মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ২ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের নতুন বিতর্ক জিং বেইলস

জুন ১২, ২০১৯ | ৪:০৪ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপ ডেস্ক

চলমান বিশ্বকাপে স্টাম্পে যে ‘এলইডি বেইলস’ ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি অ্যাডিলেডের জিংস টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি। এই বেইলসের নাম জিং বেইলস। মিচেল স্টার্কের ১৪০ কিলো মিটারের বেশি গতির বল স্টাম্পে লেগেও যখন সেই জিং বেইলস পড়ে না তখন এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচবার বল স্টাম্পে আঘাত করার পরও জিং বেইলস পরেনি।

বিজ্ঞাপন

এই জিং বেইলস নিয়ে সমালোচনা করেছেন ভারতের দলপতি বিরাট কোহলি, অস্ট্রেলিয়ার দলপতি অ্যারন ফিঞ্চ, ইংল্যান্ডের সাবেক দলপতি নাসের হুসেইন, পাকিস্তানের গতি স্টার শোয়েব আখতারের মতো বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা।

এদিকে, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এমন সমালোচনার মুখেও জানাচ্ছে, জিং বেইলসে কোনো সমস্যা নেই। আর এমন মেগা ইভেন্টের মাঝে বেইলস পাল্টানো সম্ভব নয়। বিশ্বকাপের স্ট্যান্ডার্ড প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী মাঝপথে প্রযুক্তি বদলের কোনো সুযোগ নেই। তাই জিং বেইলস থাকছেই।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচবার স্টাম্পে বল লাগলেও বেইলস পড়েনি। সবশেষ ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর বল অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের স্টাম্পে লাগলেও বেইলস মাটিতে পড়েনি। এর আগে ইংল্যান্ডের স্পিনার আদিল রশিদের একটি ডেলিভারি দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার কুইন্টন ডি ককের স্টাম্পে লেগেছিল। শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে স্টাম্পে বল লাগলেও জীবন পেয়েছিলেন লঙ্কান দলপতি দিমুথ করুনারত্নে, বোলার ছিলেন কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। অজি পেসার মিচেল স্টার্কের বলে বেঁচে যান ক্রিস গেইল। আর ইংলিশ পেসার বেন স্টোকসের বলে জীবন পান বাংলাদেশের সাইফউদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

আগে স্টাম্পের উপরে কাঠের তৈরি বেইলস ব্যবহার করা হতো। এখন যে জিং বেইলস ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি মূলত প্লাস্টিকের তৈরি আর সেটি কাঠের চেয়েও হালকা। এই বেইলসের সঙ্গে আছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। স্টাম্পে বল আঘাত করলেই বেইলসের এলইডি লাইট জ্বলে উঠবে। অথচ হালকা আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া থাকার পরও এবারের জিং বেইলস নিয়ে সমালোচনার কমতি নেই।

এমন ঘটনায় টুইটারে সাবেক ক্রিকেটাররাও সমালোচনায় মেতে উঠেছেন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন জানান, এমন সুযোগে ব্যাট করাটা দারুণ। যখন আপনি বোল্ড হবেন না। এই স্টাম্প/জিং বেইলস পরিবর্তন করতে হবে।

ভারতের অধিনায়ক কোহলি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন ভুল কোনোভাবেই আশা করা যায় না। আমি মনে করি প্রযুক্তির ব্যবহার দারুণ। স্টাম্পের সাথে কিছুর আঘাত লাগলেই বেইলসের লাইট জ্বলে উঠার কথা। কিন্তু, পেসার বা মিডিয়াম পেসারদের বল স্টাম্পে আঘাত করলেও তেমনটি হচ্ছে না। উইকেটের পেছনে থাকা ধোনি ভাই স্টাম্পের গর্ত ভালোভাবেই চেক করেছে। সবই ঠিক আছে, কিন্তু আমরা জানিনা এমন কেন হচ্ছে। আমি কখনোই এরকম ঘটনা বারবার ঘটতে দেখিনি। এটা কোনো দলই স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারবে না।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ জানান, গত ম্যাচে আমরা ঠিক পথেই ছিলাম। কিন্তু একটা সময় ব্যাপারটা অনিরপেক্ষ ছিল। আমি জানি ওয়ার্নারের স্টাম্পে বল খুব জোরে আঘাত করলেও বেইলস পড়েনি। যেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কারণ বিশ্বকাপের সেমি ফাইনাল কিংবা ফাইনালে এরকমটা দেখলে আপনি কখনো মানতে পারবেন না, যখন আপনি এত কঠিন পরিশ্রমে বল করেও ব্যাটসম্যানকে আউট করতে পারেন না।

পাকিস্তানের সাবেক স্পিডস্টার শোয়েব আখতার লিখেছেন, পাঁচবারের মতো বল স্টাম্পে লেগেও বেইলস পড়েনি। কি হচ্ছে এগুলো। আমার পুরো ক্যারিয়ারেও এমন ঘটনা পাঁচবার দেখিনি। এবার ১০ দিনেই সেটা ঘটেছে।

বাংলাদেশের দর্শকরা বিশ্বকাপের সব ম্যাচ অনলাইনে কোনো ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি বা চার্জ ছাড়াই দেখতে পারবেন র‍্যাবিটহোলের ওয়েবসাইট www.rabbitholebd.com-এ। এছাড়া র‍্যাবিটহোলের অ্যাপেও দেখা যাবে প্রতিটি ম্যাচ। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/UNCWS2 (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে। তাছাড়া আইওএস ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/vJjyyL (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে।

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন