বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

সৌন্দর্য হারিয়েছে চবির ঝুলন্ত সেতু, চলাচল বন্ধ

জুন ২৫, ২০১৯ | ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ

চলন্ত চাকমা, চবি করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের পাশের খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছি ঝুলন্ত সেতু। রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুর আদলে তৈরি করা এই সেতুটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণ।

তবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জৌলুস হারিয়েছে ঝুলন্ত সেতু। ভেঙে পড়েছে সেতুর পাটাতন। ব্যবহার অনুপোযোগী হওয়ায় ও দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুর দুইপাশে কাঁটাতার বসিয়ে এতে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা যায়, যে সেতু একসময় মুখর থাকতো শিক্ষার্থী আর দর্শনার্থীদের পদচারনায় সেটি এখন শ্রীহীন। চারপাশে জন্মেছে ঝোপঝাড়। সেতুর পাটাতনের বেশ কয়েক জায়গায় ভাঙন দেখা গেল। মোট কথা এটি এখন আর ব্যবহার উপযোগীতা হারিয়েছে। ফলে কেউ যেন সেতুটি ব্যবহার করতে না পারে এবং কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেটি নিশ্চিত করতে এটি বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

ঝুলন্ত সেতুর বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সুরাইয়া আক্তার শামান্তা বলেন, সেতুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এর রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। এতোদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় সেতুটি পড়ে আছে। এটি খুবই দুঃখজনক। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরও ক্যাম্পাসের সম্পদ ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী প্রদীপ ঘোষ দ্রুত সেতু মেরামতের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেইসঙ্গে সারাবছরই যেন সেতুটি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তারও দাবি জানান।

সেতুটির বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। তারপরে আর খুলে দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠান ও রমজানের কারণে মেরামতও করা সম্ভব হয়নি। এখন রমজান গেছে, আশা করি দ্রুত মেরামত করে ঝুলন্ত সেতু খুলে দেওয়া হবে।’

চবির প্রয়াত উপার্চায অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতুর আদলে এই সেতুটি নির্মাণ করান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক কৃতি শিক্ষার্থী এটি নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সেতুটি।

সারাবাংলা/সিসি/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন