রবিবার ২১ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বৃক্ষমেলায় দেশি নয়, বিদেশি জাতের গাছের দাপট

জুন ২২, ২০১৯ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বাণিজ্য মেলার মাঠে এখন সবুজ আর সবুজ। হরেক রকমের ফুল আর ফলের গাছে ছেয়ে আছে গোটা চত্বর। কোথাও ছোট্ট একটি আম গাছে হয়তো ধরে রয়েছে ছোট-বড় আম, পাশেই কাঁঠাল গাছে ঝুলছে কাঁঠাল। পাশেই হয়তো ক্যাকটাস, আর জবা তাকিয়ে আছে হাসিমুখে।

আরও পড়ুন- ঘর সাজাতে গাছ, বৃক্ষমেলায় নগরচাষীদের ভিড়

এমনই সবুজের সমারোহ জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৯-এ। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চলছে মাসব্যাপী এই মেলা। পরিবেশ রক্ষায় মানুষকে গাছের গুরুত্ব বিষয়ে সচেতন করতে ও দেশীয় গাছের প্রজাতিগুলো টিকিয়ে রাখতেই মূলত এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তবে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় জাতের গাছগুলো গুরুত্ব হারিয়েছে মেলায়। নার্সারিগুলো ঝুঁকেছে বিদেশি গাছ ও হাইব্রিড জাতের গাছ চাষের দিকে।

বিজ্ঞাপন

এই আমলকির জাতটি থাইল্যান্ডের

বৃক্ষমেলা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের ফলের মধ্যে আম, পেয়ারা, বেল, লটকন, জাম্বুরা, মাল্টা, কমলা, কামরাঙ্গা, জামরুল, শরিফা, আতা, করমচা ও আমলকি গাছের উপস্থিতিই বেশি। তবে মেলায় এসব ফলের যেসব গাছ আছে, সেগুলো দেশি জাতের নয়। গাছগুলোর বেশিরভাগই হাইব্রিড— থাইল্যান্ড বা চায়না জাতের।

শুধু তাই নয়, সৌদি আরবের খেজুর থেকে শুরু করে থাই ড্রাগন, আমেরিকান অ্যাভোক্যাডো, চায়না পিচফল, ইউরোপের মালবেরি, দক্ষিণ আমেরিকান জাবাটিকাবা, থাই লংঙ্গানের মতো ফলের চারাও মিলছে বৃক্ষমেলায়। আকারে বড় ও দেখতে লোভনীয় বিদেশি এসব ফলের ভিড়ে দেশি জাতের ফলের গাছ খুঁজে পাওয়াই মুশকিল।

দেশে ইদানীং জনপ্রিয়তা পেয়েছে ড্রাগন ফল

শুধু ফল নয়, ফুল গাছের চারাতেও চিত্র একই। দেশি জাতের গাঁদা, বেলী, নয়নতারা, নন্দিনীর মতো কিছু ফুল গাছ চোখে পড়ছে মেলায়; তবে পরিমাণে নগণ্য। ফুল গাছ বলতেই নার্সারিগুলোতে চোখে পড়ছে থাই, ইন্ডিয়ান ও চায়না জাতের জবা, অর্কিড, পাতাবাহার, গাঁদা, জারবেরা আর ক্যাকটাস।

জাতীয় বৃক্ষমেলায় দেশীয় জাতের বদলে এমন বিদেশি জাতের ফল ও ফুল গাছের আধিক্য দেখে বিরক্ত দর্শনার্থীরা। মেলায় দেশি জাতের গাছকে অবহেলা করা হচ্ছে— এমন অভিযোগও উঠেছে। যদিও নার্সারিগুলো বলছে, কম সময়ে বাড়তি ফলনের কারণে বিদেশি জাতের চাহিদাই বেশি।

থাই জাতের এই পেয়ারার ফলন বেশি

পরিবার নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছিলেন আফরোজা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রামে বেড়ে উঠেছি দেশি গাছগুলোর সঙ্গে। ছেলেকে নিয়ে মেলায় এসেছিলাম দেশীয় গাছগুলোর সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দিতে। কিন্তু এখানে এসে দেখি প্রায় সবই বিদেশি গাছের চারা। সব ফল আর ফুলের গাছই নাকি থাই বা ইন্ডিয়ান।’

দেশি গাছ মেলায় কম কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে মহুয়া নার্সারি স্টলের বিক্রেতা ইকবাল হাসান সারাবাংলাকে বলেন, এখন সাধারণত সব গাছেই কলম দেওয়া হয়। তাছাড়া হাইব্রিড জাতের গাছগুলোতে ফলন ভালো হয়। বিদেশি জাতের গাছগুলোতে অল্প সময়েই ফল ধরে, ১২ মাসই ফল পাওয়া যায়। তাই এসব জাতের গাছের চারার চাহিদা বেশি। নার্সারিগুলোও বিদেশি জাতগুলোই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

ঘর সাজানোর জন্য এমন বিদেশি অর্কিডের চাহিদাই বেশি, বলছিলেন নার্সারির মালিকরা

জানতে চাইলে বাংলাদেশ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক খন্দকার মো. জাকারিয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের মেলার প্রধান উদ্দেশ্য দেশীয় জাতের গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি বিদেশি জাতের গাছ চাষে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া। আমরা বিদেশি ফুল ও ফল চাষে নার্সারির মালিকদের প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকি। মেলায় দেশি জাতের গাছ আছে, তবে দর্শনার্থীদের চাহিদা বিবেচনায় নার্সারির মালিকেরা দৃষ্টিনন্দন বিদেশি জাতের গাছের চারাই এনেছে বেশি।’

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) মাসব্যাপী এই বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষায় বন প্রতিবেশ, আধুনিক বাংলাদেশ।’ মেলায় মোট ১০৪টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ছয় প্রতিষ্ঠানের জন্য রাখা হয়েছে ১২টি স্টল। আর বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারির জন্য রয়েছে আরও ৯০টি স্টল। বাকি দু’টি স্টলের মধ্যে একটি মেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও অন্যটি তথ্যকেন্দ্র।

মেলায় ক্যাকটাসের বিভিন্ন প্রজাতির উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়

মেলা চলবে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য বৃক্ষমেলা উন্মুক্ত থাকবে।

সারাবাংলা/ওএম/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন