শুক্রবার ১৯ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৪ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

অতল সাগরেও ভয় নেই যে মেয়ের

জুন ২২, ২০১৯ | ১২:০২ অপরাহ্ণ

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

সমুদ্রের বিশালতায় ভয় ধরে যায়। মনে হয় যেন থৈ থৈ সমুদ্রের পানির সঙ্গে দুলছে ভয়গুলো। পড়ে গেলেই নিশ্চিত হাবুডুবু খেয়ে অনুভূতিগুলোর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে। সুন্দর তবে ভয়ঙ্কর মতান্তরে ভয়ঙ্কর সুন্দর সেই সাগরকে যে ভয় পায় না, তার আর কিসের ভয়!

‘আয়শা’ তেমনি একটি চরিত্র। এত বড় সমুদ্র ঘিরে তার জীবনযাপন। নীল সাগর আর নীল আকাশের মাঝখানে কখনো কখনো জীবনকেও ক্ষুদ্র আর অসহায় লাগে। কিন্তু আয়শা মাঝে মাঝে এগুলোর চেয়েও বড়।

খুব বেশি সাধারণ একটি চরিত্র আয়শা। সাগর পাড়ে বেড়ে ওঠা গরীব ঘরের এই মেয়ের শখ সার্ফিং খেলার। কিন্তু চাইলেই কি আর সব করা যায়! কারণ ভয়ঙ্কর সমুদ্রের চেয়েও আয়েশার কাছে বড় ভয় হয়ে দাড়ায় তার চারপাশের মানুষ আর সমাজ। এমন একটি জায়গায় আয়েশার এগিয়ে যাওয়ার গল্প নিয়েই সিনেমা ‘ন ডরাই’।

সাগরের চেয়েও বড়, আয়েশার মনের শক্তি। এমন একজন নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল। ‘ন ডরাই’ তার প্রথম সিনেমা। তবে ক্যামেরার সামনে তিনি প্রথমবার নন। সুনেরাহ্‌র সিনেমায় আসার আগের গল্পটা আয়েশা চরিত্র থেকে একেবারেই বিপরীত।

বিজ্ঞাপন

আয়েশা চরিত্রটা যতটা শক্তিশালী পক্ষান্তরে নন-গ্ল্যামারাস, সুনেরাহ্‌র ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে ততটাই গ্ল্যামার দুনিয়ায়। আট বছর ধরে তিনি আছেন মডেলিংয়ে। বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাকে। সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসানের ‘রাজকুমার’ গানটির মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন তিনি। লেখাপড়া শেষ করে সাড়ে চার বছর ধরে একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হাউজে চাকরি করছেন। চারিদিকে তার আলোর ঝলকানি।

তাই আয়েশা চরিত্রটি তাই তার কাছে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। এমনটাই বলছিলেন সুনেরাহ্‌, ‘আমি গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে কাজ করি। আমার চারিদিকে আলোর ঝলকানি, এটা ঠিক। কিন্তু আমি যে চরিত্রে অভিনয় করেছি, সেই চরিত্রের কাছে এগুলো কিছু না। আমার তো মনে হয় আমি এই চরিত্রটাই করতে চেয়েছিলাম। সিনেমা করার জন্য এর চেয়ে ভালো চরিত্র বা এর চেয়ে ভালো গল্প আর নাই।’

ছবির পরিচালক তানিম রহমান অংশ ছবিটি সম্পর্কে বলেছেন- এটি স্বপ্ন জয়ের গল্প, নারীর এগিয়ে যাওয়ার গল্প, তাই ছবির নাম ‘ন ডরাই’।
কিন্তু স্বপ্ন জয় করা কী এত সহজ?
‘সত্যি স্বপ্ন জয় এত সহজ না। এই ছবিতে অভিনয় করার তিন মাস আগে থেকে আমি সার্ফিংয়ের ট্রেনিং নিয়েছি। চট্টগ্রামের ভাষা জানতাম না, সেটা শিখেছি এবং এখন সেটা আমি ভালোভাবে বলতে পারি। আমার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হয়েছিল সেসময়।’ জানালেন সুনেরাহ্‌।

সঙ্গে এও জানালেন, তখন অনেক কষ্ট মনে হতো। কিন্তু এখন নাকি তার অনেক ভালো লাগে। এই সিনেমা আর শুটিং বদলে দিয়েছে তাকে। বিশেষ করে ট্রেনিংয়ের সময় সুনেরাহ্‌র সঙ্গে ছিলেন নাসিমা। যার গল্প ও চরিত্রের ওপর অনেকটা অবলম্বন করে আছে আয়েশা চরিত্রটি। সেই নাসিমার কাছে বিভিন্ন গল্প শুনে ছবিটি এবং চরিত্রের প্রতি আরও বেশি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে সুনেরাহ্‌র।

‘শুধু এই ছবিটি বা চরিত্রটিই নয়, আমার মনে হয়েছে নারী হিসেবে থেমে গেলে চলবে না। যেমন ছবির শুটিংয়ের সময় আমার জ্বর হলো একবার, নোনা পানিতে আমার ত্বক নষ্ট হবার উপক্রম হলো। তখন আমার মনে হয়েছে যে এগুলো তো কিছুই না।’ ভেতরের শক্তি দিয়েই বললেন সুনেরাহ্‌।

‘স্বপ্নপূরণ বা নারীর এগিয়ে যাওয়া যেটাই হোক, সুনেরাহ্‌র কাছে এখন পর্যন্ত বিষয়গুলোর সবচেয়ে ভালো উদাহরন ‘ন ডরাই’ ছবির পোস্টার। একজন নারী বিয়ের সাজে সেজে আছে, কিন্তু তার স্বপ্ন অর্থাৎ সার্ফিং বোর্ড সে ছাড়েনি। মানে মেয়েটি তার স্বপ্ন ধরে আছে। এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর কি হতে পারে?
আমি মডেলিং করি। অনেক ধরনের আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে হয়। ছবির পোস্টারটির আইডিয়াটা খুব ভালো হয়েছে।’ পোস্টারে নিজের লুক এভাবে ব্যাখ্যা করলেন সুনেরাহ্‌।

ছবিতে অভিনয় করেছেন ‘আইসক্রিম’ খ্যত অভিনেতা রাজ। সুনেরাহ্‌ এবং রাজ পূর্ব পরিচিত এবং তারা খুব ভালো বন্ধু। তাই সিনেমার শুটিং করতে যেমন কষ্ট করতে হয়েছে, আনন্দও হয়েছে অনেক।

আনন্দেই থাকতে চান সুনেরাহ্‌। তবে এই সিনেমার মাধ্যমে শুধু দর্শকদের আনন্দই দিতে চান না, চোখ ও মন দুই প্রসারিত করার আহ্বানও জানাতে চান।

সারাবাংলা/পিএ/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন