বিজ্ঞাপন

মুমিনুলের চ্যালেঞ্জটা ছিল তাঁর নিজের সঙ্গেই

February 1, 2018 | 6:51 pm

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম থেকে

বিজ্ঞাপন

 

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে এভাবে নিশ্চয় সংবাদ সম্মেলনে আসতে চাননি। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি যখন হাতছানি দিচ্ছিল, কালকের সঙ্গে মাত্র ১ রান যোগ করেই আউট হয়ে গেলেন! মুমিনুল হক নিজেই স্বীকার করছেন, একটু ‘ক্যাজুয়াল’ ছিলেন হয়তো। তবে এমন ইনিংসের চ্যালেঞ্জটা যে নিজের কাছেই ছিল, অন্য কারও জন্য নয়, তাও বললেন জোর দিয়ে।

বিজ্ঞাপন

কাল অপরাজিত ছিলেন বলেই প্রচারমাধ্যমের সামনে হয়তো আসেননি। আজ যখন এসেছেন, স্বপ্নভঙ্গের বেদনা হয়েছে তার অনেক আগেই। কে জানত, আজকের সকালে ইনিংসের আয়ু হবে মাত্র কয়েকটা বলের। হেরাথের যে বলে আউট হয়েছেন, ক্যাচটা ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে রিফ্লেক্সের জোরেই ধরে ফেলেছেন কুশল মেন্ডিস। তবে ভাগ্য-টাগ্য নয়, মুমিনুল দায় দেখছেন নিজেরই। ‘ক্যাজুয়াল’ না থাকলে হয়তো ওই সময় আউট হতেন না, মনে করিয়ে দিলেন।

কিন্তু ঘুরেফিরে কালকে সেঞ্চুরি করার পর সেই উদযাপনের প্রশ্ন এলোই। যেভাবে হাত মুঠো পাকিয়ে শুন্যে ছেড়েছেন, শরীরী ভাষায় যেমন বুনো উল্লাস ছিল, তা তো ঠিক তাঁর সঙ্গেই যায় না। সেটা কি তাহলে বিশেষ কাউকে বার্তা দেওয়ার জন্য ছিল? মুমিনুল জোর দিয়েই তা অস্বীকার করলেন।

বিজ্ঞাপন

‘স্পেসিফিক কোনো কারণ ছিল না, আপনারা যেভাবে মনে করছেন ওরকম কিছু না। চ্যালেঞ্জটা নিজের কাছে ছিল, যেটা বললাম। অনেক দিন ধরে ১০০ করতে পারছিলাম না। এটা করতে পারায় অনেক ভালো লেগেছে।’

কিন্তু শ্রীলঙ্কা দলে প্রতিপক্ষ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে আসার পর টেস্টে বড় স্কোরই পাননি। টেকনিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, পায়ের নিচে মাটি হয়ে গেছে নড়বড়ে। এই স্কোর কি একটা জবাব নয়? মুমিনুল এবারও এসব এড়িয়ে গেলেন, ‘না, ওইরকম কোনো চিন্তা ভাবনা ছিল না। আগে যেসব টেস্ট খেলেছি, ৬০-৭০-৮০ করেছি আউট হয়েছি বার বার। আমার নিজের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল আমি বড় স্কোর করব।’

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এতদিন সেটা না আসার কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছিল? মুমিনুলের ব্যাখ্যা, ‘আগে যে ভুলটা হয়েছে আমার মনে হয়েছে আমি হয়তো নিজের জন্য খেলেছি। বিশেষ করে ৭০-৮০ তে যাওয়ার পর। ওই জিনিসটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছি। এখন সেশন বাই সেশন ফোকাস করেছি। তাহলেই অটোমেটিক আপনার দেড়শ হবে।’

২০০ করতে না পারার হতাশা তো আছেই। মুমিনুল নিজেই যখন বলেছেন, আজ তিনি অন্তত এক সেশন করতে পারলে বাংলাদেশের স্কোর ৬০০ ছাড়িয়ে যেতে পারত। কিন্ত তারপরও এমন একটা ইনিংস খেলার পর তৃপ্তিটা এড়িয়ে গেলেন না।

বিজ্ঞাপন

‘অবশ্যই সন্তুষ্ট। আপনি যখনই একটা বড় ইনিংস খেলবেন... আমি যদি বলি আমি সন্তুষ্ট না তাহলে ভুল বলা হবে। আমি যতটুকু খেলেছি আমার কাছে ভালো লেগেছে।’

বিকেএসপির শিক্ষক ও কোচ সালাহউদ্দিনের সঙ্গে বিপিএলের পর নিজের টেকনিক নিয়ে কিছু কাজ করেছেন, তা জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন নিজেই। টেস্টে সেটার ফল তো হাতেনাতেই পেলেন মুমিনুল। সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য সেটি স্বীকার করলেন না, বরং জোর দিয়েই বললেন নিজের ‘চিন্তাভাবনার’ জায়গার ওপরেই বেশি জোর দিয়েছেন।

কিন্তু ঠিক কোন মানসিকতাটা নিয়ে কাজ করেছেন? সেটা আর ভেঙে বললেন না মুমিনুল। সেটা অবশ্য না-ই বলতে পারেন। ডাবল সেঞ্চুরির জন্যই তা না হয় তোলা রইল!

সারাবাংলা/ এএম

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন