বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

জঙ্গিবাদ দমনে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চাইলেন ডিএমপি কমিশনার

জুন ১৩, ২০১৯ | ২:৩৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও সহযোগিতা চাইলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন মিলনায়তনে 'সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের করণীয়' শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনারে তিনি এ সহযোগিতা চান। অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘হলি আর্টিজানের ঘটনার পর মহানগরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ কৃতিত্বের দাবিদার শুধু পুলিশ নয়, জনগণও। একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণ যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করছে সেভাবে যদি জনপ্রতিনিধিরাও সহযোগিতা করেন তাহলে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ থাকবে না। তাই জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে বলতে চাই, জঙ্গিবাদকে আপনারা ভয় পাবেন না। কারণ আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার কোনো সুযোগ নেই জঙ্গীদের। তাই ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। অপশক্তি রোধে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। উগ্রবাদ প্রতিরোধে আমাদের এক দশক সময় লেগেছিল। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধেও জনপ্রতিনিধিদের সচেতন হতে হবে। এজন্য আমরা বিট পুলিশিংসহ তিন শতাধিক পুলিশিং কমিউনিটি ফোরাম গঠন করেছি। মাদক, ইভটিজিং, অজ্ঞানপার্টিসহ সকল অপকর্ম প্রতিরোধে আমরা জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চাই।

বিজ্ঞাপন

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘পাড়া-মহল্লায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা কাজ করতে পেরেছি। তাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আমরা সক্ষম হয়েছি। এবার ঈদে ছিনতাই কিংবা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার ঘটনা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। নাগরিকদের নিয়ে আমরা যে পেট্রলিং চালু করেছি সেটি পুলিশের একার পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন জনগণের সমন্বিত প্রয়াস।’

কমিশনার বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী ২০১৫ সালে হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরকে পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের কাছ থেকে রেহাই পায়নি ভাইহারা বোনটিও। কিন্তু সেই সন্ত্রাস দমন করা হয়েছে। তবে পুলিশ একা করেনি। দেশের জনগণের সহযোগিতা ছিল। এমন ঘটনার যেনো পুনারাবৃত্তি না হয় সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে কমিশনার বলেন, ‘আগে নগরীর সমস্যা সমাধানে চিঠি চালাচালি করতে দু’দিন পার হয়ে যেতো। কিন্তু এবার সিটি করপোরেশন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করেছি। নগরীর কোনো সড়কে পানি জমলে, কিংবা রাস্তা ভাঙ্গা অথবা অন্য যেকোনো সমস্যায় মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে গিয়ে কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, নাগরিক দুর্ভোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ।’

বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করি। তাদের জেল-হাজতে পাঠিয়ে বিচার প্রত্যাশা করি। কিন্তু বিচার কাজের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে ফের একই কাজে লিপ্ত হয়। ’

তিনি অভিবাকদের সতর্ক করে বলেন, ‘আপনার সন্তান আবদ্ধ রুমে ইন্টারনেটে কী করছে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, ইন্টারনেটে শান্তির ধর্ম ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে কেউ কেউ। আর এটিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে দ্বন্দ-সংঘাত।’

সারাবাংলা/এসএইচ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন