সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

লাওস বধ করে বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে এক পা বাংলাদেশের

জুন ৬, ২০১৯ | ৭:২৩ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইপর্বে অ্যাওয়ে ম্যাচে লাওসের সঙ্গে মাঠের লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। ভিয়েনতিয়েনে বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল বাছাইপর্বের লক্ষ্য নিয়ে নামা লাল-সবুজরা সবশেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কম্বোডিয়াকে হারিয়েছিল। এরপর থাইল্যান্ডের ১০ দিনের ক্যাম্প, দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের সাফল্য আর লাওসের সঙ্গে সুখকর অতীত স্মৃতির আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল জেমি ডে’র শিষ্যরা। অ্যাওয়ে ম্যাচে লাওসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মূল বাছাইপর্বে এক পা দিয়ে রেখেছে লাল-সবুজরা।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শুরুতে আশা জাগিয়ে প্রথমার্ধ পর্যন্ত ছন্নছেড়া ফুটবল খেলতে দেখা যায় বাংলাদেশকে। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের চিত্রপট পাল্টে দেন রবিউল হাসান। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে ১৮ মিনিটের মধ্যেই দলের একমাত্র গোলটি এনে দেন সেই রবিউল।

নামটা দেশের ফুটবলের পরিচিত নাম। আরামবাগের অধিনায়কের গোলে শেষ আন্তর্জাতিক ফিফা প্রীতি ম্যাচে কম্বোডিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

আজও ভিয়েনতিয়েনে রবিউলের গোলে ১-০ ব্যবধানে লাওসকে হারিয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

প্রথমার্ধে পরিকল্পনা অনুযায়ী একাদশে আক্রমাণত্মক ভঙ্গিতেই দেখা গেছে কোচকে। আক্রমণভাগে নেয়া হয়েছে আরিফ, মতিন, জীবন ও বিপলুকে। মাঝমাঠে জনি ও জামাল ভূইয়া। রক্ষণে রহমত, বাদশা, ইয়াসিন ও বিশ্বনাথ। গোলবার সামলানোর দায়িত্বে রানা।

বিজ্ঞাপন

আক্রমণভাগ শক্ত করে প্রথম পাঁচ মিনিটে দুর্দান্ত খেললেও দ্রুতই কেমন যেন খেই হারিয়ে যায় লাল-সবুজদের সমন্বয়ে। এলেমেলো খেলা আর ভুলেভরা পাসে প্রায়ই বুমেরাং হতে দেখা গেছে। সেই ক্ষেত্রে ভুল পাসের সুযোগটা গিয়েছে লাওসের পায়ে। হালির উপরে নিজেদের রক্ষণেই ভুল পাস দিয়ে লাওসের আক্রমণভাগের ফুটবলারদের সুযোগ করে দিয়েছে রহমত-বিশ্বনাথরা।

তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটি। প্রথমার্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও গোলের দেখা পায়নি দুইদল। দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চয়ই আরও সুসংগঠিত হয়ে খেলবে বাংলাদেশ আশা ছিল সমর্থকদের।

দ্বিতীয়ার্ধ থেকে যেন বদলে যায় জামাল-বিপলুদের খেলা। সুযোগের উপর সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। শুরুতেই জেমি পরিকল্পনার ছকে ৫৪ মিনিটে আরিফের বদলি নামেন রবিউল। ৫৬ মিনিটে রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো লাওসের গোলরক্ষক জেসাভাথকে ফাঁকি দিয়ে জালেই ঢুকছিল। পরে ডিফেন্ডার সেটি ক্লিয়ার করে দেন।

৬০ মিনিটে ইয়াসিনের লম্বা পাস থেকে ডি বক্সের ভেতরে বল পেয়েও গোলবারে শট নিতে ব্যর্থ হোন রবিউল। বল নিয়ন্ত্রণে নিতেই যেন বেদখল হয়ে যায় বল।

৬৭ মিনিটে আরেকটি সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। বাম প্রান্ত থেকে রবিউলের বাড়ানো পাস ঠিকমতো পায়ে জমাতে পারেননি সবুজ। তার আগেই লাওরে ডিফেন্ডার বল কর্নারের মাধ্যমে ক্লিয়ার করেন। কর্নারটিও কাজে লাগানো যায়নি।

লাগাতার আক্রমণের ফসল আসে ৭২ মিনিটে। দলীয় ফুটবলের নিদর্শন দেখিয়ে লিড নেয় বাংলাদেশ। জামাল ভূঁইয়ার পাস পড়ে ডি বক্সের সামনে থাকা রবিউলের পায়ে। বল পায়ে একজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বুলেট শটে জালে জড়ান রবিউল। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে গোল করেছিলেন রবিউল।

ওই এক গোলের ফল নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। অ্যাওয়ে ম্যাচে এক গোলের জয় নিশ্চয় ১১ জুন ঢাকার মাটিতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যোগাবে জামাল-রবিউলকে।

বাংলাদেশের চূড়ান্ত দল:
গোলরক্ষক: আশরাফুল ইসলাম রানা, আনিসুর রহমান জিকো ও মাজহারুল ইসলাম।
রক্ষণভাগ: টুটুল হোসেন বাদশা, সুশান্ত ত্রিপুরা, বিশ্বনাথ ঘোষ, ইয়াসিন খান, রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান, নাসিরউদ্দিন চৌধুরী।
মাঝমাঠ: ইমন মাহমুদ, সোহেল রানা (আবাহনী), জামাল ভূঁইয়া, রবিউল হাসান, মাসুক মিয়া জনি, মামুনুল ইসলাম মামুন ও রাকিব হোসেন।
আক্রমণভাগ: নবীব নেওয়াজ জীবন, মাহবুবুর রহমান সুফিল, মতিন মিয়া, তৌহিদুল আলম সবুজ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বিপলু আহমেদ ও আরিফুর রহমান।

সারাবাংলা/জেএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন