শুক্রবার ১৯ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৪ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

আরেক দফা বাড়ছে দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ

জুন ২৫, ২০১৯ | ৪:৩২ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ আরেক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। আইনটির মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিতে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) বিল-২০১৯ সংসদে তোলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এ সংক্রান্ত বিল তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

পরে বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পাঠানো হয়। কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অধিবেশনেই বিলটি পাস হবে। কমিটি চূড়ান্ত করার পর বিলটি সংসদে পাসের মধ্যদিয়ে আইনে পরিণত হবে। এ নিয়ে কয়েক দফা দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ বাড়ানো হলো।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০২ সালে দ্রুত বিচার আইন পাসের পর তা দুই বছরের জন্য কার্যকর করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে এ আইনের মেয়াদ দুই বছর করে বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে আইনটি আরও পাঁচবছর বলবৎ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। গত ৯ এপ্রিল আইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে আইনটির মেয়াদ আরেক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেজন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটির মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বলবৎ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজি, যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহনের ক্ষতিসাধন, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট, ছিনতাই, দস্যুতা, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, দরপত্র ক্রয়, বিক্রয়, গ্রহণ বা দাখিলে জোরপূর্বক বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ প্রণয়ন জারি করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইনটি করার সময় প্রথমে এর মেয়াদ ছিল দুই বছর। পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রয়োজনে ৬ বারে এর মেয়াদ ১৫ বছর বাড়ানো হয়। সবশেষ ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল ৫ বছর বাড়িয়ে ১৭ বছর করা হয়। যার মেয়াদ ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল শেষ হয়। আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবং দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অধিকতর উন্নতির জন্য মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। এই আইনের অধীনে তদন্ত ও বিচারধীন ১ হাজার ৭০৩টি মামলা নিষ্পত্তির জন্যও এর মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে, দুই থেকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। এ আইনে ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার বিধান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন