মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৮ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

অবসর কমেছে আমেরিকান নারীর: জরিপ

জুন ২১, ২০১৯ | ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

সঠিক শ্রম বণ্টন এবং নারী ও পুরুষের সমান শ্রম নিশ্চিত করতে সম্প্রতি একটি জরিপ চালিয়েছে আমেরিকার শ্রম বিভাগের অধীনে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো। এতে দেখা যাচ্ছে, পুরুষের তুলনায় নারীর শ্রমঘণ্টা আগের চেয়ে বেড়েছে।

এতে তাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের অবসর সময় কমে এসেছে।

‘দ্য অ্যানুয়াল আমেরিকান টাইম ইউজ সারভে’ শিরোনামে জরিপটি প্রতিবেদন আকারে বুধবার (১৯ জুন) প্রকাশ করে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।

জরিপে উঠে এসেছে, একজন কর্মজীবী মা তার সন্তানদের দিনে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় দেন। যেখানে বাবা সময় দেন এক ঘণ্টারও কম। দুই বছর আগের তুলনায় মা এই ক্ষেত্রে ১৫ মিনিট বেশি সময় দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

একজন কর্মজীবী নারী ২০১৮ সালে প্রতিদিন পৌনে চার ঘণ্টা অবসর সময় কাটাতে পারতেন। যেখানে কর্মজীবী মা অবসর সময় কাটিয়েছেন দৈনিক গড়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা। সে সময় একজন কর্মজীবী পুরুষ দিনে চার ঘণ্টা ৪০ মিনিট অবসর সময় পেতেন। কর্মজীবী বাবা পেতেন চার ঘণ্টা।

দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, নারী-পুরুষের কর্মঘণ্টায় সমতা আনতে তারা অনেকটাই সফল হয়েছে। ২০০৩ সালে জরিপ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরে তাদের এই মন্তব্য আরও জোড়ালোভাবে প্রচারণায় আসে। একজন আমেরিকান নারীকে দৈনিক সাত ঘণ্টা ২০ মিনিট কাজ করতে হয়। একজন পুরুষকে করতে হয় দৈনিক সাত ঘণ্টা ৫৪ মিনিট।

দাফতরিক কাজে নারীরা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও গৃহস্থালি কাজে তাদের পুরুষের তুলনায় বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। গত বছরের হিসাব অনুযায়ী, দিনে একজন পুরুষের তুলনায় নারীকে অন্তত আধাঘণ্টা বেশি সময় রান্না ও ঘর পরিষ্কারের কাজ করতে হয়।

গৃহস্থালি কাজে কেবল কর্মজীবী নারীর শ্রম বেড়েছে এমন নয়। ব্যস্ততা বেড়েছে গৃহিনীদেরও। গতবছর একজন মা প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় পেয়েছেন নিজের জন্য। বছর বছর এই সময় কমে আসছে। ২০০৩ সালে নারীরা নিজেদের জন্য অন্তত ১৫ মিনিট বেশি সময় পেতেন।

জরিপ বলছে, গৃহস্থালি কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ কমে আসায় তাদের অবসর সময় বেড়েছে। একজন কর্মজীবী পুরুষ দিনে চার ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় পান অবসর যাপনের জন্য। গত দুই বছরের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, পর্যায়ক্রমে এই সময় বাড়ছে। সন্তানদের সময় দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাবাদের খানিকটা উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী কেইটলিন কলিন্স সম্প্রতি কর্মজীবী নারীদের সন্তান লালন-পালনের চ্যালেঞ্জ বিষয়ক একটি বই লিখেছেন। বই লেখার জন্য বিভিন্ন বয়সী নারীদের সাক্ষাৎকার নিতে হয় তাকে। অনেক নারীই তাকে জানিয়েছেন, সংসার এবং কর্মক্ষেত্রে ভারসাম্য আনতে তাদের জীবন থেকে বিনোদন, ব্যায়াম এবং বন্ধুত্ব বাদ দিতে হয়েছে।

সারাবাংলা/আরএফ/এটি

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন