বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সার্বজনীন পেনশনে কর্তৃপক্ষ গঠন শিগগিরই

জুন ১৩, ২০১৯ | ৪:০২ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

সংসদ ভবন থেকে: সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এখন দেশের সাধারণ মানুষদের জন্যও পেনশন চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর জন্য খুব শিগগিরই ‘ইউনিভার্সাল পেনশন অথরিটি’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনের সময় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ পরিকল্পনার কথা জানান। শুধু তাই নয়, পেনশন পেতে যেন কোনো ধরনের হয়রানি না হয়, সেজন্য ডিজিটাল পদ্ধতি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে পেনশন দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাজেট বক্তৃতায় পেনশন দেওয়ার পদ্ধতি সহজ করার প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, মাসে মাসে ব্যাংক বা হিসাবরক্ষণ অফিসে হাজিরা ছাড়াই পেনশনাররা যেন তাদের ব্যাংক বা মোবাইল হিসাবে পেনশন পেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে ২৭ হাজার পেনশনারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইএফটি’র মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যেই সব পেনশনারকে এই কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ বীমার আওতায় আনার কথা জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য গ্রুপ ইনস্যুরেন্স নামে একটি ব্যবস্থা থাকলেও এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো বীমা নয়। সব কর্মচারীকে বীমার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রচলিত ব্যবস্থার সংস্কার করে জীবন বীমা করপোরেশনের সহযোগিতায় সমন্বিত একটি বীমা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

দেশের সব মানুষের জন্য পেনশন চালুর লক্ষ্যের কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি পেনশন যারা পান, তারা দেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি ভগ্নাংশ মাত্র। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতসহ দেশের সব মানুষের জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এর জন্য একটি ইউনিভার্সেল পেনশন অথরিটি শিগগিরই গঠন করা হবে।

এর আগে, বিকেল ৩টায় চিরাচরিত কালো ব্যাগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে অর্থমন্ত্রী শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বসে বক্তৃতা দেওয়ার অনুরোধ জানান। স্পিকার সম্মতি দিলে তিনি বসে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন।

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামের বাজেট উপস্থাপনের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী মাল্টিমিডিয়া প্রজেকশনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থসামাজিক বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হয়।

এর আগে, সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামাল এই প্রথম কোনো বাজেট উপস্থাপন করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের এটি টানা একাদশ বাজেট। এর আগের ১০টি বাজেটই উপস্থাপন করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার সর্বশেষ মেয়াদে মুস্তফা কামাল পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন