই সময় মোয়াজ্জেম হোসেন অত্যন্ত অপমানজনক এবং আপত্তিকর ভাষায় প্রশ্ন করেন নুসরাতকে। একপর্যায়ে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ওই ভিকটিমের শ্লীলতাহানিও করে। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন যা করেছেন, তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

ওই ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারা মামলাটি দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন জানান।

এর আগে, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ রুমে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে থেকেই নুসরাতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকেন সিরাজ। তবে মামলা তুলে না নিলে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের সহযোগীরা। এপ্রিলের ১০ তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নুসরাতের।

সারাবাংলা/এআই/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন