রবিবার ১৬ জুন, ২০১৯ ইং , ২ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

হ্যাকিংয়ের শঙ্কায় এটিএম বুথগুলোতে কড়া নজরদারি

জুন ৯, ২০১৯ | ১০:৩২ অপরাহ্ণ

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বেসরকারি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে জালিয়াতি ধরা পড়ার পর দেশের সব ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বুথগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত রক্ষীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বুথগুলোকে রাখা হয়েছে সার্বক্ষণিক মনিটরিং এর আওতায়, একইসঙ্গে অকেজো ক্লোজড সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখতেও বলা হয়েছে। এমনকি প্রত্যেক কার্ড হোল্ডারকে সজাগ দৃষ্টিতে দেখতে বলা হয়েছে।

রোববার (৯ জুন) রাজধানীর বেশ কয়েকটি ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এটিএম বুথের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর পান্থপথে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম ‍বুথে নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব পালন করেন আইয়ুব আলী। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ঈদের দিন থেকেই তাদের কাছে কড়া নির্দেশনা আসে। সেখানে ভালোভাবে ডিউটি পালন ও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়। যারা বুথে প্রবেশ করবেন তারা দেশি না বিদেশি তা চিহ্নিত করতে বলা হয়। কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ‍বুথে অবস্থান করলে সেখানে প্রবেশ করে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না তা জানতে চাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছেন বলে জানান এই নিরাপত্তারক্ষী।

কারওয়ান বাজারে ইসলামী ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তারক্ষী কাজল সরকার বলেন, হেলমেট পড়ে কেউ বুথে প্রবেশ করতে পারবে না বলে আগে থেকেই নির্দেশনা ছিল। তবে নতুন করে মুখে মাস্ক, মাথায় টুপি ও চোখে কালো চশমা পরেও যেন কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর বেইলী রোডে ইস্টার্ন ব্যাংকের এটিএম বুথের জন্য আলাদা কক্ষ নেই। সড়কের ওপরেই বুথ বসানো। সেই বুথের নিরাপত্তারক্ষী সাইদুর রহমান শান্ত বলেন, এই বুথে প্রবেশের জন্য যেহেতু আলাদা কক্ষ নেই সেহেতু টাকা তোলার সময় গ্রাহককে বাইরে থেকে মনিটরিং করা সহজ হয়। এরপরেও গ্রাহক কি করছে, কত সময় নিয়ে টাকা তুলছে, মুখ স্পষ্টভাবে সিসি ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে কি না ইত্যাদি তাদের নজরদারি করতে বলা হয়েছে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘গ্রাহক পর্যায়ে যেন আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য আমরা ইন্টারনালি সতর্কতা জারি করেছি। আইটি বিভাগকে বিশেষভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। সিসিটিভি মনিটরিং বিভাগকে বিশেষ সতর্কতার সাথে কাজ করতে বলা হয়েছে। আগের চেয়ে বেশি মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। সব বিভাগকে প্রতিদিনের রিপোর্ট প্রতিদিন পাঠাতে বলা হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবহিত করতে বলা হয়েছে।’

গত ২ জুন রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা থেকে ডাচবাংলা এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় ইউক্রেনের একজন নাগরিককে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর পান্থপথ অলিও ইন্টারন্যাশনাল হোটেল থেকে একই দেশের আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে মামলা দিয়ে রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ঈদের ছুটি থাকায় এখনো তাদের রিমান্ড শুরু হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পূর্ব) অতিরিক্ত উপ কমিশনার শাহিদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটি থাকা ও দোভাষী না মেলায় কারাগারে থাকা ইউক্রেনীয় ৬ নাগরিককে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়নি। দুএকদিনের মধ্যেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হতে পারে। আর পালিয়ে থাকা অন্য ইউক্রেনের নাগরিককে আটক করার চেষ্টা চলছে।’

পুলিশ বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের এটিএম বুথ ব্যবহার করে একটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্র অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে বলে গত ২৯ মে এফবিআই বাংলাদেশি গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডিকে সতর্ক করে। বিষয়টি সিআইডি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৩০ মে বৈঠকও করে। দেশের কোথাও এরকম অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটলে ব্যাংকের আইটি বিভাগকে সঙ্গে সঙ্গে তা সিআইডিকে জানাতে বলা হয়। একই দিন গভীর রাতে ডাচবাংলা ব্যাংক থেকে সিআইডিকে জানানো হয় যে, বাড্ডার একটি বুথ থেকে হ্যাকার চক্র তিন লাখ টাকা তুলে নিয়েছে। এরপরই মূলত বুথগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নিজ নিজ বুথের নিরাপত্তাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় ব্যাংকগুলো।

এরপরেই তালতলা থেকে হ্যাকার চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে সিআইডির একটি সূত্র।

জানতে চাইলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটিএম বুথের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করছি। সাইবার ঝুঁকির বিভিন্ন নতুন দিক নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। নতুন করে আইটি বিভাগগুলোতে এক্সপার্টদের যুক্ত করতে বলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। দেশের টাকা বিদেশিরা হাতিয়ে নিয়ে যাবে, এটি ভয়াবহ অবস্থা। কাজেই শুরুতেই যেহেতু আইডেন্টিফাই করা গেছে, এতে আমরা অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত। তবে আশঙ্কা কিন্তু রয়েছেই।’

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কিভাবে এটিএম বুথগুলো আরও বেশি আশঙ্কামুক্ত রাখা যায় সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান মোল্লা নজরুল ইসলাম।

সারাবাংলা/ইউজে/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন