বিজ্ঞাপন

অমিত খুন: কারা কর্তৃপক্ষ বলছে মারামারি, প্রশাসনের ভিন্ন বক্তব্য

May 30, 2019 | 4:13 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে কারাগারের ভেতরে আহত হয়ে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরীর (৩২) মৃত্যুর ঘটনায় দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে কারা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, সেলের ভেতরে কয়েদিদের মধ্যে মারামারিতে অমিত নিহত হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কারাগারে পরিদর্শন শেষে বলেছেন—ঘুমন্ত অবস্থায় আরেক বন্দি মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে অমিতকে হত্যা করেছে।

বিজ্ঞাপন

অমিত মুহুরী নিহতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সকালে নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। মামলায় ‘কারাগারের সেলে কয়েদিদের মধ্যে মারামারির’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অমিতকে গুরুতর জখম অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

বিজ্ঞাপন

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন সারাবাংলাকে বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অমিত যে কক্ষে আহত হয়েছেন অর্থাৎ ৩২ নম্বর সেলের ছয় নম্বর কক্ষের আরেক কয়েদি রিপন নাথকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী জেলার নাশির আহমেদ উল্লেখ করেছেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩২ নম্বর সেলের কক্ষে অমিত মুহুরীর সঙ্গে অপর দুই কয়েদী রিপন নাথ ও বেলাল থাকতেন। রাত ১০টার দিকে ওই কক্ষে কথাকাটাকাটির জেরে অমিত মুহুরীকে ইটের টুকরো দিয়ে মাথায় আঘাত করে রিপন। ঘটনা দেখে কারারক্ষীরা দেখলে গুরুতর আহত অমিতকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতাল এবং পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

কারাগারের সেলে ইটের টুকরা কিভাবে গেল, সেটা তদন্ত করা হচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জেলার নাশির আহমেদ।

সূত্রমতে, মামলার আসামি রিপন নাথ (২৭) সীতাকুণ্ড উপজেলার মৃত নারায়ন চন্দ্র নাথের ছেলে। নগরীর পাহাড়তলী থানার সাগরিকা এলাকায় অর্গানিক জিন্স নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। অশোভন আচরণের জন্য বরখাস্ত হওয়ার পর গত ৯ এপ্রিল ওই কারখানায় ছুরি নিয়ে প্রবেশ করে তিনি গ্রেফতার হন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মাশহুদুল কবীরকে প্রধান করে এক সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য এক কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।

বৃস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মাশহুদুল কবীর ও নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদী হাসান।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শন শেষে মাশহুদুল কবীর বলেন, ৩২ নম্বর সেলের ছয় নম্বর কক্ষে তিন বন্দি অমিত, রিপন ও বেলাল পাশাপাশি শুয়েছিলেন। অমিত ও রিপন ছিল পাশাপাশি। রাতে বেলাল হঠাৎ জেগে উঠে দেখতে পায়, রিপন অমিতকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করছে। এর আগে তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া বা মারামারি হয়েছে কি-না সেটা বেলাল জানে না বলে দাবি করেছে।

অমিত ও রিপনের মধ্যে মারামারির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের যে ভাষ্য সেটা তদন্ত করে দেখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে উপপুলিশ কমিশনার মেহেদী হাসান বলেছেন, অমিত মুহুরীকে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাঙা ইট দিয়ে রিপন নাথ মাথায় আঘাত করেছে। রিপনের সঙ্গে আর কেউ ছিল কি-না সেটা তদন্তে আসবে।

চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকাননে বন্ধুকে নৃশংসভাবে খুনের পর ড্রামে ভরে এসিড দিয়ে লাশ গলিয়ে দিঘীতে ফেলার মামলায় ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর অমিত মুহুরীকে (৩০) গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

‘ভয়ঙ্কর’ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ২০১৩ সালে সিআরবিতে রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে জোড়া খুনের মামলার আসামি অমিত মুহুরীকে ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর নগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। পরে অমিত জামিনে বেরিয়ে আসে।

২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন নগরীর ডিসি হিলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় অমিত মুহুরী ও তার অনুসারী সন্ত্রাসীরা।

এরপর ২৮ এপ্রিল রাতে ঝাউতলায় স্থানীয় কিশোর-তরুণদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর এক পর্যায়ে তারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। সেখানে অমিত মুহুরীর অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার চিত্র ভিডিও ফুটেজে পেয়ে ২৫ মে তাকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। কিন্তু ২৬ জুন অমিত জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর বন্ধুকে ‘খুন করে’ জেলে যায়।

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন