শুক্রবার ২১ জুন, ২০১৯ ইং , ৭ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

চলে গেলেন মমতাজউদদীন আহমদ

জুন ২, ২০১৯ | ৪:২৬ অপরাহ্ণ

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

আরও এক নক্ষত্রের পতন। চলে গেলেন বরেণ্য নাট্যকার, অভিনেতা ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ। রোববার (২ জুন) বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। মমতাজউদদীন আহমদ-এর ভাগিনা শাহরিয়ার মাহমুদ প্রিন্স সারাবাংলাকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

শাহরিয়ার মাহমুদ প্রিন্স সারাবাংলাকে জানান, ‘মমতাজউদদীন আহমদের প্রথম জানাজা হবে আজ রাতে তার রূপনগরের বাসায়। এরপর সোমবার (৩ জুন) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় মসজিদে হবে তার দ্বিতীয় জানাজা। এর সোমবার রাতে চাপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হবে তাকে।’

মমতাজউদদীনের মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে প্রিন্স জানান, শহীদ মিনারে নেওয়ার ব্যাপারে মমতাজউদদীনের অনীহা ছিল। পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রিন্স।

১৬ মে থেকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া গেলো কয়েকদিন তাকে রাখা হয়েছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ)। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

নানা সৃজনশীল গুণে গুণান্বিত অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ একজন ভাষাসৈনিকও। বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম এই পথিকৃৎ ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদক পান। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন।দেশের অন্যতম নাট্যদল থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা মমতাজউদদীন আহমদ।

মমতাজউদদীন আহমদ ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

সারাবাংলা/পিএ/পিএম

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন