সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘রিজার্ভ ডে’ নিয়ে আইসিসির ব্যাখ্যা

জুন ১২, ২০১৯ | ২:৪২ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপ ডেস্ক

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে গতকাল। ছিল না কোনো রিজার্ভ ডে। সেটি নিয়ে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। এ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলো। পাঁচ দিনেই তিনটি। বিশ্বকাপের কোনো আসরে এত বেশি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি আগে। প্রশ্ন উঠেছে, ইংল্যান্ডের আবহাওয়া জেনেও কেন আইসিসি ‘রিজার্ভ ডে’র ব্যবস্থা রাখেনি।

বিজ্ঞাপন

চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই রেকর্ড তিনটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হয়ে গেছে। এরমধ্যে দুটি ম্যাচে টসও করা সম্ভব হয়নি। এই আসরে এ পর্যন্ত ১৬টি ম্যাচের তিনটি ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। এর আগে সবচেয়ে বেশি ১৯৯২ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে দুটি করে ম্যাচ বাতিল হয়েছে।

পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা আর বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পণ্ড হয়ে যায়। গতকাল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডস। পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়াটা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, আমরা চাঁদে মানুষ পাঠাতে পারি তাহলে কেন একটা রিজার্ভ ডে রাখতে পারলাম না? যেহেতু এটা একটা দীর্ঘ মেয়াদী আসর।

এদিকে, আইসিসি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে এক বিবৃতিতে জানায়, বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে রিজার্ভ ডে রাখা সম্ভব নয়। আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন এ ব্যাপারে জানান, ‘প্রতিটি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডের ব্যবস্থা করতে হলে টুর্নামেন্ট অনেক লম্বা হয়ে যাবে। তখন পুরো টুর্নামেন্টটা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করাও সম্ভব হবে না। উইকেট প্রস্তুত করা, দলগুলোর যাত্রার সময়সূচি, বিশ্রামের রুটিন, থাকার জায়গা-এসব কিছুর ওপর প্রভাব পড়বে। তাছাড়া, ভেন্যু ঠিক দিনে পাওয়া যাবে কি না, স্বেচ্ছাসেবক ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের পাওয়া যাবে কি না আর দর্শকের উপস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্প্রচারে সমস্যা হবে কি না—সেটিও ভাবতে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য একটি রিজার্ভ ডে রাখা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিটি ম্যাচ আয়োজন ও সম্প্রচারে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ১২’শর বেশি কর্মী। সুতরাং রিজার্ভ ডে রাখতে হলে এই সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে।’

আইসিসির প্রধান নির্বাহী রিচার্ডসন আত্মপক্ষ সমর্থন করে আরও জানান, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অনেক দর্শকই আছেন, যারা অনেকক্ষণ যাত্রা করে খেলা দেখতে আসেন, তাদের ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। তার ওপর যেদিন রিজার্ভ ডে রাখা হবে, সেদিনও যে বৃষ্টি হবে না, তারও তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে নকআউট পর্বে ম্যাচগুলোর জন্য রিজার্ভ ডে রয়েছে। আশা করছি, গ্রুপ পর্বের ৪৫টা ম্যাচের মধ্যে অধিকাংশ ম্যাচই ফলাফল দেখবে।’

বিজ্ঞাপন

এই মৌসুমে বিশ্বকাপ আয়োজনের যৌক্তিকতা দেখাতে গিয়ে তিনি জানান, ‘ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ২০১৮ সালের জুনে মাত্র ২ মি.মি. বৃষ্টিপাত হতে দেখা গেছে। সেখানে এই সপ্তাহে ১০০ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ইংল্যান্ডের আবহাওয়া বড় বিচিত্র আচরণ করছে। গত দুদিনে আমরা জুন মাসের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টিপাত দেখেছি। এমনটা সাধারণত হয় না। যা খুবই আশ্চর্যজনক। যখন বৃষ্টি হয়, আমাদের মাঠের কর্মীরা ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করেন। তারা খুব করেই চান যে করেই হোক যেন ম্যাচটি আয়োজন করা যায়। সেটি কার্টেল ওভার হলেও।’

বাংলাদেশের দর্শকরা বিশ্বকাপের সব ম্যাচ অনলাইনে কোনো ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি বা চার্জ ছাড়াই দেখতে পারবেন র‍্যাবিটহোলের ওয়েবসাইট www.rabbitholebd.com-এ। এছাড়া র‍্যাবিটহোলের অ্যাপেও দেখা যাবে প্রতিটি ম্যাচ। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/UNCWS2 (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে। তাছাড়া আইওএস ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/vJjyyL (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে।

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন