মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৮ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে দেড় হাজার কোটি টাকা থাকছে বাজেটে

জুন ২, ২০১৯ | ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মোকাবিলায় আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে সরকার। এর আগে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মোকাবেলায় বাজেটে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে, ৫ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। পরবর্তী অর্থবছর থেকে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মোকাবিলায় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ২৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো হলো— বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক। বড় বড় ঋণ কেলেঙ্কারি ও খেলাপি ঋণ আদায় করতে না পারায় সরকারি ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। আর ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের কাছে ২৪ হাজার ৭১১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ব্যাংকগুলো। বিপরীতে ব্যাংকগুলোর মূলধন জোগান দিতে আগামী বাজেটে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে সরকার।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে। সুপারিশে বলা হয়, মূলধন ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রতিটি সরকারি ব্যাংক মূলধন ঘাটতি মোকাবিলায় পৃথকভাবে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বাজেটে সরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র সারাবাংলাকে জানায়, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মোকাবিলায় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত গত ১০ বছরে বাজেট থেকে ব্যাংকগুলোর মূলধন সংকট মোকাবিলায় ১৭ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০৯-১০ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দ রাখা হয় এক হাজার কোটি টাকা, ২০১০-১১ অর্থবছরে রাখা হয় এক হাজার ৫০ কোটি টাকা। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২০১১-১২ অর্থবছরে ৭০০ কোটি টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৪২০ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৬৮ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দুই হাজার ৬১৭ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুই হাজার কোটি টাকা করে মোট চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। আর সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরেও আরও দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ব্যাংকগুলোর জন্য।

বিজ্ঞাপন

সূত্র আরও জানায়, ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাজেট থেকে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে সোনালী ব্যাংক। এরপরের অবস্থানে রয়েছে বেসিক ব্যাংক। সরকারি এই দুই ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে বড় ধরনের মূলধন সংকটে পড়ে। সে কারণে বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের গত দুই মেয়াদে বাজেট থেকে সবচেয়ে বেশি তিন হাজার ৪০৫ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে সোনালী ব্যাংক। এরপর বেসিক ব্যাংক পেয়েছে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৮১৫ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৭৩৫ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক পেয়েছে ৩২২ কোটি টাকা। এর বাইরে রূপালী ব্যাংক পেয়েছে ৩১০ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, আগামী ১৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এটি হচ্ছে বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। একইসঙ্গে নতুন অর্থমন্ত্রী হিসাবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেটও।

সারাবাংলা/জিএস/প্রমা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন