সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সোনা-রূপার ব্যবসায়ীরা কৃষক লীগ করছে: আবদুর রহমান

জুন ৯, ২০১৯ | ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ

আবদুর রহমান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই নেতা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা ও রাজনীতি নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেন সারাবাংলার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মীর মেহেদী হাসান

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: বর্তমানে ধানের দাম নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। একদিকে ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষক; অন্যদিকে, কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী, পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন। এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কৃষকের কোনো কাজে আসবে কি?

আবদুর রহমান: এটা কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হতে পারে না। আপনি যেটা বললেন, কৃষকের ধান কেটে দেওয়া হচ্ছে। এটা মূলত কৃষকের দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের উৎসাহিত করা এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো— কৃষকের কষ্টের ফসল ধান উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় শ্রমিকের পেছনে। কৃষি শ্রমিকের মজুরি তুলনামূলক বিচারে অনেক বেশি। এর প্রধান কারণ কৃষিকাজে লোকজনের অভাব। কৃষিকাজে যুক্ত শ্রমিকরা এখন রিকশা চালানো বা বিকল্প পেশার সন্ধানে ঢাকা অথবা দেশের বিভিন্ন শহরে ছুটছে। এ বিষয়ে শ্রমিকদের নিরুসাহিত করতে হবে।

সারাবাংলা: মজুরি কমের কারণেই তো বিকল্প পেশার সন্ধান করছে তারা।

আবদুর রহমান: আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি বাঁচাতে হলে কৃষিশ্রমিকের ন্যায্য মজুরির পাশাপাশি উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য দামও নিশ্চিত করতে হবে। আর উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝে যে মধ্যসত্ত্বভোগীরা রয়েছে, তাদের দৌরাত্ম্য কমানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে। কীভাবে উৎপাদিত পণ্য নির্ধারিত মূল্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনা যায়, সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। এখনই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এজন্য সব রাজনৈতিক দল ও সমাজের সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: সরকারি দলের অনেক নেতাকর্মীকে কৃষকের ধান কেটে দিতে দেখা গেছে। কিন্তু কৃষক লীগকে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিতে বা কথা বলতে শোনা যায়নি। এমনকি সংগঠনটির নেতারাও নিশ্চুপ। তাদের নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

আবদুর রহমান: এটা কৃষক লীগের সাংগঠনিক দায়িত্ববোধের অবহেলা। তাদের হয়তো এ রকম অনুভূতিই নেই যে এই সময় কৃষকের পাশে দাঁড়ানো সাংগঠনিক দায়িত্ব। তারা সে দায়িত্ব পালন করছে না। এটা দুঃখজনক। আর কৃষক লীগ সত্যিকারের কৃষক দিয়ে হয়নি। কৃষক লীগে অনেক সোনা-রূপার ব্যবসায়ীও রয়েছে। তাদের পদ দিয়ে সংঠনে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। তারা কী দায়িত্ব পালন করবে? তারা কি কৃষকের কাছে যাবে? সুতরাং এদের দিয়ে কিছু আশা করা ঠিক হবে না।

সারাবাংলা: রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বলা হয়, কার্যকর রাষ্ট্র গড়তে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। আপনি কি এর সঙ্গে একমত?

আবদুর রহমান: এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন— বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ভিত্তি অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে আওয়ামী লীগকে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একটি দল হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, দুর্ভাগ্যবশত বিএনপি একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত হলেও দলটি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। ফলে বিএনপির সঙ্গে সব অশুভ শক্তি আছে— এটা সবার কাছে প্রতিষ্ঠিত। এ কারণে এই শক্তিকে বিকল্প কোনো রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আমরা চাই, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং জঙ্গিবাদবিরোধী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হোক। তবেই তারা একটি শক্তিশালী ও কার্যকর রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

সারাবাংলা: গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের মধ্যে অনেকেই অনুপ্রবেশ করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীরা দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের হেনস্তা ও মারধর করছে। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা একাধিকবার বলা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না কেন?

আবদুর রহমান: আমাদের দল মনে করে, কোনো অপশক্তি ও অশুভ রাজনৈতিক শক্তি যেন দলে স্থান করে নিতে না পারে। এত বড় একটি দলে যদি কেউ কোনো ফাঁকফোকর গলিয়ে প্রবেশ করে তবে তাদের চিহ্নিত করে অব্যাহতির মাধ্যমে দলের বাইরে রাখা হবে। এখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যে কেউ প্রবেশ করতে পারে— এটা আমি বিশ্বাস করি না। তারপরও ফাঁকফোকর গলিয়ে যে কেউ ঢোকেনি, এটাও সঠিক নয়। তবে তারা আমাদের অসুবিধায় ফেলতে পারবে বলে আমি মনে করি না। এরপরও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের কাছে সেগুলোর ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। চিঠি দেওয়া হবে।

সারাবাংলা: সামনে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনে কি কোনো চমক থাকছে?

আবদুর রহমান: আমাদের দলের জাতীয় কাউন্সিল প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। দলের একমাত্র অপরিহার্য নেতা হলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও দলের বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা। সভাপতির পদটি অপরিবর্তিত থাকবে। আর যেহেতু কাউন্সিলের সময় দলের নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব বাছাইয়ের সর্বময় ক্ষমতা সভাপতির কাছে হস্তান্তর করে, সেহেতু তিনি বিবেচনা করবেন। প্রয়োজন মনে করলে দলের পরিবর্তন তিনিই আনবেন।

সারাবাংলা: সারাবাংলা ডটনেটকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আবদুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এইচএ/পিটিএম/এমএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন