শুক্রবার ২১ জুন, ২০১৯ ইং , ৭ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ভিসির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মারধরের শিকার চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা

জুন ৯, ২০১৯ | ৩:১৭ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) মেডিক্যাল অফিসার পদে চাকরিপ্রার্থীরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তারা বলছেন, প্রয়োজনে আমরণ অনশনে যাবেন।

রোববার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে  এ ঘটনা ঘটে। বিএসএমএমইউ উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিএসএমএমইউয়ের একাধিক সূত্র সারাবাংলাকে জানায়, ঈদের ছুটির পর আজ (রোববার) উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়ার কক্ষে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টার দিকে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা চিকিৎসকরা। তবে সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা চিকিৎসকদের বাধা দেন। তা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে অনড় থাকলে একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা তাদের মারধর করেন, ধাক্কাধাক্কি করে বের করে দেন।

আরও পড়ুন- স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বিএসএমএমইউ’র নিয়োগ পরীক্ষায়

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় তিন থেকে চার জন চিকিৎসক গুরুতর আহত হন। এর মধ্যে একজনের হাত ভেঙে গেছে বলেও জানা গেছে। আহতদের তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা বিএসএমএমইউয়ের ভেতরে অবস্থান করছেন। উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়ে এভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মারধরের শিকার হওয়ার ঘটনার বিচার চান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসক বলেন, এর আগেও আমরা উপাচার্য স্যারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েও পারিনি। কিন্তু তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান। আমাদের অভিযোগ তাকে ছাড়া আর কাকে জানাব? তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করলে কী এমন ক্ষতি হতো!

আরেক চিকিৎসক বলেন, উপাচার্য দেখা দেননি ভালো কথা, কিন্তু আমাদের যখন মারধর করা হলো, তিনি কেন আমাদের বাঁচাতে আসলেন না? এসবই প্রমাণ করে, মেডিক্যাল অফিসার পরীক্ষায় দুর্নীতি হয়েছে। তারই প্রতিবাদে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, প্রয়োজন হলে আমরণ অনশন করব।

গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত বিএসএমএমইউয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করে আসছিলেন নিয়োগপ্রত্যাশী চিকিৎসকরা। প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ সংশ্লিষ্টদের স্বজনপ্রীতিসহ ছয়টি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ আনেন তারা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট ছয়টি অনিয়মের প্রমাণসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পরীক্ষার আগে-পরে অনেকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও তারা প্রতিকার পাননি।

২০০টি মেডিকেল অফিসারের পদে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় বিএসএমএইউ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১৮০ জন এমবিবিএস ও  ২০ জন বিডিএস চিকিৎসক চাওয়া হয়। প্রথম দফায় নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও সেটি পিছিয়ে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষার দিন ঠিক করা হয়। পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রশ্নপত্রও ছাপানো হয়। কিন্তু অনিবার্য কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাপা হওয়ার দেড় বছর পর গত ২২ মার্চ সেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সারাবাংলা/জেএ/এনএইচ/টিআরৃ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন