মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

৯৯৯-এ শাহানের কলেই কুলাউড়ায় দ্রুত শুরু হয় উদ্ধার অভিযান

জুন ২৪, ২০১৯ | ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সিলেট: রোববার (২৩ জুন) মধ্যরাত। প্রতিদিনের মতো ন্যাশনাল ইমারজেন্সি সার্ভিস ৯৯৯ তাদের সেবা দিতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে মৌলভীবাজার থেকে এক যুবকের কল। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ওই যুবক জানান মৌলভীবাজারের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার খবর। ঘটনা শোনার পর তৎপর হয়ে ওঠে ৯৯৯ সার্ভিস। সঙ্গে সঙ্গে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানায় যোগাযোগ করা হলে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয় পুলিশ। হয়তো ওই যুবক সময় মতো ফোন না দিলে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতো।

বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বরমচাল এলাকায় সেতু ভেঙে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পরপরই ৯৯৯ নম্বরে কল দেন শাহান মিয়া। তার বাড়ি কুলাউড়ার আকিলপুর গ্রামে। তিনি কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন- সিলেট-ঢাকা রুটে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে

বিজ্ঞাপন

ট্রেন দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাহান মিয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। তখন বরমচাল সেতুর অনেকটা দূরে আমি। হঠাৎ বিকট শব্দ। এরপর কানে ভেসে আসে মানুষের কান্না আর চিৎকার। দূর থেকে তাকিয়ে দেখি, বরমচাল সেতু ভেঙে ট্রেনের বগি নিচে পড়ে গেছে। কাছে যেতেই মানুষের কান্নার আওয়াজ আরও জোরে শোনা যায়। ঘটনার ২/৩ মিনিটের মধ্যেই ৯৯৯ নম্বরে কল দেই। সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ হয় কল। তখন পুলিশকে পুরো ঘটনা খুলে বলি। এর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। যদি সময় মতো তারা না আসতো তবে আরও অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারতো।

আরও পড়ুন- ‘সিলেট মহাসড়ক বন্ধ থাকায় যাত্রী চাপ সামাল দিচ্ছিল রেল’

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান সারাবাংলাকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরপরই এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর জানায়। এত রাতে বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার খবর শুনে অবাক হই আমরা। সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিই। সেখানে গিয়ে ৪ জনের মরদেহ এবং অন্তত দুই শতাধিক মানুষকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই ওই যুবক ৯৯৯ নম্বরে ফোন না দিলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতো।

উল্লেখ্য, বরমচাল স্টেশন সংলগ্ন সেতুতে হঠাৎ ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে যায়। এর মধ্যে একটি বগি পড়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া লাইনচ্যুত বগির যাত্রী ছাড়াও মারাত্মক ঝাকুনিতে অন্তত দুই শতাধিক যাত্রী আহত হয়। শাহানের মাধ্যমে ৯৯৯ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

আরও পড়ুন-উপবন এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় রেলওয়ের ২ তদন্ত কমিটি

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন