বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০১৯ ইং , ৬ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

সাড়ে দুই হাত

মে ৩০, ২০১৯ | ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

সুমন্ত আসলাম

পড়ে গেলেন তিনি।
এবং উঠে দাঁড়ালেন। সঙ্গে সঙ্গেই।
ব্যাপারটা এই প্রথম না। আরো হয়েছে।
পড়ে যান। উঠে দাঁড়ান। আশপাশে তাকান। দেখেন-হাসছে সবাই। হাসেন তিনিও। ম্লান হাসি। ক্ষুদ্র হাসি। সেটা ঠোঁট ছাড়িয়ে যায় না। থেমে যায় তার আগেই।

প্রথমবার তিনি যখন পড়ে যান, তখন এখানে ছিলেন না।  রেস্টুরেন্টে। গেটে। সেবারও উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু কেউ হাসেনি।
শক্ত মুখ। শক্ত তাদের চোখ।
ক্ষমা পেয়েছিলেন প্রথমবার। দ্বিতীয়বার পাননি।
চাকরি হারিয়েছিলেন।
মাসের তখন নয়দিন। বেতন পাননি আগের মাসেরও। ফিরতে হয়েছিল খালি হাতেই। বউ বলেছিল, শান্ত হন। তিনি বলেছিলেন, সংসার চলবে কীভাবে! খামু কী!

তার দ্বিতীয় চাকরি হয়েছিল দ্বিতীয় মাসেই। ওই গেটেই।
বুথে। ব্যাংকের।
সারাক্ষণ মানুষ আসে। মানুষ যায়। খুলে দিতে হয় দরজা। শীতল কাচের দরজা।
অন্য কিছু করার ফুসরত নাই।
সময় নাই।

মাঝে মাঝে একটু থামে। কমে যায় মানুষ। দুপুরবেলা। ঝা ঝা দুপুর। ঘরে থাকে সবাই। এসিতে। শো শো করা ফ্যানেতে।
ঝিমায়।
চা খায়।
কেউ কেউ বউ নিয়ে গল্প করে। অন্যের বউ কিংবা নিজের বউ।
আলতো করে ভেতরে চলে যান তিনি এ সময়।
মেশিন মোছেন।
ফ্লোরে পড়ে থাকা কাগজ কুড়ান।
রেখে দেন বিনে।
এসি চলছে। ঠাণ্ডা বাতাস। বাইরে লু হাওয়া। বের হতে ইচ্ছে করে না আর। তোমার খোলা হাওয়ায়, মন ভিজে যায়…।

বিজ্ঞাপন

একটা নোট পড়েছিল একদিন। মেঝেতে। এক হাজার টাকার। মানুষজন নেই। আশপাশেও কেউ নেই। হাতে নিলেন তিনি নোটটা। দু সেকেন্ড। ইতি উতি করলেন। না, কেউ দেখছে না। টুক করে ওটা ঢুকিয়ে ফেললেন। খাঁকি প্যান্টে, ডান পকেটে।
একটা সিসি ক্যামেরা আছে। রুমে। কোনায়। তিনি কাউকে দেখলেন না। কিন্তু তাকে দেখলেন কেউ।
আবার চাকরিহারা।
জিদ চেপে যায় তার। না, আর না। মরে যাবেন, কিন্তু চাকরি আর না। সংসারে টাকা ছিল হাজার দুয়েক। তা নিয়ে চলে যান পুরান ঢাকায়, সোজা বাদামতলীতে।
ফল কেনেন।
বিভিন্ন ফল।
ঝুড়িতে রাখেন।
ব্রিজে বসেন। বুড়িগঙ্গার কোনায়।
ফল বিক্রি হয়।
লাভ হয়।
সংসার চলে। কোনোরকমে।
তবুও শান্তি।
হঠাৎ উপদ্রব।

রাতে ইঁদুর আর তেলাপোকার।
দিনে মাস্তান আর পুলিশের।
বিশ বিশ চল্লিশ টাকা। জায়গাটার ভাড়া।
অথচ এটা পুলিশেরও না।
মাস্তানের বাপেরও না।
তবুও।

মাঝে মাঝে ফলও নিয়ে যায়। কেউ কেউ।
কখনো আপেল।
কখনো কমলা।
কখনো নাসপাতি।
লাভ থাকে না তখন আর। লোকসান। সংসার চলে না। কোনো কোনো দিন উপোস, কোনো কোনো দিন আধ পেট।
ছোট মেয়েটার অসুখ একদিন। মন ভালো নেই। মেজাজও ঠিক নেই। সামনের ঝুড়ি থেকে একটা আপেল হাতে নেয় কেউ। তারপর হনহন তার হাঁটা। নির্ভার পদযাত্রা।
হাঁক ছাড়েন তিনি-এই!
আপেল হাতেরজন থামে না।
এই-আবার হাঁক ছাড়েন।
আপেলে কামড় দেন লোকটা। কিন্তু ফিরে তাকায় না। কুৎসিত একটা গালি দিয়ে ওঠেন তিনি হঠাৎ।
ঘুরে দাঁড়ায় সদ্য আপেল দখলদার।
পা ফাঁক করে হেঁটে আসে।
সামনে এসে দাঁড়ায় তার।
প্রচন্ড একটা লাথি তারপর।

দু ঠোঁট ফেটে গিয়েছিল তার। একসঙ্গে। রক্তের নোনতা স্বাদে চুপচাপ বসে ছিলেন তিনি অনেকক্ষণ। কিচ্ছু বলেননি। কেবল আশপাশের মানুষগুলোকে দেখছিলেন। বোবা প্রাণীর মতো যারা। সয়ে যান সব। প্রতিবাদ জানেন না। অমোঘ নিয়তির মতো মেনে নেন সব কিছু।
বেশ রাতে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি সেদিন। অপেক্ষায় থাকা বউ। প্রশ্ন করেন। অনেক কিছু। উত্তর দেন না। কোনো কিছুরই না।
রাতে মুখেও দেন না কোনো কিছু।
মাঝরাতে উঠে বসেন তিনি বিছানায়।
চৌকি থেকে নামেন।
দরজার খিড়কি খোলেন নীরবে।
বাইরে আসেন। উঠোনে।
তেঁতুল গাছের চিরল পাতা। তারই ফাঁকে চাঁদের ছটা। চিরল পাতা ঝিকিমিকি। তার ঠিক বামে যে নারকেল গাছ, তার ডগাতে তারার মেলা। একটা পাখি ডেকে ওঠে সেখান থেকে।
নিশুতি বাতাস। তার সঙ্গে অজানা এক সুবাস।

পাশের বাড়ির কড়ই গাছে যে পেঁচা দম্পতি সংসার বেধেছে, বসে আছে তারাও। যথারীতি।
লম্বা ডালে।
মৌন।
ধ্যানে।
একটা ছুঁচো দৌড়ে যায় পা ঘেঁষে। দূরের এক মন্দিরে কীর্তনের সুর। মাদুলির টুংটাংয়ে চোখ বুজে আসে।
আবেশে।
চাঁদ ঢেকে যায় মেঘে। হঠাৎ। গাঢ় অন্ধকার। বাচ্চা কাঁদছে পাশের বাসার। একটু পরপর। ক্লান্ত মা ঘুমিয়ে আছেন, সারাদিনের ক্লান্তিতে। কোনো কিছু ভালো লাগে না তার।
আজ জ্যোছনা রাতে সবাই গেছে বনে…।

তিন মাস তের দিন। এক সকালে তিনি দেখলেন-চালান নেই। ঘরে কোনো খাবারও নেই। ছোট মেয়েটা চিৎকার দিয়ে ওঠে-খাওন দে।
চিৎকারটা বুকে লাগে তার।
মাথায়ও।
আরেকটা চাকরি নেন তিনি। বাসার গেটে।
নয়তলা বিল্ডিংয়ে ষোলটা পরিবার।
একেক পরিবার, একেক কিসিমের।
মানুষগুলো নানান কায়দার।
একজনের লবণ এনে দাও সামনের দোকান থেকে। কারো মোবাইলে ফ্লেক্সি। কারো এক হালি ডিম। কারো সাবান। কারো ঔষধ। কারো কারো লন্ড্রিতে কাপড়।
কারো কারো জন্য গোপন জিনিসও।
কাজ আছে হরেকরকম।
সীমানাহীন।
সময়হীন।
পানি ছাড়ো।
ছাদের গেট খোলো।
ইন্টারকম রিসিভ করো।
গ্যারেজে রাখা গাড়ি মুছে দাও।
গেস্টদের সঙ্গে কথা বলো।
কোনো গেস্টের লিফট ভীতি। লিফটে ওঠো তার সঙ্গে।
কী যে ব্যস্ততা! কত যে ঝামেলা!

একদিন। কোল্ড ড্রিংঙ্কস আনতে দিয়েছেন তিনতলার ম্যাডাম। এ বিল্ডিংয়ের সভাপতির বউ। আলগা ছিল গেট। গ্যারেজ রাখা গাড়ি। গ্লাস চুরি হয়ে যায় তার একটার।
কর্তব্যে অবহেলা। বিল্ডিং সোসাইটির জরুরী সভা। জরুরী সিদ্ধান্ত।
চাকরি চলে যায় তার।
সভাপতির বউয়ের তখন কোল্ড ড্রিংঙ্কসে ঠোঁট। চুমকে চুমকে চোখ বুঁজে আসে মহিলার।
তারপর তিনি আর কোনো কাজ করেন না।
হাঁটেন।
মানুষ দেখেন।
চায়ের দোকানে বসেন-অন্যের চা খাওয়া দেখেন।
কখনো গাছেয় ছায়ায়, কখনো খোলা মাঠে, কখনো নদীর ধারে। দিন কেটে যায়, হেলায় ফেলায়…।
ইদানীং বাড়ি ফিরতে রাত হয় তার। কারণ নেই।
এমনি।
অন্ধকার বসে থাকেন অনেকক্ষণ। আকাশ দেখেন। চাঁদ দেখেন। তারা দেখেন। কোন তারাটা সবচেয়ে উজ্জল, তাও খোঁজার চেষ্টা করেন।
মাঝরাত।
সুখী মানুষেরা ঘুমিয়ে থাকে।
নির্ভার-নিশ্চিন্তে।
দীর্ঘ স্বপ্ন দেখে।
এপাশ পাশ করে।
ভালোবাসে।

ঠাণ্ডা একটা বাতাস এসে লাগে গায়ে। বৃষ্টি হবে কী? না, হয়েছে! কোথাও ডানা ঝাপটায় এক রাত জাগা পাখি। মানুষটা ভাবেন-পাখিদের কী দুঃখ আছে? দুঃখ পেলে ওরা কাঁদে? রং কী ওদের চোখের জলের?

নতজানু হতে শিখেছেন তিনি জন্ম থেকেই। স্রষ্টার ইচ্ছেতেই। তিনি এতদিনে এও জেনে গেছেন-এই নতজানু হয়েই কেটে যাবে তার বাকীটা কাল। যোগ-বিয়োগের হিসেব মেলানোর চেষ্টা করেছেন অনেকবার। ফলাফল সেই শূন্যই।
ধীরে ধীরে আপোস।
জীবনের কাছে।
সময়ের কাছে।
ক্ষুধার কাছে।
বংশধর দুটো মেয়ের কাছে।


গত কয়দিন ঘুম ছিল না চোখে। এক ফোঁটাও। ভুল হলো, ছিল-ঠাঁই হয়নি তাদের। সকাল নয়টা থেকে রাত দুটো। কখনো ভোরের আজান। ধানমণ্ডি টু শেখের গাঁও। মাঝখানে বসিলা ব্রিজ। হেঁটে হেঁটে যাওয়া, হেঁটে হেঁটেই আসা। ঘুম আর স্থির হয় না বুঁজতে আসা পাতাতে।
অনেক কষ্টে শেষ পর্যন্ত এই মার্কেটে। ওই গেটেই। দ্বিতীয় গেটে।
দুলে ওঠেন তিনি। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই। তবে পড়ে যাননি।
সুখী মানুষেরা এখানে আসেন।
হাসি-হুল্লোড়ে হেঁটে যান।
শপিং করেন।
চকচকে প্যাকেটে বন্দি পুরো দু হাত।
তাদের গায়ে মধুর সুবাস।
মুখে হাসি।
চোখে হাসি।
ঠোঁটে হাসি।

সমস্ত শরীরই হাসে তাদের। কাছে এলেই গেট খুলে দেন। উপচে পড়া কারো হাতের প্যাকেট পৌঁছে দেন সামনে রাখা গাড়িতে।
কখনো কখনো বিমূর্ত চেয়ে থাকা।
মানুষের মুখ এতো চকচকে! কীভাবে!
সারাক্ষণ কীভাবে হাসি ভেসে থাকে তাদের চোখে!
এরা কি ঘুমায়?
এদের বালিশ কেমন? ঘরের ভেতরটা কত সুন্দর!
কখনো কি ধুলো থাকে এদের মেঝেতে?
এরা হয়তো ঘামে না।
এদের বাড়ির ভেতর ঠাণ্ডা।
এদের গাড়ির ভেতর ঠাণ্ডা।
এদের অফিসের ভেতর ঠাণ্ডা।

এরা মাছ-তারকারি-চাল কেনেন যেখানে, সেখানেও ঠাণ্ডা। নখপালিশ-ঠোঁট পালিশ যেখানে কিনতে যান, ঠাণ্ডা। সেখানেও।
এদের শরীরে তাই গন্ধ নেই, সুবাস।
এদের চোখে নিচে তাই কালি নেই, ফর্সা।

এরা পুরোটাই মানুষ। স্রষ্টা যাদের যত্ন করে বানিয়েছেন। যাদের সত্যিকারের মানুষ করে পাঠিয়েছেন পৃথিবীতে। যাদের পোশাকের শব্দটাও  সুন্দর, যাদের ছায়াটাও সুন্দর।


‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউয়ুম।’ ভোরের আজানের এ অংশটুকু শুনেই মনটা আরো ভালো হয়ে যায় মানুষটার। পরিস্কার করা হয়েছে সমস্ত মার্কেট। আগামী তিনদিন এটা বন্ধ। বিদ্যুতের সংযোগও বন্ধ করা হয়েছে। ফ্লোর ঝাড়-মোছের কাজ শেষ। কলাপসিবল গেট তিনটা নামানো। তালা লাগানো হলো সবগুলোতে। চাবির গোছাটা যথাযথ মানুষের হাতে দিয়ে সটান হয়ে দাঁড়ান তিনি।
ইশারা করলেন চাবি হাতের মানুষটা। তিনি কিছুটা লাফানোর ভঙ্গিতে সিঁড়ি থেকে ফুটপাতে নামলেন। তার আগে কোমড়ের ফাঁক দিয়ে আন্ডার প্যান্টে হাত রাখলেন একবার। নিশ্চিত এবং নির্ভার হলেন-না, বেতন আর বোনাসের টাকাগুলো যথাস্থানেই আছে।
গাউসিয়ার ফুটপাতে এসেই দুটো দড়ি বের করলেন পকেট থেকে। দু মেয়ের জামার মাপ। তিন দোকান দেখার পর পছন্দ হলো এক দোকানে। একটু দামাদামি করে নিয়ে নিলেন ও দুটো।
তারপর বাঁ দিকে তাকালেন। বাকুশাহ মার্কেট।

পরম যত্ন করে সেখান থেকে একটা শাড়ি কিনলেন বউয়ের জন্য। তারপর প্যাকেট তিনটা বুকের সঙ্গে জড়িয়ে দৌড়ানোর ভঙ্গিতে হাঁটতে লাগলেন জিগাতলার দিকে। ওখানে থেকে টেম্পুতে চড়ে বসিলা ব্রিজ। তারপর একটু হেঁটে বাম দিকে একটা মাটির রাস্তা। ওটা দিয়ে মিনিট পনেরো। তারপর নিজের খুপরি ঘর।

বাড়ির ভেতর ঢোকার আগেই দেখলেন তিনি তাদের-বউ, আর তার ফুটফুটে দুটো মেয়ে। দাঁড়িয়ে আছে তারা পূর্ণ চোখে। বাবাকে দেখেই ছোট মেয়েটা দৌড়ে এলো আগে, পেছনে পেছনে বড়টা।
বউও এলেন।
যার যার হাতে প্যাকেটগুলো তুলে দিলেন পরম তৃপ্তিতে। মেয়ে দুটো মহা হাসিতে ঘরে চলে গেল। মাথার ঘোমটা আরো একটু টেনে বউ বললেন, ‘আাপনের জন্য কিছু আনেন নাই!’
মুচকি হাসলেন তিনি। বউয়ের হাতটা ধরে এগিয়ে গেলেন ঘরের দিকে। তারপর মমতা মাখানো গলায় বললেন, ‘সাড়ে দুই হাত মানুষ আমি। বেশি কিছুর প্রয়োজন নাই আমার। তুমি এবং তোমার মেয়ে দুটো নতুন কাপড়গুলো পড়ে আসো। ঘুমানোর আগে প্রাণ ভরে আমি একটু দেখতে চাই তোমাদের।’


ভেজা চুলে নুতন কাপড়টা পরে এলেন বউ। জামা পরেছে মেয়ে দুটোও। কোনা ভাঙা আয়নাটা হাতে ওদের। কপালে টিপ দেওয়ায় ব্যস্ত এখন। বাবার সামনে আরো একটু সুন্দর করে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
মানুষটার মাথার নিচে নিজের বাম হাত। ঘুমিয়ে পড়েছেন তিনি গাল ঠেকিয়ে। বউ আরো একটু এগিয়ে গেলেন। পাশে বসলেন তার। কাঁথায় নেতিয়ে থাকা মানুষটার ডান হাতটা নিজের হাতে দিলেন। নিজের গলার কাছে আনলেন। চোখ ভিজে উঠেছে তার। সংসারে এই তিনটা মানুষের জন্য তার এই আড়াই হাতের মানুষটা। অবজ্ঞা, অবহেলা আর প্রতিদিনের অপমানে তার কী অপরিসীম প্রচেষ্টা-একটু হাসিমুখ দেখা।
মেয়ে দুটোও পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। মায়ের চোখে পানি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে গেল ছোট মেয়েটা। কাছে এসে কোলে মাথা গলিয়ে বলল, ‘মা, কান্দস ক্যা তুই! কাপড় পছন্দ হয় নাই?’
বেড়ার ফাঁক দিয়ে এক টুকরো বাতাস এলো ঘরে। ঘুমের ঘোরে কী একটা বলেও উঠলেন তিনি। হঠাৎ। কিন্তু বোঝা গেল না কথাটা। বেশ কিছুক্ষণ পর লম্বা একটা নিঃশ্বাস ছাড়লেন। তারপর একাত থেকে ওকাত হলেন মানুষটা-পরম আয়েশে, গভীর আবেশে ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন