শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৫ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভে উত্তাল হংকং

জুন ১২, ২০১৯ | ১২:০০ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: চীনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে। বন্দি সমর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে বিক্ষোভকারীরা সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে রেখেছেন। হাজার হাজার প্রতিবাদকারী হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের দফতরের কাছে পূর্ব-পশ্চিমমুখি লাং ইউও সড়কে ও এর আশপাশে জড়ো হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অবরোধকারীদের কেউ কেউ বুধবার (১২ জুন) সকাল থেকে মাস্ক, হেলমেট পরে অবরোধে অংশ নেন। হংকংয়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শত শত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে পুলিশের সাজোয়া যান।

হংকং পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রস্তুতি নিয়েছে। পিপার স্প্রে ছিটিয়ে প্রয়োজনে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হবে।

হংকংয়ের পুলিশ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ অবস্থানের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদি তারা সরে না যায় তাহলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

গত ৯ জুন বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত বিলের প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবিত বিলটির বিষয়ে চীনা আইন পরিষদে বুধবার দ্বিতীয় বিতর্ক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়েছে।

চীনের আইন পরিষদের একজন মুখপাত্র বুধবার বলেন, ১১টায় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠকের দিনক্ষণ পিছিয়েছে। সেটি পরবর্তী কোনো এক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

যদিও চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওই বিলের বিষয়ে সিদ্ধান্তে কোনো নড়চড় হবে না। তবে প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম জনগণের উদ্বেগ প্রশমন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন বিলটিতে অতিরিক্ত সংশোধনী এনে তাতে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়গুলোও যোগ করা হবে।

গত ৯ জুন রাতে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে বন্দি সমর্পণ বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত বিল তোলে চীনের সরকার। ওই বিলের প্রতিবাদে হংকংয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা বলছেন, হংকং একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ২০৪৭ সাল পর্যন্ত এর স্বায়ত্তশাসন বহাল থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। কিন্তু চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত বিল বাস্তবায়ন হলে হংকংয়ের ওপর চীনের নজরদারি বাড়বে। এছাড়া বন্দি সমর্পণ চুক্তি কাজে লাগিয়ে চীন হংকংয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু করবে।

এদিকে চীনের এ সিদ্ধান্তে এরইমধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র।

হংকংয়ের গণমাধ্যম জানিয়েছে, আইন পরিষদে আগামী ২০ জুন ওই বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস করা হবে।

২০১৮ সালের এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিলটি তৈরি করা হয়। তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দি বিনিময়ের কোনো চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন হংকং থেকে তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না।

আগে হংকং ব্রিটিশ উপনিবেশের শাসনে ছিল। ১৫০ বছর শাসনে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই অঞ্চলটি চীনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

সারাবাংলা/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন