বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

এবার খামেনির কার্যালয়েও নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের

জুন ২৫, ২০১৯ | ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ওপর নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি অব্যাহত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি। ইরান মার্কিন ড্রোন ও ‘অন্য অনেক কিছু’ ভূপাতিত করার জবাব হিসেবে এসব বাড়তি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আরও জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর এমন ‘কঠোর’ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিতে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেই ইরানে সেখানে আরও এক হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ইরান ‘আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক’ নামের একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের নির্দেশও দেন। পরে অবশ্য জানান, বিপুলসংখ্যক হতাহতের আশঙ্কা থেকে তিনি সেই নির্দেশ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তবে টুইটারে জানিয়ে রেখেছিলেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে যাচ্ছে ইরানের ওপর। তারই ধারাবাহিকতায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকে শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনীও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লো।

আরও পড়ুন- ‘ইরানে সফল সাইবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র’

বিবিসির খবরে বলা হয়, মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার পেছনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনিকেই দায়ী করছেন ট্রাম্প। আর সে কারণেই তার কার্যালয়কেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হচ্ছে। ট্রাম্প বলছেন, ইরানের বৈরী মনোভাবের পেছনে চূড়ান্তভাবে খামেনিই দায়ী। সে কারণেই তার কার্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানচিন বলছেন, নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে ইরানের শত কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মানচিন।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসলামিক রেভুলেশন গার্ড করপস বা আইআরজিসি’র ‘ক্ষতিকর আঞ্চলিক কার্যক্রম’ নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, ইরানের এমন শীর্ষ আট কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এর বাইরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তারাও থাকবেন নিষেধাজ্ঞার আওতায়। একইসঙ্গে যেসব বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইরানকে সহায়তা করে থাকে, তাদেরও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা হবে।

একের পর এমন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারিকে ‘কূটনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে দেখছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। ট্রাম্প প্রশাসন ‘যুদ্ধের জন্য মরিয়া’ হয়ে উঠেছে বলেও এক টুইটে অভিযোগ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা যেন না বাড়ে সে জন্য দুই দেশকে কূটনীতি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

আরও পড়ুন-

ইরান নিয়ন্ত্রিত আকাশে উড়বে না মার্কিন বিমান

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করে বড় ভুল করেছে ইরান: ট্রাম্প

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন