বুধবার ২৬ জুন, ২০১৯ ইং , ১২ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

নতুন গয়নায় ঈদ

জুন ১, ২০১৯ | ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

রাজনীন ফারজানা

সাজগোজের অন্যতম অনুষঙ্গ গয়না। নানারকম অলঙ্কারে মানুষের সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ। আজকাল পুরুষরাও নানারকম গয়না পরলেও, গয়নার সাথে নারীর প্রেম যেন সেই সৃষ্টির শুরু থেকেই। ঈদে নারীদের তাই নতুন পোশাকের সাথে চাই নতুন গয়নাও।

সময়ের সাথে সাথে বদলে যায় সাজগোজের ধারা। সেই সাথে বদলায় গয়নার প্যাটার্ন, ডিজাইন ও গয়না তৈরির উপাদান। বেশ কয়েকবছর ধরেই গয়নার ডিজাইনে ঐতিহ্যের ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে। সোনা, রুপার পাশাপাশি গয়না তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে নানারকম ধাতু, পাথর, কাঁচ, কাঠ, পাট, মাটি ইত্যাদি।

বাজার ঘুরে বা গহনার ডিজাইনারদের সাথে কথা বলেও জানা গেল কিছুটা সাবেকী ধাঁচের গয়নাই পছন্দ করছেন মানুষ আজকাল। গয়না বিক্রির অনলাইন প্রতিষ্ঠান সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরির প্রতিষ্ঠাতা ও ডিজাইনার লোরা ও গ্লুড টুগেদারের প্রতিষ্ঠাতা মেহনাজ আহমেদ আদিবা দুজনেই বলেন, এখনকার মেয়েরা কিছুটা ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনের সাথে আধুনিকতার মিশেলে বানানো গয়না পছন্দ করছেন।  সেটা কাট, ডিজাইন, প্যাটার্ন, রঙ সবক্ষেত্রেই।

ঈদের গয়না

বিজ্ঞাপন

গলার অলঙ্কারের মধ্যে কয়েকবছর ধরেই চোকার জনপ্রিয়। তাছাড়া সাম্প্রতিক ফ্যাশনে গলার মালায় বা হারে লেয়ারিংটাও চলছে বেশ। লেয়ারিং চলছে চিকন লকেটযুক্ত চেইন, হার, ভারী মালা সবটাতেই। বেশ কয়েক বছর ধরেই সলিড সোনা বা রূপার চাইতে কিছুটা মেটালিক ধাঁচের গয়নাই চলছে বেশি। এখন বাজারে সোনা বা রূপার সাথে পাথরের পাশাপাশি রঙিন মিনাকারীও চলছে।

কানের দুলের ক্ষেত্রে লেইস, রঙিন থ্রেডের কানের দুল বেশ জনপ্রিয়। কানে একের অধিক স্টাড (ছোট্ট টপ) এখন দারুণ জনপ্রিয়। নগরীর গয়নার দোকান ঘুরে দেখা গেল পুরো কানজুড়ে পরা যায় এমন নানা ডিজাইনের কানেরদুলের সেট পাওয়া যায়। শাড়ি বা আনারকলি ধাঁচের সালোয়ার কামিজের সাথে বিভিন্ন ডিজাইনের বড় ঝুমকা পছন্দ করছেন অনেকেই। সাবেকী ডিজাইনের সাথে আধুনকতার মিশেলে কিছুটা ভিন্ন ডিজাইনের কানের দুলও এখন দারুণ জনপ্রিয়।

ঈদের গয়না

এখনকার মেয়েদের অন্যতম পছন্দের গয়না হল নথ। ছোট বা টানা দুই রকম নথই সমান জনপ্রিয়। ওভারসাইজড, ফুল, পাতা বা এথনিক ডিজাইনের নথ চলছে বেশি।

সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরির লোরা খান বলেন, তিনি যখন গয়না বানানো শুরু করেছিলেন তখন ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনই বেশি চলত যেহেতু সেগুলো বাজারে তেমন একটা পাওয়া যেত না। এখনকার মেয়েরা ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনের সাথে আধুনিকতার মিশেল পছন্দ করছেন।

এখন কিছটা ওভারসাইজড গয়না, বিশেষ ডিজাইনের শাখা, পলা ইত্যাদি খুব জনপ্রিয়। গোপালফুল বালা, নারকেলফুল বালা অর্থাৎ দাদী-নানীদের সময়কার ডিজাইন ফিরে এসেছে আবার।

ঈদের গয়না

একইসাথে চলছে কিছুটা ফাংকি ও ওয়েস্টার্নাইজড গয়না। তবে গয়না পরার চলে খুব বেশি পার্থক্য আসেনি। কানে ওভারসাইজড দুল পরলে গলায় ঠিকই হালকা কিছু বেছে নিচ্ছেন। চেইনের সাথে লকেট না চললেও হার চলছে, চলছে চিক ও সীতা হার।

লোরা খান বলেন আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড আসতে কিছুটা সময় লাগে। তবে যে যত দ্রুত আনেন তত বেশি চলে।

বিয়ের ক্ষেত্রে কনের শাড়ি অনুযায়ী গয়না ডিজাইন করছেন তিনি। বিয়ের গয়নার ক্ষেত্রে এথনিক ডিজাইনের প্রভাব বেশি। বিয়ের ক্ষেত্রে সোনার চাইতে রূপার গহনা বেশি চলছে। বিয়ের যেকোন অনুষ্ঠানে একদিন রূপা পরছেন কনেরা। পায়ের গয়নার নুপুর বা মল ভারী ও চিকন ডিজাইনের দুধরনেরই চলছে।

বাজারে দেখা গেল ফুলেল নকশার নুপুর পাওয়া যাচ্ছে।

ঈদের গয়না

গ্লুড টুগেদারের মেহনাজ আহমেদ আদিবা বলেন, এখন সবাই কিছুটা ইউনিক নকশা পরতে চান। এই কারণে ডিজাইনারদের দিয়ে গয়না বানানোর ঝোঁক বেড়েছে। ধাতুর মধ্যে রূপাই এখন মেয়েদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। এমনকি মেটালের অলংকারেও রূপালি, এন্টিক বা কিছুটা টোনড ডাউন রূপালি রঙ পছন্দ করছেন অনেকেই। নকশার ক্ষেত্রে সাধারণ হলেও আভিজাত্য পছন্দ করছেন নারীরা।

তিনি বলেন, দাদী-নানীদের গয়না অর্থাৎ ৬০ থেকে ৭০ দশকের আমলের গয়নার প্রতি ঝোঁক বেড়েছে তরুণীদের। সেই সূত্রেই মিনাকারী গয়না এখন দারুণ জনপ্রিয়। এধরণের গয়না পাওয়া যাচ্ছে আড়ংসহ নগরীর নানা গয়নার মার্কেটে।

নাকে শুধুমাত্র একটি নথ বা চেইনসহ নথ দুই চলছে বলে জানালেন তিনি। তবে চেইনসহ নথ মূলত অনুষ্ঠান উপলক্ষেই পরা হয় বেশি।

ঈদের গয়না

কাঠ, কাঁচ, তামা, মাটি, পাট ইত্যাদি দিয়ে বানানো গয়নায় নকশা ও রঙের বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আকারে কিছুটা বড় আংটির পাশাপাশি একসঙ্গে কয়েক আঙুলে পরা যায় এমন আংটিও চলছে এখন।

রোদ হোক কি বৃষ্টি, ঈদ উৎসবে সাজগোজে চাই না কোন ঘাটতি। তাই নতুন পোশাকের সাথে নতুন গয়নায় জমে উঠুক ঈদ।

ছবি- সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি ও গ্লুড টুগেদার

সারাবাংলা/আরএফ/

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন