বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

পুলিশের কক্ষেই ঘুম ও নাস্তা ওসি মোয়াজ্জেমের!

জুন ১৭, ২০১৯ | ৪:১৬ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে রোববার (১৬ জুন) বিকেলে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর রাখা হয়েছিল শাহবাগ থানায় পুলিশ অফিসারদের কক্ষে। সেখানেই রাত কেটেছে তার। পরদিন সোমবার (১৭ জুন) সকালে প্রিজন ভ্যানে তোলার আগ পর্যন্তও সেখানেই ছিলেন তিনি। রাতের ঘুম, সকালের নাস্তাসবই তাকে সারতে হয়েছে পুলিশ অফিসারদের সেই রুমেই।

বিজ্ঞাপন

শাহবাগ থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোমবার সারাবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এসআই জানান, থানায় সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়, মোয়াজ্জেমের সঙ্গেও তেমন আচরণ করা হয়েছে। তবে হাজত খানায় অন্য আসামির সঙ্গে না রেখে তাকে ঘুমাতে দেওয়া হয় অফিসারের কক্ষে। এমনকি সকালে তিনি নাস্তাও সেরেছেন পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাহবুবুর রহমানের কক্ষে।

আরও পড়ুন: জামিন নাকচ, ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই থানার আরেক এসআই জানান, শাহবাগ থানায় ওসি মোয়াজ্জেম রাত কাটিয়েছেন বেশ আরামেই। অন্য কয়েদিদের সঙ্গে রাত কাটাতে হয়নি তাকে। তার খাবারও পরিবেশন করা হয়েছে আলাদাভাবে।

এ বিষয়ে জানতে পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালে অফিসে ছিলেন না বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন মাহবুব।

বিজ্ঞাপন

ওসি আবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সারাবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়েছি। বিষয়টি এখন আর আমাদের কাছে নেই। ’

অধ্যক্ষের কাছে শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। ওই সময় নুসরাত যখন কথা বলছিলেন, তার কথপোকথনের সময়কার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম। থানায় নুসরাতকে হয়রানির এ ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

এই মামলায় গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফেনী, ঢাকা, রংপুর ও কুমিল্লায় একের পর এক অভিযান চালিয়েও সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে জামিন নিতে এলে রোববার তাকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

সোমবার সকালে ফেনী জেলা পুলিশ ও শাহবাগ থানা পুলিশ কঠোর নিরাপত্তায় মোয়াজ্জেমকে শাহবাগ থানা থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতের সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসলাম জগলুল হোসেন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সারাবাংলা/টিএস/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন