শুক্রবার ১৯ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৪ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের ভীতিকর বিপজ্জনক ২০ সেতু

জুন ১৮, ২০১৯ | ৬:০৩ অপরাহ্ণ

রাস্তাঘাটে চলতে অনেকেরই বেশ অসুবিধা হয়। তায় যদি হয় কোনও উঁচু-নিচু আঁকাবাঁকা পথ তাহলেতো কথাই নেই। কিন্তু সে পথ যদি হয় ভীতিকর কিংবা বিপজ্জনক কিছু, তাহলে? নির্ঘাত পেটগুলিয়ে বমি করে দেয় সামান্য ভিতুরাও। আর সামান্যেই যারা ভিতু তাদের তো এ পথ মারাতেই নেই। প্রিয় পাঠক আসুন আপনাদের বিশ্বের ভীতিকর ও বিপজ্জনক কিছু সেতুর কথা জানাই, যেগুলোতে চড়াতো দুরের কথা দেখলেই ভয় লাগে।

অগিলি ড্যু মিডি, ফ্রান্স
অগিলি ড্যু মিডি কথাটির আভিধানিক অনুবাদ হচ্ছে মধ্যদুপুরের সুঁচ। ফ্রান্সের এই সেতুটি মূলতঃ ভূমি থেকে ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় তৈরি। পাহাড়ের এক চূঁড়া থেকে আরেক চূড়ায় যাওয়ার জন্য তৈরি এই সেতুকে যে কেউ উঠতে পারেন, তবে নিজ দায়িত্বে। মাঝপথে জ্ঞান হারালে কারোই কিছু করার থাকবে না। কারণ সেখানে অন্যরাও নিজেকেই সামলাতে ব্যস্ত থাকেন।

হুসাইনি ঝুলন্ত সেতু, পাকিস্তান
এই সেতুকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক সেতু বলেই মনে করেন অনেকে। পুরো সেতুটিতে পাটাতন বলে কিছু নেই। বেশ খানিকটা দূরে দূরে একটি করে কাঠের পাত লটকে দেওয়া হয়েছে রশির সাথে। তাতেই পা ফেলে ফেলে পার হতে হয় পাকিস্তানের খরস্রোতা হামযা নদী। এই সেতুর ভবিষ্যত কী তা পাশের সেতুটির ধ্বংসাবশেষই বলে দেবে। ওটিও এক সময় এমন একটি সেতু ছিলো যা দিয়ে এই নদী পার হতে হতো।

লেক পন্টচারট্রেইন কজওয়ে, লুজিয়ানা
বিশ্বের দীর্ঘতম এই সেতু সমুদ্র ঢেউয়ের মাত্র ১৬ ফুট উঁচু দিয়ে বয়ে গেছে। এই সেতুতে সখের বসে একবার উঠেছেন কী, একটু পরেই পেছনে ফেলে আসা জগৎকে বিদায় জানাতে শুরু করবেন। ১৯৫০ সালে তৈরি এই সেতু মূলত সমুদ্র পথে ম্যান্ডেভিল ও মিতাইরিকে সংযুক্ত করেছে। তখন থেকেই বিশ্বের অন্যতম ভীতিকর সেতুর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে এই লেক পন্টচারট্রেইন কজওয়ে।

বিজ্ঞাপন

ক্যানোপি ওয়াক, ঘানা
বৃষ্টিপ্রধান ক্রান্তীয় জঙ্গলপথে সাধারণ হেঁটে চলার সঙ্গে এই সেতুপথে হাঁটার তুলনা করলে ভুল করবেন। ভূমি থেকে ৪০ ফুট উঁচুতে তৈরি এই সেতুপথ মূলত বড় বড় গাছের ডালপালার ভেতর দিয়েই চলে গেছে। আর সেখানে আশেপাশে ডানা ঝাপটায় পাখির দল। ভেংচি কাটে বানরেরা। ভয় পেলেন আর উল্টো দৌড় লাগিয়ে বাঁচলেন, তেমনটা ভেবেও ফায়দা নেই। কারণ সেও প্রায় আধাকিলোমিটার পথ।

লাঙ্কাবি আকাশ সেতু, মালয়েশিয়া
ভূমি থেকে ৪০০ ফুট উঁচুতে তৈরি এই সেতুকে আকাশ সেতু বলাটাই ঠিক আছে। মাঝে বছর দুয়েক সেতুটি বন্ধ রাখার পর আবার চালু করা হয়েছে। কিন্তু জানেন কি, কেনো বন্ধ রাখা হয়েছিলো? ধারনা করা হচ্ছে যে কোনও সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে এই সেতু। সুতরাং উঠতে গেলে ভেবে চিন্তে নিজের দায়িত্বেই উঠতে হবে।

মাউন্ট টিটলিজ, সুইজারল্যান্ড
আচ্ছা ভূমি থেকে ৩০০০ মিটার উচ্চে কোথাও আপনি দাঁড়িয়ে। যেটির ওপর আপনার দুই পা সেটি অনবরত দুলছে। আর দূরে চোখে পড়ছে আল্পস পর্বতমালা। কেমন হবে বিষয়টি? থ্রিল আছে। তবে ভয়েরও বটে। তবে ভয়কে জয় করে অনেক স্কি প্রেমি ও পর্বতারোহী এই সেতু পাড়ি দিয়েই আল্পসে যায়। আর দাবি করা হয়, যতই ভয়ঙ্কর লাগুক, সেতু হিসেবে এটি বিশ্বের নিরাপদতম সেতুগুলোরই একটি।

ভিতিম নদীর সেতু, রাশিয়া
বাঙালি হয়তো ভিতিম নামেই ভয় খুঁজে বসবেন। কিন্তু শুধু নামে নয় কাজেও এক ভীতিকর সেতু এটি। ছবিতেই দেখুন না! এ পর্যন্ত খুব কম জনই এই সেতু গোটা পাড়ি দিয়ে ওপাড়ে যেতে পেরেছেন। এই সেতুতে নেই কোনও রেলিং। আর বছরের অনেকটা সময় থাকে বরফঢাকা। আরও জানিয়ে রাখি সেতুটি এখানে ওখানে ফুটো-ফাটাও রয়েছে। সুতরাং পড়ে গেলে একেবারে ভিতিম নদীর গভীরে।

পন্টে ডি ওজুয়েলা, মেক্সিকো
নিচে বিশাল বিশাল খনিগুলোতে খননের কাজ চলছে। তার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই সেতু এখন স্রেফ পায়েচলা পথ। গাড়িগুলো উঠতে ভয় পায়, পাছে সেতু পার হওয়ার আগেই পাটাতন ভেঙ্গে নিচে পড়ে যায়। হাঁটাপথে অনেক পর্যটকই এখন এই সেতুতে চড়ে এপাড়-ওপাড় করেন। কিংবা সেতুতেই ঘুরে বেড়ান। তবে এটিকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পায়েহাঁটা পথ বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে।

কোয়েপস ব্রিজ, কোস্টারিকা

স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছে ‘ব্রিজ অব ডেথ’। আর এটি এক ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদও বটে। এর পুরো কাঠামো জুড়ে পাটাতন কোথাও আছে কোথাও নেই। ফলে এখানে ওখানে বড় বড় ফাঁকা। যার প্রতিটিই একেকটি মৃত্যুফাঁদ।

সানশাইন স্কাইওয়ে ব্রিজ, ফ্লোরিডা
১৯৮০ সালে পুরোনো সেতুটির একটি পিলারের সঙ্গে বিপুলাকায় একটি তেলের ট্যাঙ্কার আঘাত হানলে তা ভেঙ্গে পড়ে। আর দুর্ঘটনায় মারা যায় ৩৫ জন। পরে ১৯৮৭ সালে সেটি ফের বানানো হয়। তবে এর পর থেকে এই সেতু হয়ে ওঠে ভীতির আরেক নাম। তবে তা যে কেবল এর কাঠামোগত কারণে, তা কিন্তু নয়। কানে কানে বলে রাখি সেতুটির ওপর থেকে লাফিয়ে এ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছে অন্তত ২০০ জন। সুতরাং সাধু সাবধান।

এশিমা ওহাশি ব্রিজ, জাপান
এই সেতুর ওপর দিয়ে চললে মনে হবে আপনি রোলারকোস্টারে চেপে বসেছেন। এই সেতুটি টানা ১৪৪ ফুট উঠে গেছে যার ঢাল মাত্র ৬.১ শতাংশ। দেখেই একে ভয়ঙ্কর কিছু মনে হবে। বাড়তি কিছু বলার প্রয়োজন নেই।

দ্য ব্রিজ অব ইমমোরটালস, হুয়াং শাং, চায়না
পাহাড়ে পাহাড়ে সংযোগ ঘটানো এই সেতু দিয়ে আপনি যদি একবার এপাড় ওপাড় হতে পারেন, তো নিজেকে বিজয়ী ভাবতে পারবেন। পাহাড়ের সৌন্দর্য্য দেখাই কেবল নয়, এই সেতুটি পাহাড়ের এতটা উচ্চতা দিয়ে তৈরি যে, আপনার মনে হবে মেঘের উপর থেকেই দেখছেন পৃথিবীটাকে, ঠিক যেমন ইশ্বর দেখেন! আরেকটা কথা সেতু পর্যন্ত যেতে পাহাড়ের যে পথ আপনাকে উঠতে ও নামতে হবে সেটিও কিন্তু হবে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।

মন্টেনেগ্রো রেইনফরেস্ট, কোস্টারিকা
বৃষ্টি অরণ্যের উঁচু উঁচু গাছের ডালে ডালে ঘুরে সেই সুদৃশ্য জঙ্গল দেখতে পাওয়ার সুযোগ পেলে বিষয়টা কেমন হয়? কোস্টারিকার এই সেতুটি আপনাকে সে সুযোগ করে দেকে। তবে সাবধান, কোথায় কখন পা ফেলছেন খেয়াল রাখবেন। সেতুর পাটাতন বেশ ভাঙাচোরা, এখানে ওখানে পাটাতন খসেও পড়েছে।

উ বেইন ব্রিজ, মিয়ানমার
দেখে মনে হবে সেতুটি কেবল বানানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। পানির মধ্য থেকে উঠে আসা পিলারগুলোর ওপর প্রায় ১ কিলোমিটার বয়ে চলা এই সেতু আপনার মনে ভয় ধরিয়ে দেবে। তবে পর্যটকরা বেশ যাচ্ছেন এই সেতুতে।

স্টোরসিসানডেট ব্রিজ, নরওয়ে
রোলারকোস্টারে ওঠার পর সেটি যখন খাড়া নামতে থাকে তখন যদি ভয় না পেতে তার মজাটুকু লুটতে পারেন, নিঃসন্দেহে নরওয়ের এই সেতুতে চড়েও আপনার ভালো লাগবে। কোনও কোনও কৌনিক অবস্থান থেকে এই নেমে যাওয়া পথটিকে খুব ছোট বা সামান্য কিছুই মনে হয়, কিন্তু ছবিতে বিশ্বাস না করাই ভালো। একবার চড়ে দেখুন, বুঝতে পারবেন কতটা খাড়া হয়ে নেমে গেছে একেকটি ফ্লাইট।

ক্যারিক-অ্যা-রেডে রোপ ব্রিজ, উত্তর আয়ারল্যান্ড
সমুদ্র পাড়ের পাথরগুলো আর পানি থেকে ৩০ মিটার উঁচুতে তৈরি এই সেতু এতটাই ভয়ঙ্কর যে, একবার কেউ যদি এই পথ পাড়ি দিয়ে ওপারের দারুণ দ্বীপটি দেখতে যান, ফিরতি পথে আর সেতুতে উঠবেন না। বরং ফেরি চেপে ফিরবেন।

সিডু রিভার ব্রিজ, চায়না

ইস্পাতের তৈরি এই সেতুটিকে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পথে বয়ে চলা সেতু বলা হয়। নাম সিডু রিভার ব্রিজ হলেও সরু পাহাড়ি নদীর চেয়ে পাহাড়ি পথটাই বেশি। নিচে দেখা যাবে বিশালাকায় পাহাড়গুলো দাঁড়িয়ে। ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচে নির্মিত এই সেতু সংযোগ ঘটিয়েছে চীনের সাংহাই ও চংকিং প্রদেশের মধ্যে।

ডিসেপশন পাস ব্রিজ, ওয়াশিংটন
এ সেতু যেনো মিলিয়ে গেছে কুয়াশার রাজ্যে। পুরোপুরি কুয়াশায় ঢাকা পড়া একটি সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার মতো ভীতিকর আর কীই হতে পারে? তবে সেতো গাড়িচলা পথ। এই সেতুতে একটি পায়ে চলা পথও রয়েছে। যা মূল সেতু থেকে ১৮০ ফুট নিচে দিয়ে বয়ে গেছে। এই সেতু ওয়াশিংটন রাজ্যের ফিডালগো ও হুইডবে দ্বীপের সংযোগ ঘটিয়েছে।

মাঙ্কি ব্রিজেজ, ভিয়েতনাম
ভিয়েতনামে এহেন বানর সেতু যে একটা দুটো তা নয়। গোটা দেশটা জুড়ে এমন অনেক রয়েছে। কেবল বানরের পক্ষেই এমন সেতু অনায়াসে পার হওয়া সম্ভব, সে কারণে ওরা এগুলো বানর সেতু বলেই ডাকে। তবে স্থানীয়দের চলাচলে এগুলোই ভরসা। বাংলাদেশি পাঠক এ তথ্যে হাসছেন বটে। কারণ এমন বাঁশের সাঁকো বাংলাদেশে এখন তেমন একটা না দেখা গেলেও অতীতে বেশ ছিলো। এমন সাঁকো পার হওয়ার সময় বানরের মতোই দেখা যায়… তা মানতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়।

রয়্যাল জর্জ ব্রিজ, কলোরাডো
যুক্তরাষ্ট্রে এই সেতুটিকে রহস্যময় সেতু বলেই চেনে সবাই। এর এক অদ্ভুত ইতিহাসও রয়েছে। ১৯২৯ সালে এটি তৈরি হয়। আর এটিকে ঝুলিয়ে রাখার তারগুলো বসানো হয় তারও অন্তত ৫০ বছর পর। এখন এই সেতু অবশ্য পর্যটকদের আকর্ষণের জায়গা। যারা একটু বেশি সাহসী তাদের জন্য কেবল কার টুরও রয়েছে এই সেতুর উপর দিয়ে।

সারাবাংলা/এমএম

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন