রবিবার ২১ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

এমপি’র কলেজে সংযোগ দিতে ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন লংগদু

জুন ২৫, ২০১৯ | ১২:০০ অপরাহ্ণ

প্রান্ত রনি, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

রাঙ্গামাটি: পাশের জেলা খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রী’র নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজের কারণে ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিলো না রাঙামাটির লংগদুতে। অভিযোগ, কলেজে ট্রান্সফরমার স্থাপন ও ১১ হাজার ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজের কারণে গতকাল সোমবার সকাল আটটা থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে লংগদুতে। তবে, রাত নয়টার পর উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ সচল হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। বিশ্বকাপে নিজের দেশের খেলা চলা অবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, এমপির নিজস্ব উদ্যোগে ২০১৫ সালের ১ জুলাই খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলার দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মধ্যবোয়ালছড়ি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রী’র নামে প্রতিষ্ঠিত ‘কুজেন্দ্র মল্লিকা মডার্ন কলেজ’। এই কলেজের ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য গত দু’দিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কাজ করছিল।

লংগদুর বাসিন্দা ও উপজেলা জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সাধারণ সম্পাদক মনি শংকর চাকমা বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সবসময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। এতে করে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

বিজ্ঞাপন

উপজেলাবাসীর অভিযোগ, সবসময়ই লংগদুতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪-৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। তার মধ্যে হালকা বাতাস ও সামান্য বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎহীন থাকতে হয় কয়েকদিন। উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো অফিস না থাকায় এই বিষয়ে পাশ্ববর্তী জেলার দীঘিনালা উপজেলায় যোগাযোগ করতে হয় তাদের।

লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রবীর কুমার রায় বলেন, ‘আমি দীঘিনালা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, লাইনের সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিলো। এখন বিষয়টি ঠিক হয়ে গেছে।’

দীঘিনালা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী অশোক কুমার দাশ বলেন, ‘সকাল থেকে লাইনের কাজ চলছিল, সে জন্যে লংগদুতে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

খাগড়াছড়ি জেলার এমপির কলেজের বিদ্যুৎ লাইনের কাজের কথা জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, ‘এমপির কাজ না করে তো পারা যায় না।’

খাগড়াছড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামাল আহমেদ জানান, ‘ওনার (কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা) একটা কলেজের কাজ, সেটা তো করে দিতে হবে। আর লাইনেরও কিছু সমস্যা ছিল সেই কাজও করা হয়েছে। খুব দ্রুত শেষ করে লংগদুতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা হয়েছে।’

তবে এ বিষয়ে জানার জন্য খাগড়াছড়ির সংসদ্য সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন