বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

রাস্তায় দুধ ঢেলে খামারিদের প্রতিবাদ

জুন ২২, ২০১৯ | ৬:৪৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রস্তাবিত বাজেটে গুঁড়া দুধের আমদানি শুল্ক পাঁচ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে মাত্র দশ শতাংশ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে উৎপাদিত গরুর দুধ রাস্তায় ঢেলে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন।

শনিবার (২২ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় দুধ ঢেলে প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।

সংগঠনটির নেতাদের দাবি, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে আমদানী করা নিম্নমানের ভর্তুকিপ্রাপ্ত গুঁড়া দুধের আমদানী শুল্ক ৫০ শতাংশ করতে হবে। পাশপাশি এসব গুড়া দুধের উপর অ্যান্টি ডাম্পিং ট্যাক্সও আরোপ করতে হবে’।

তাদের মতে, গুঁড়া দুধের আমদানি শুল্কের যে মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা কোনো অবস্থাতেই পর্যাপ্ত নয়। এটা দেশের স্থানীয় খামারিদের জন্য কোনো উপকারেই আসবে না, বরং দেশের দুগ্ধ শিল্পের জন্য এটি হুমকিস্বরূপ।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘দুগ্ধ খামার ব্যবসা বাংলাদেশের কৃষি ব্যবসাগুলোর মধ্যে অন্যতম। দুধের খামার করে দেশে লাখ লাখ যুবক সাবলম্বী হয়ে উঠছে। গত সাত বছরে দেশে খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ লাখ, দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৯৪ লাখ মেট্রিক টন।’

তিনি আরও বলেন, ‘খামার ব্যবসার সঙ্গে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িতে আছে আরও ৯৪ লাখ মানুষ। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানি করা গুঁড়া দুধের কারণে দেশীয় খামারিদের প্রায়ই লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রান্তিক খামারিদের অনেক সময় ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। তাছাড়া সারা বছর দেশে দুধের সমান চাহিদা না থাকার ফলে অনেক সময় দুধ ফেলে দিতেও বাধ্য হচ্ছে খামারিরা।’

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান বলেন, ‘বিদেশ থেকে যে সব দুধ আমদানি করা হচ্ছে সেগুলো ভ্যাজিটেবল ফ্যাট মিশ্রিত। এসব দুধ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।’

স্থানীয় খামারিদের সরকারি সাহায্য ও প্রণোদনার মাধ্যমে দুগ্ধ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বর্তমানে চাহিদা অনুপাতে ঘাটতি রয়েছে ৫৬ লাখ মেট্রিক টন। এখনই যদি আমদানিকৃত দুধের উপর শুল্ক না বাড়িয়ে দেশিয় খামারিদের প্রণোদনা ও সরকারি সাহায্য না করা হয়, তাহলে দেশের খামার শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। চাহিদা অনুযায়ী দেশের মানুষ খাঁটি দুধ পাবে না’।

সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স এসোসিয়েশনের সহসভাপতি রাকিবুর রহমান টুটুল, প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত দুগ্ধ খামারিরা।

সারাবাংলা/ওএম 

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন