রবিবার ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়কদের একাদশ

মে ২৯, ২০১৯ | ৭:৩৮ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপ ডেস্ক

১৯৭৫ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। এবার ইংল্যান্ডের মাটিতে বসতে যাচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। আগের ১১ আসরের ফাইনালে ১১ ভিন্ন ক্রিকেটার ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন। এই ১১ খেলোয়াড়ের ছয় জন ফাইনালের সেরা হয়েছিলেন ব্যাটিং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। ফাইনালের ম্যাচ সেরা দুজন ছিলেন বোলার এবং বাকি তিন জন ছিলেন অলরাউন্ডার।

ফাইনালের নায়কদের নিয়েই তৈরি করা যাবে বিশ্বসেরা একটি একাদশ। যেই একাদশ ব্যাটসম্যান, বোলার, অলরাউন্ডারদের নিয়ে একটি ব্যালান্সড দলই হয়ে যায়।

১৯৭৫ বিশ্বকাপ: সেটি ছিল ওয়ানডের প্রথম বিশ্বকাপ। সেই আসরের ফাইনালে ম্যাচ সেরা হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড। শিরোপা জিততে ফাইনাল ম্যাচে করেছিলেন ১০২ রান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৮৭ ম্যাচ খেলে ৩৯.৫৪ গড়ে যিনি করেছিলেন ১৯৭৭ রান। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি খেলেই ফাইনালের ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন লয়েড।

১৯৭৯ বিশ্বকাপ: দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও শিরোপা জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলকে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতাতে ব্যাট হাতে স্যার ভিভ রিচার্ডস করেছিলেন অপরাজিত ১৩৮ রান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিনি ১৮৭ ম্যাচে করেছিলেন ৬৭২১ রান। যেখানে ১১টি সেঞ্চুরি ছিল, ছিল ১৮৯ রানের অপরাজিত ক্যারিয়ার সেরা একটি ইনিংস।

বিজ্ঞাপন

১৯৮৩ বিশ্বকাপ: তৃতীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সেই আসরের ফাইনালে অলরাউন্ড পারফর্ম করেছিলেন ভারতের মহিন্দর অমরনাথ। বল হাতে ১২ রানের বিনিময়ে তুলে নেন তিনটি উইকেট। আর ব্যাট হাতে করেছিলেন ২৬ রান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিনি ৮৫ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ১৯২৪ রান, ব্যাটিং গড় ৩০.৫৩। বল হাতে নিয়েছেন ৪৬ উইকেট।

১৯৮৭ বিশ্বকাপ: এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। সেই আসরের ফাইনালে ম্যাচ সেরা হন ডেভিড বুন। ৭৫ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলে ফাইনালের সেরা হন তিনি। এই অস্ট্রেলিয়ান ওয়ানডেতে পাঁচটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৩৭.০৪ গড়ে ১৮১ ম্যাচে করেছিলেন ৫৯৬৪ রান।

১৯৯২ বিশ্বকাপ: ব্যাট হাতে ৩৩ রান আর বল হাতে ৪৯ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট, এমনটিই ছিল ওয়াসিম আকরামের ফাইনাল ম্যাচের পারফরম্যান্স। দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে যা রেখেছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ফাইনালে অলরাউন্ডারের ভূমিকা রাখলেও গ্রেট পেসারদের তালিকায় অন্যতম তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৩৫৬ ম্যাচ। যেখানে ক্যারিয়ার শেষের আগে নামের পাশে জমিয়েছেন ৫০২ উইকেট।

১৯৯৬ বিশ্বকাপ: এই আসরের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। ফাইনালে ব্যাটে-বলে দারুণ অলরাউন্ডার পারফর্ম করেছিলেন লঙ্কান লিজেন্ড অরবিন্দ ডি সিলভা। ব্যাট হাতে অপরাজিত ১০৭ রান করার পর বল হাতে নিয়েছিলেন ৪২ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ৩০৮ ম্যাচ। যেখানে ব্যাট হাতে ৩৪.৯০ গড়ে ৯২৮৪ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১০৬ উইকেট।

১৯৯৯ বিশ্বকাপ: আইসিসির মেগা এই ইভেন্টে আবারো চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। দেশকে দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতাতে ফাইনাল ম্যাচে বল হাতে জ্বলে উঠেছিলেন লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন। ৩৩ রানের বিনিময়ে চারটি উইকেট নিয়ে ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছিলেন সর্বকালের সেরা এই স্পিনার। ওয়ানডে ক্যারিয়ার শেষের আগে ওয়ার্ন খেলেছেন ১৯৪ ম্যাচ, যেখানে তার নামের পাশে জমেছে ২৯৩ উইকেট।

২০০৩ বিশ্বকাপ: ফাইনালে ১৪০ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং। দলকে তৃতীয়বার আর টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতানো ইনিংস খেলে ফাইনালের ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে পন্টিং খেলেছেন ৩৭৫ ম্যাচ, ব্যাট হাতে করেছিলেন ৪২.০৩ গড়ে ১৩ হাজার ৭০৪ রান। তার নামের পাশে আছে ৩০টি সেঞ্চুরি আর ৮২টি ফিফটি।

২০০৭ বিশ্বকাপ: এবারো চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। টানা তৃতীয়বার আর সবমিলিয়ে চতুর্থবার অজিদের শিরোপা জেতাতে ফাইনালে ব্যাটিংয়ে নেমে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট করেছিলেন ইনিংস সর্বোচ্চ ১৪৯ রান। গিলি ওয়ানডে ছাড়ার আগে খেলেছেন ২৮৭ ম্যাচ, যেখানে তার ব্যাটিং গড় ৩৫.৮৯। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৯৬১৯ রান করতে সেঞ্চুরি করেছেন ১৬টি, ফিফটি আছে ৫৫টি।

২০১১ বিশ্বকাপ: ঘরের মাঠে আয়োজিত ফাইনালে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন ভারতের তখনকার দলপতি মহেন্দ্র সিং ধোনি। দেশকে দ্বিতীয়বার শিরোপা পাইয়ে দিতে ধোনি ফাইনাল ম্যাচে ৯১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এবারো ধোনি খেলবেন টিম ইন্ডিয়ার জার্সি গায়ে। ৩৪১ ওয়ানডেতে তিনি ১০টি সেঞ্চুরি, ৭১টি ফিফটিতে ৫০.৭২ গড়ে করেছেন ১০৫০০ রান।

২০১৫ বিশ্বকাপ: আরও একবার শিরোপা উঠে অস্ট্রেলিয়ার হাতে। ফাইনালে দারুণ বোলিং করেন অলরাউন্ডার জেমস ফকনার। ৩৬ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ফাইনালের ম্যাচ সেরা। অস্ট্রেলিয়া পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে। ৬৯ ওয়ানডে খেলে যিনি করেছেন ১০৩২ রান, ব্যাটিং গড় ৩৪.৪০। আর বল হাতে ওয়ানডেতে নিয়েছেন ৯৬ উইকেট।

১১ ফাইনালের ম্যাচ সেরাদের নিয়ে একটা একাদশ সাজানোর কথা বলা হয়েছিল। যে দলটি বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান, বোলার আর অলরাউন্ডারের চাহিদা পূরণ করে। ব্যালান্সড একটি দলও তাতে গড়া হয়ে যায়।

১১ ফাইনালের ম্যাচ সেরাদের নিয়ে সাজানো একাদশটি হয়তো এমন হবে-
ক্লাইভ লয়েড (ব্যাটসম্যান), অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (ব্যাটসম্যান), ভিভ রিচার্ডস (ব্যাটসম্যান), মহিন্দর অমরনাথ (মিডিয়াম পেস বোলিং অলরাউন্ডার), ডেভিড বুন (ব্যাটসম্যান), অরবিন্দ ডি সিলভা (অফব্রেক অলরাউন্ডার), রিকি পন্টিং (ব্যাটসম্যান), মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান), জেমস ফকনার (পেস বোলিং অলরাউন্ডার), ওয়াসিম আকরাম (পেসার) এবং শেন ওয়ার্ন (স্পিনার)।

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন