বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

চাকরির প্রলোভনে দেড় কোটি টাকা আয়, রেলওয়ে কর্মচারী গ্রেফতার

জুন ২৫, ২০১৯ | ৫:২৭ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং দৃশ্যমান উৎস ছাড়া প্রায় দেড় কোটি টাকা আয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মচারী। মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার অলী উল্লাহ সুমন (৩২) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের কার্যালয়ে সহকারী দাবি পরিদর্শক (এসিআই) হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার মিশ্রীপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দুদকের চট্টগ্রামের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন এবং রেলওয়ের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে অলী উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাকে আমরা আজ (মঙ্গলবার) গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছি। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

সূত্রমতে, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানায় অলী উল্লাহ সুমনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে- ২০১৬ সালে অলী উল্লাহর বন্ধু মিজানুর রহমান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে সাতটি পদে নিয়োগের আবেদন করেন। পদগুলো হচ্ছে- লেম্যান, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, আয়া, পোর্টার, ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস, কুরিয়ার ও ট্রেন নাম্বার টেকার। প্রতিটি আবেদনে মিজানুর রহমানের যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে অলী উল্লাহ’র অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে মিজানুর রহমানের কাছ থেকে এস এ পরিবহনের (রিসিপ্ট নম্বর- ৪২৬৬২৭ ও ৪২৬৬৩৫) মাধ্যমে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করে।

দুদক অনুসন্ধানে আরও জানতে পেরেছে, অলী উল্লাহ সোনালী ব্যাংকের সিআরবি শাখায় ২০১২ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১ কোটি ৩১ লাখ ৭ হাজার ৪৮৭ টাকা এবং ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮১ টাকা ৫০ পয়সা গ্রহণ করেছেন। যার কোনো নির্দিষ্ট উৎস নেই। আবার উৎস বর্হিভূত সেই টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জে পাঁচ শতক জমি কেনার তথ্যও অনুসন্ধানে পেয়েছে দুদক।

দুদক কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম সারাবাংলাকে জানান, দণ্ডবিধির ১৬৩ ও ৪২০ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারায় অলী উল্লাহর বিরুদ্ধে এজাহারে অভিযোগ আনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতার অলী উল্লাহ সুমন ২০০৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ পারসোনাল অফিসারের কার্যালয়ে এমএলএসএস পদে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন। গত বছর দুদকের মামলা দায়েরের পর তিনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন। পরে আবার চাকরিতে ফেরেন। তবে গত ১৫ দিন ধরে তিনি বিনা নোটিশে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন।

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন