বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০১৯ ইং , ৬ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

আফ্রিদির চড়েই স্পটফিক্সিং স্বীকার করেছিল আমির: রাজ্জাক

জুন ১৩, ২০১৯ | ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বকাপ ডেস্ক

পাকিস্তান ক্রিকেটের নাম উঠে আসলে সেখানে যেন বাধ্যগত ভাবেই নাম আসে স্পটফিক্সিং কিংবা অন্য কোনো কেলেঙ্কারির। ২০১০ সাল পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য আরও বড় এক কাল অধ্যয়ের জন্ম দিয়েছিল। সেবার ইংল্যান্ডে সিরিজ চলাকালে দুই পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আসিফ এবং মোহাম্মদ আমির আর ব্যাটসম্যান সালমান বাটকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আর পরবর্তীতে তা প্রমাণও হয়েছিল। এসব তো পুরাতন কথা। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও পাকিস্তান জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়িয়েছেন মোহাম্মদ আমির। খেলছেন বিশ্বকাপেও। আর পারফর্মও করছেন নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে। তবে বিতর্ক যেন তার পিছুই ছাড়ে না। এবার সেই পুরাতন কথা টেনে সামনে আনলেন পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাক।

বুধবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টনটনে দারুণ বোলিং করে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন আমির। আর এই পাওয়ার দিনেই আবারও উঠে এল সেই অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ। সাবেক অলরাউন্ডার আব্দুল রজ্জাকের মুখ থেকে যা উঠে আসলো। পাকিস্তানের কলঙ্কিত ২০১০ ইংল্যান্ড সিরিজের অনেক আগেই মহম্মদ আমির স্পট ফিক্সিংয়ে জড়ানোর কথা স্বীকার করেছিলেন।
তৎকালীন অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি চড় মারার পরে আমির স্পট ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করে নেন, পাকিস্তানের এক সংবাদ চ্যানেলে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। রাজ্জাক আরও বলেন, ‘সে সময় আমি আর আফ্রিদি হোটেলের এক রুমে থাকতাম। একদিন আফ্রিদি আমাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। আমি বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই চড়ের শব্দ শুনতে পাই। আর এই ঘটনার পরেই আমি সব কিছু স্বীকার করে নিয়েছিল।‘

রাজ্জাক এই সময় পাকিস্তানের বোর্ড কর্মকর্তাদের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে রাজ্জাক বলেন, ‘আমার মনে হয় সে সময় আইসিসির কাছে নিজেদের দক্ষতা দেখাতে না গিয়ে পিসিবির উচিৎ ছিল অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটারের দিকে নজর দেওয়া। তাদের অভিযোগ অস্বীকার করা সত্ত্বেও দেশে ফেরত আনা। ওদের এক বছরের জন্য নির্বাসিত করাও উচিত ছিল। এ সব না করে শেষ পর্যন্ত পিসিবি বিশ্বের সামনে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।’

বিজ্ঞাপন

তবে এখানেই থামেননি রাজ্জাক। ফাঁস করেছেন আরও অনেক তথ্য। তিনি জানান ইংল্যান্ড সিরিজই প্রথম সিরিজ নয় যেখানে সালমান বাট ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত হয়েছিল। এর আগে আমি আফ্রিদিকে বলেছিলাম যে আমি ইচ্ছা করে ডট বল খেলে মাঠে। আফ্রিদি তখন আমাকে হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিল এসব নাকি আমার মনের ভুল।

উইন্ডিজের সাথে এক টি-টোয়েন্টিতে সালমানের সাথে আমি ব্যাট করার সময় আমি বুঝতে পারি এই ম্যাচে ও আমাদের হারাবে। আমি তখন এগিয়ে গিয়ে ওকে বলি, ‘সিঙ্গেল নিয়ে আমাকে স্ট্রাইক দাও।’ কিন্তু সালমান আমার পরামর্শ মতো খেলেনি। প্রত্যেক ওভারে দুই থেকে তিন বল ডট দিয়ে আমাকে স্ট্রাইক দিচ্ছিল। পরে আমি চাপ নিতে না পেরে আউট হয়ে যায়।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির আর মোহাম্মদ আসিফকে নানান মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে কেবল আমিরই ফিরে এসেছে পাকিস্তানের স্কোয়াডে। আর বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিয়েও খেলছেন।

বাংলাদেশের দর্শকরা বিশ্বকাপের সব ম্যাচ অনলাইনে কোনো ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি বা চার্জ ছাড়াই দেখতে পারবেন র‍্যাবিটহোলের ওয়েবসাইট www.rabbitholebd.com-এ। এছাড়া র‍্যাবিটহোলের অ্যাপেও দেখা যাবে প্রতিটি ম্যাচ। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/UNCWS2 (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে। তাছাড়া আইওএস ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/vJjyyL (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে।

আরও পড়ুন: টনটনে টাইগারদের ছুটির আমেজ

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন