বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০১৯ ইং , ৬ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলকে ভ্যাট নিবন্ধন করতেই হবে

জুন ১, ২০১৯ | ৫:১৫ অপরাহ্ণ

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নতুন ভ্যাট আইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব ও সার্চ ইঞ্জিন গুগলের মতো জনপ্রিয় সাইটগুলোর ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নতুন আইনে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় তাদের ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনের পরপরই এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা গেছে।

সাইটগুলোকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা। নিবন্ধনের আওতায় আসতে তাদের সদিচ্ছাকেই মুখ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিয়ম না মানায় ভবিষ্যতে যদি হঠাৎ করে সাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে তথ্য-প্রযুক্তিখাতে বিরূপ প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তারা।

মন্তব্য জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে যদি ব্যবসা করতে হয় তবে তাদেরকে অবশ্যই দেশের আইন মেনে চলতে হবে। পৃথিবীর কোনো দেশ নেই যেখানে ওই দেশের আইন না মেনে অন্য দেশের প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে পারে। আমার সঙ্গে তাদের সর্বশেষ যখন কথা হয়, আমি তাদের বলেছিলাম, আমার দেশের প্রচলিত সকল আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, ‘ওরা ব্যবসা করবে, হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাবে, আর সরকারকে রাজস্ব দেবে না তা হতে পারে না। তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব বলে মনে করি, সবই সম্ভব।’

সরকার যদি সাইটগুলো বন্ধ করে দেয় তা হলে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে -এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘রাষ্ট্রের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে পারবে না।’

দেশে তো এসব প্রতিষ্ঠানের বিকল্প তৈরি হয়নি এমন প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থাই দেশের উপরে নয়। চীনে তো এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। তাদের চলছে না। যদি বন্ধ করে দিই ছয় মাস কষ্ট হবে। ছয়মাস পর ঠিকই বিকল্প তৈরি হবে।’

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর সারাবাংলাকে বলেন, ‘সরকার যদি তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে পারে তাহলে তা ভালো। কিন্তু এখন বিষয়টি নির্ভর করছে ফেসবুক ইউটিউব বা গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর। ভ্যাট নিবন্ধন বা দেশে অফিস স্থাপন করতে তাদের কতটুকু সদিচ্ছা রয়েছে। সরকারের নিয়ম তারা না মানলে কী হবে। হঠাৎ সাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলে প্রভাবের মাত্রাটি কী হতে পারে, এসব নিয়েও চিন্তা করতে হবে। ফেসবুক ও গুগলের মাধ্যমে অনেকেই আউটসোর্সিং ও বিপিও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, অনেকে ফ্রিল্যান্সিং করছেন, ই-কমার্স ব্যবসা রয়েছে। বন্ধ করতে চাইলে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সরকার যা বলছে তা করা সম্ভব। কিন্তু এক্ষেত্রে ওইসব প্রতিষ্ঠানের সদিচ্ছাই মুখ্য।’

নতুন আইনের এই দিকটি সম্পর্কে জানতে চাইলে ভ্যাট অনলাইনের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘ফেসবুক ইউটিউব বা গুগল বিজ্ঞাপন থেকে কত টাকা আয় করছে এখন তার হিসেব নেই। নতুন আইনে আমরা তাদের ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনব। এক্ষেত্রে দেশে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করতে হবে। লোকাল এজেন্টই দেশে ব্যবসা পরিচালনার সব বিষয় দেখভাল করবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে ফেসবুক বা গুগলের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানও যোগাযোগ করেনি।’  প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ভ্যাট নিবন্ধন বিষয়ে বাজেট প্রস্তাবনার পর সার্কুলার জারি করা হবে বলে জানান এনবিআরের এই কর্মকর্তা।’

আগামী অর্থবছর থেকে ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর) আইন ২০১২ বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী, দেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে চাইলে ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে তাদের অফিস স্থাপন করতে হবে। অথবা এসব প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে তাদের মূসক এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। নিবন্ধন ওইসব প্রতিষ্ঠানের নামে হলেও ভ্যাট এজেন্ট ওইসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করবে। প্রতিষ্ঠানগুলো আইন না মানলে ব্যবস্থা নেবে এনবিআর। সেক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের সাইট বন্ধ করে দিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়মন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি দেব প্রতিষ্ঠানটি।

সারাবাংলা/ইএইচটি/জেএএম/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন