বুধবার ২৬ জুন, ২০১৯ ইং , ১২ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ওরা বহিরাগত, ওদের অভিযোগ ভিত্তিহীন: বিএসএমএমইউ ভিসি

জুন ১০, ২০১৯ | ৬:১১ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘তারা তো আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ না, ওরা সবাই বহিরাগত। আর ওদের অভিযোগও ভিত্তিহীন। তারা কারও কাছ থেকে উসকানি পাচ্ছে বা হয়তো নিজেরাই এসব (চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ও পুনঃনিরীক্ষণের দাবিতে আন্দোলন) করছে। সেটা তাদের নিজেদের ব্যাপার।’

সোমবার (১০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এসব কথা বলেন।

আন্দোলনরত চিকিৎসদের দাবির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘ফলাফল প্রকাশের পরদিন একজন তাদের পক্ষে কিছু অভিযোগের কথা বলেন। সেটা গ্রহণযোগ্য কোনো অভিযোগ নয়। তারা পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছে, কিন্তু তার প্রশ্নই ওঠে না। এ পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে আদালত থেকে কোনো আদেশ এলে আমরা মেনে নেব।’

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়ম-নীতি মেনে এই পরীক্ষা হয়েছে জানিয়ে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আর আমি তো বসে থাকতে পারি না, আমাকে তো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হবে।’ গত ১২ মে পরীক্ষা হলো, ভাইভা হবে আগামী ১০ জুন- এতদিন পরও আমি মৌখিক পরীক্ষা শুরু করতে পারবো না, প্রশ্ন রাখেন উপাচার্য।

এর আগে, বিএসএমএমইউ উপাচার্যের কার্যালয়ের বাইরে আন্দোলনরত চিকিৎসকরা আমরণ অনশনে বসেন। মেডিকেল অফিসার পদে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া চাকরিপ্রার্থীরা গত প্রায় একমাস ধরে পরীক্ষা বাতিল ও পুনঃনিরীক্ষণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।

গতকাল ভিসির সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের পুলিশ ও আনসার দিয়ে পেটানো হয়েছে অভিযোগ জানিয়ে আন্দোলনরতরা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে চিকিৎসকদের গায়ে হাত দেওয়ার কোনো নির্দেশ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়নি। তাহলে কার নির্দেশে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হয়েছে?’

এক চিকিৎসক বলেন, ‘উনি (উপাচার্য) যদি দুর্নীতি নাই করে থাকেন তাহলে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে বাধা কিসের?’

এসব বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘তারা (আন্দোলনরত চিকিৎসকরা) স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনেছে। বলতে চাই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন, প্রিন্টিং ও প্যাকেটিং- এই চার ক্ষেত্রে কোথাও যাদের আত্মীয় ছিল তাদের রাখা হয়নি। এটা একবার না বারবার চেক করা হয়েছে। কমিটিও সেভাবে করা হয়েছে।’

আর শিক্ষকের ছেলে-মেয়েদের কি এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অধিকার নেই প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘তারা যদি মেধায় আসে, তাহলে এখানে অনিয়মের কী আছে?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে-উপাচার্য সব পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান। কিন্তু আমি তো মূল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না, কোনো কমিটির সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না, বলেন উপাচার্য। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মেয়ের জামাই পরীক্ষা দিয়েছে, শোনার পর সব ধরনের মূল কর্মকাণ্ড থেকে তাকে দূরে রাখা হয়েছে।’

অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘এটা একটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাভাবিকভাবেই মেধার স্বীকৃতি দিতে হবে। এখানে যারা লিখিত পরীক্ষায় কোয়ালিফাই করেছেন তাদের নিরাপত্তা, মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া আমার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর এ নিয়ে এখনও কোনো ধরনের স্টে অর্ডার বা কিছুই আমরা উচ্চ আদালত থেকে পাইনি। উচ্চ আদালত কোনো আদেশ দিলে সেটাও আমরা মেনে নেব।’

গতকাল একজন চিকিৎসক আহত হয়েছেন, তার হাত ভেঙেছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এগুলো মিথ্যা কথা। পেটানোর প্রশ্নই ওঠে না।’

এবার উপাচার্যের পদত্যাগ চান অকৃতকার্য চিকিৎসকরা

প্রসঙ্গত, ২০০টি মেডিকেল অফিসারের পদে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় বিএসএমএইউ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১৮০ জন এমবিবিএস ও ২০ জন বিডিএস চিকিৎসক চাওয়া হয়। প্রথম দফায় নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও সেটি পিছিয়ে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষার দিন ঠিক করা হয়। পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রশ্নপত্রও ছাপানো হয়। কিন্তু অনিবার্য কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাপা হওয়ার দেড় বছর পর গত ২২ মার্চ সেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই আন্দোলনে নামেন চিকিৎসকদের একাংশ।

আরও পড়ুন:
বিএসএমএমইউ’র ‘বিতর্কিত’ সেই মৌখিক পরীক্ষা শুরু
ভিসির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মারধরের শিকার চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা

সারাবাংলা/জেএ/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন