বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

প্রোটিয়াদের হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে নিউজিল্যান্ড

জুন ২০, ২০১৯ | ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বকাপ ডেস্ক

বিশ্বকাপে নিজেদের শতভাগ জয় ধরে রাখতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে নামে নিউজিল্যান্ড। ওদিকে, টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জিততেই হতো ফাফ ডু প্লেসিসের দলটিকে। জয়ের হাসি কিউইদের। প্রোটিয়াদের ৪ উইকেটে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠেছে কেন উইলিয়ামসনের দলটি। তাতে টুর্নামেন্ট থেকে অনেকটাই ছিটকে গেল প্রোটিয়ারা।

বুধবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায় বার্মিংহামের এজবাস্টনে ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তখন বৃষ্টির কারণে মাঠ ভেজা থাকায় টস করা সম্ভব হয়নি। ম্যাচ দেরিতে শুরু হওয়ায় দুই দলই ৪৯ ওভার করে ব্যাট করার সুযোগ পায়। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই দলপতি কেন উইলিয়ামসন। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রোটিয়ারা নির্ধারিত ৪৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৪১ রান। জবাবে, ৪৮.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে কিউইরা। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন দলপতি উইলিয়ামসন।

২০১১ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল আর ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে কিউইদের কাছে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছিল প্রোটিয়ারা। এবারো অনেকটাই তাই।

ব্যাটিংয়ে নেমে প্রোটিয়া ওপেনার কুইন্টন ডি কক ব্যক্তিগত ৫ রান করে ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হন। আরেক ওপেনার হাশিম আমলা করেন ৮৩ বলে ৫৫ রান। ব্যক্তিগত ২৪ রান করে আমলা ওয়ানডেতে ৮ হাজারি ক্লাবের সদস্য হন। তিন নম্বরে নামা দলপতি ফাফ ডু প্লেসিস ২৩ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন। এইডেন মার্কারাম ৫৫ বলে করেন ৩৮ রান।

বিজ্ঞাপন

এরপর জুটি গড়েন ডেভিড মিলার আর ভ্যান ডার ডুসেন। লুকি ফার্গুসন ফিরিয়ে দেন ৩৭ বলে ৩৬ রান করা কিলার মিলারকে। ভ্যান ডার ডুসেন ৬৪ বলে দুটি চার আর তিনটি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৬৭ রান।

১০ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে একটি উইকেট পান ট্রেন্ট বোল্ট। ১০ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে একটি উইকেট পান কলিন ডি গ্রান্ডহোম। ১০ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট পান লুকি ফার্গুসন। ম্যাট হেনরি ১০ ওভারে ৩৪ রান খরচায় কোনো উইকেট পাননি। ৯ ওভারে মিচেল স্যান্টনার ৪৫ রানের বিনিময়ে তুলে নেন একটি উইকেট।

৪৯ ওভারে ২৪২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে কিউই ওপেনার কলিন মুনরো (৯) দ্রুতই বিদায় নেন। আরেক ওপেনার মার্টিন গাপটিল হিট উইকেটে নিজের ইনিংসের ইতি টানেন। তার আগে ৫৯ বলে পাঁচটি বাউন্ডারিতে করেন ৩৫ রান। চার নম্বরে নামা রস টেইলর ১, টম ল্যাথাম ১ রান করে বিদায় নেন। রানের চাকা সচল রেখে ফেরেন ২৩ রান করা জেমস নিশাম।

এরপর জুটি গড়েন কলিন ডি গ্রান্ডহোম আর তিন নম্বরে নামা দলপতি কেন উইলিয়ামসন। ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি হাঁকান উইলিয়ামসন। এই জুটিতে আসে ৯১ রান। গ্রান্ডহোম ৪৭ বলে ৫টি চার আর দুটি ছক্কায় করেন ৬০ রান। ৪৯তম ওভারে জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের দরকার হয় ৮ রান। ফেলুকাওয়োর করা শেষ ওভারের প্রথম বলে নতুন ব্যাটসম্যান মিচেল স্যান্টনার ১ রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন উইলিয়ামসনকে। দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে উইলিয়ামসন সেঞ্চুরি তুলে নেন। তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজ দলের জয়ও তুলে নেন তিনি। ৩ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। উইলিয়ামসন ১৩৮ বলে ৯টি চার আর একটি ছক্কায় ১০৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।

কেগিসো রাবাদা ১০ ওভারে ৪২ রান দিয়ে পান একটি উইকেট। ক্রিস মরিস ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে তুলে নেন তিনটি উইকেট। ১০ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন ইমরান তাহির। লুঙ্গি এনগিধি ১০ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে পান একটি উইকেট। ফেলুকাওয়ো ৮.৩ ওভারে ৭৩ রান দিয়ে তুলে নেন একটি উইকেট।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), মার্টিন গাপটিল, রস টেইলর, টম লাথাম (উইকেটরক্ষক), কলিন মুনরো, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনার, জিমি নিশাম, ম্যাট হেনরি, লুকি ফার্গুসন ও ট্রেন্ট বোল্ট।

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), হাশিম আমলা, কুইন্টন ডি কক, এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার, ইমরান তাহির, আন্দেইল ফেলুকাওয়ো, কাগিসো রাবাদা, ক্রিস মরিস, লুঙ্গি এনগিধি, ভ্যান ডার ডুসেন।

সারাবাংলা/এমআরপি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন