বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০১৯ ইং , ৬ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

আমি উত্তাপ দেখাতে চেয়েছি, আগুন নয়: ফারুকী

জুন ১৩, ২০১৯ | ৪:৪১ অপরাহ্ণ

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক

বাংলাদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার এবং প্রযোজক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বাংলাদেশের নিউ ওয়েব সিনেমার অন্যতম নেতৃত্বস্থানীয় মানুষ হিসেবে বিবেচিত তিনি।

‘মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া থেকে উজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসা পরবর্তী চলচ্চিত্রকার’- ফারুকীর টেলিভিশন ছবিটি মুক্তির সময় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিষয়ক বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম হলিউড রিপোর্টার এই মন্তব্য করেছিল।

বিনোদন বিষয়ক আরেক বিখ্যাত ম্যাগাজিন ভ্যারাইটি’র জে উইসবার্গ লিখেছিলেন- বাংলাদেশের নিউ ওয়েব চলচ্চিত্র আন্দোলনের প্রধান উদাহরণ হলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন ছবি ‘শনিবার বিকেল’ আবারও একটা আওয়াজ তুলেছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনে। মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর সম্প্রতি সিডনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। সেখানে ফারুকী একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এশিয়ান ফিল্ম প্লাসে। ছবির নানান বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পানোস কতজাথানাসিস।

ফারুকী, ‍তুমি সম্ভবত বাংলাদেশের প্রখ্যাত পরিচালক। যদি তাই হয় এবং তুমি যদি হও তোমার দেশের সিনেমার প্রতিনিধি, এই বিষয়টি তোমাকে চাপে ফেলে কি না?

এই তকমা দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ, কিন্তু আমি জানি না আসলে আমি প্রখ্যাত নাকি অখ্যাত। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে আমি ভাবিনি কখনো। কিন্তু প্রতিটি শিল্পী নির্দিষ্ট সময় এবং স্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে। সেই দৃষ্টিকোন থেকে হতে পারে আমি আমার সময়ের আমার স্থানের গুরুত্বপূর্ণ কেউ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার

তোমার দেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা এখন কেমন?

বর্তমান সময় তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয়। চলচ্চিত্রে তার প্রভাব রয়েছে। আমরা এখন চলচ্চিত্রের রুপান্তর যুগে রয়েছি। বেশ কিছু নতুন নির্মাতা এসেছেন চলচ্চিত্রাঙ্গনে। তাদের স্বপ্নগুলো যেমন নতুন তেমনি বিচিত্র এবং অনেক বড়। যদি সেই স্বপ্ন পূরন হতে থাকে এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে আমরা তাড়াতাড়ি ভালো চলচ্চিত্রের দেশ হয়ে উঠব।

ঢাকায় ঘটে যাওয়া ২০১৬ সালের এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে তুমি কেন বেছে নিলে?

দেখো, চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালক হিসেবে আমি অনেক রকমের গল্প এবং চরিত্রের সঙ্গে বসবাস করি। এই গল্প এবং চরিত্রগুলোর মধ্যে কোনো একটি গল্প বা চরিত্র আমার সঙ্গ ছাড়ে না। তারা রয়ে যায় আমার দৈনন্দিন জীবনে। সেই গল্প বা চরিত্র আমাকে ঘুমোতে দেয় না। তখন আমি সেই গল্প এবং চরিত্র নিয়ে কাজ করতে শুরু করি। সেই কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কেমন যেন জ্বর অনুভব করি। কাজটি শেষ হয়ে গেলে সেই জ্বর নেমে যায়। এমন কিছু অনুভূতির মধ্যে দিয়ে তৈরি হয় আমার গল্প বা চরিত্র নির্মাণ।


আরও পড়ুন :  ভাগ্যবঞ্চিত একব্যক্তির কাহিনী নিয়ে ‘সুড়ঙ্গ মাসুদ’


‘শনিবার বিকেল’ ছবিতে আছে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধর্ম, উৎস, নারীর দেশসহ আরও কিছু বিষয়। এগুলো নিয়ে তুমি তোমার ছবিতে কী ধরনের মত পোষণ করেছ?

ছবিতে টেরোরিস্ট কিছু চরিত্র আছে। কিন্তু আমার মনে হয় ছবির আরও অনেক চরিত্র আছে, যাদের নিয়ে আমাদের কথা বলা উচিত যেমন রাইসা, মোজাম্মেল, শহীদুল এবং সেফ। তাদের প্রতিরোধশক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টেরোরিস্টদের হাস্যকর ও গোড়াযুক্তির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ এই ছবির অন্যতম শক্তি। ভিন্ন ভিন্ন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের এমন সব মানুষদের জন্যই পৃথিবী এখনো বাসযোগ্য। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমার এই সিনেমা। আর এই মতটাই ছবিতে আমি পোষণ করেছি।

সিডনি

ছবিটির দৃশ্যধারণ ‘সিঙ্গেল শুটে’ হয়েছে। এই মাধ্যমটি কেন বেছে নিলে। এই প্রক্রিয়াটি কতটা কঠিন ছিল?

‘শনিবার বিকেল’ সিঙ্গেল শট পয়েন্ট অব ভিউ-তে শুট করার পরিকল্পনা ছিল আমাদের। কিন্তু পরে সেটা পরিবর্তন হয়েছে। আমি এবং আমার ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফার এগেইনস্ট পয়েন্ট অব ভিউ অ্যপ্রোচ-এ শুট করার সিদ্ধান্ত নেই। তারপর আমাদের ছবির ভিজ্যুয়ালকে দুটি ভাগে ভাগ করি। যার একটি হলো ছবির ভিজ্যুয়াল লুক এবং এডিটিংয়ের ছন্দ। অর্থাৎ যেহেতু এটি সিঙ্গেল শট সিনেমা, তাই এর এডিটিং হবে ক্যামেরার গতি নির্ণয়ের মাধ্যমে।

ধরুন আমরা কোনো কিছু থেকে ক্যামেরা প্যান করেছি, সেটা মূলত এডিট করা হয়েছে। এভাবে আমরা অনেক কিছুই অনুমান করে করে দৃশ্যধারণ করেছি। অনেক ধরণের ধারণা আমাদের কাজ করছিল। যার অনেক কিছু আমরা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, অনেকগুলো পারিনি। এমন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আমরা ঢাকায় শুটিং শেষ করেছি।

ছবিতে তুমি বন্দুক থেকে গুলি বের হওয়ার দৃশ্য দেখাওনি। অর্থাৎ তুমি গুলি চালানোর দৃশ্য দেখাওনি। কিন্তু গুলিবিদ্ধ মানুষের ছবি দেখিয়েছ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মুহূর্তের ছবিও দেখিয়েছ। কেন?

কারণ আমি আগুনের চেয়ে আগুনের উত্তাপ দেখাতে বেশি পছন্দ করি।

ছবিতে বিভিন্ন দেশের অভিনয়শিল্পীরা রয়েছেন। অভিনয়শিল্পী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটা কেমন ছিল?

অধিকাংশ স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা অভিনয়শিল্পী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব দেন। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমার জন্য কাস্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য আমি অনেক সময় ব্যয় করেছি। আসলে একটা সময় আমি নিজেই চরিত্রগুলোতে অভিনয় করি এবং অভিনয়শিল্পী খুঁজি। পেয়ে গেলে তাকে আমি কাস্ট করি, না পেলে নিজেকে সংযত করে আবারও শিল্পী খুঁজতে থাকি।

তুমি কী অন্য কোনো ছবি নিয়ে কাজ করছ?

হ্যাঁ, আমার পরবর্তী সিনেমা ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’। ছবিটির শুটিং শুরু হবে চলতি বছরের শেষ দিকে। ছবিতে অভিনয় করবেন নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী। ছবিটির সহ-প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন তিনি।

সারাবাংলা/পিএ/পিএম


আরও পড়ুন :  বর্ণবৈষম্য নিয়ে ছবি করছেন বানসালী


বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন