বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ভারতে ‘চুরি-ছিনতাই’ হওয়া মোবাইল ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে

জুন ২৫, ২০১৯ | ৬:৩৪ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে আনা ১৬১টি বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল সেট উদ্ধার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসব মোবাইল আনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত থেকে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল সেটগুলো বাংলাদেশে এসেছে। পুলিশের ধারণা, ভারতে চুরি-ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা এসব মোবাইল সেট সীমান্ত দিয়ে ঢুকে ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের বাজারে।

গত ২২ জুন দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার রয়েল প্লাজার তৃতীয় তলায় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের হেফাজত থেকে দু’টি কার্টনভর্তি এই মোবাইল সেটগুলো জব্দ করে ডিবি। তিনদিন ধরে বিদেশি এসব মোবাইল সেটের উৎস অনুসন্ধানে পর সোমবার (২৪ জুন) রাতে ডিবি’র (উত্তর) উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান কায়কোবাদ বাদি হয়ে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন- মো.আবদার উদ্দিন কাইয়ূম (২৮), নিজাম উদ্দিন (৪০), সাহল খান (৩৩) ও মো.আরিফ (৩৭)।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত ‍উপ-কমিশনার (উত্তর) মির্জা সায়েম মাহমুদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আসামিদের কাউকে আমরা ধরতে পারিনি। তবে তদন্তে আমরা তথ্য পেয়েছি-এসব মোবাইল বৈধপথে আমদানি করা হয়নি। সিলেট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাচার হয়ে এসব মোবাইল এসেছে। নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে এসব মোবাইল সেট বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল। একইভাবে দেশের আরও বিভিন্নস্থানে এভাবে চোরাই পথে আসা ভারতীয় মোবাইল সেট বিক্রির তথ্য আমরা পেয়েছি।’

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (উত্তর) মো. ইলিয়াছ খাঁন সারাবাংলাকে জানান, আবদার উদ্দিন কাইয়ূম নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে তামাকমুণ্ডি লেইনের হাসিনা হক শপিং কমপ্লেক্সের ‘কে-টেল’ নামে একটি মোবাইলের দোকানের মালিক। নিজাম ও আরিফ সিলেটের বাসিন্দা। তারা দু’জন আপন ভাই। সাহল খান সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের দিলকুশা শাখার ক্যাশিয়ার।

বিজ্ঞাপন

 

মো. ইলিয়াছ খাঁন বলেন, ‘সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের নথিপত্রে সাহল খানের নামে মোবাইলগুলো বুকিং আছে। তিনি সেগুলো পাঠিয়েছেন আবদার উদ্দিনের কাছে। মোবাইলগুলোর মধ্যে প্যাকেটসহ আছে ৫৪টি এবং প্যাকেট ছাড়া আছে ১০৭টি। প্যাকেটের গায়ে ‘শুধুমাত্র ভারতীয় সিম ব্যবহারের জন্য’ লেখা আছে। প্যাকেট ছাড়া মোবাইলগুলোর কললিস্টে শুধুমাত্র ভারতীয় নম্বর আছে। এতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, মোবাইল সেটগুলো ভারতীয়।’

মোবাইল সেটগুলোর সন্ধান পাবার পর সেগুলোর মালিক আবদার উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু আবদার সেগুলো নেওয়ার জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে যাননি। তখন সাহল খানের সঙ্গে ডিবি’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। সাহল জানান- সিলেট থেকে নিজাম ও আরিফ সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ঢাকার মূল শাখা হয়ে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ঠিকানায় আবদার উদ্দিনের জন্য মোবাইল সেটগুলো পাঠিয়েছেন। একসঙ্গে এতগুলো সেট বুকিং না নেওয়ায় সাহল খানের নামে সেগুলো বুকিং করানো হয়। সাহলের সঙ্গে নিজাম ও আরিফের পূর্ব পরিচয় আছে।

পরবর্তীতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবদার উদ্দিন ডিবিতে আমদানি সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র পাঠান। আবদারের দাবি, আরিফ ও নিজাম সিলেটের বন্দর বাজারের করিমউল্লাহ মার্কেটের এক্সপার্ট টেলিকমের মালিক। তারাই মোবাইলগুলো আমদানি করেছেন। কিন্তু ডিবি’র কর্মকর্তারা খোঁজ নিয়ে এই নামে ওই মার্কেটে কোনো দোকানের অস্তিত্ব পাননি। এছাড়া দাখিল করা আমদানি সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে জব্দ মোবাইলের কোনো মিল পাননি ডিবি কর্মকর্তারা।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইলিয়াছ খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি করা মোবাইল দাবিতে যেসব ইনভয়েস এবং মেমো আমাদের কাছে দাখিল করা হয়েছে, সবগুলোই ভুয়া বলে প্রমাণ হয়েছে। এর সঙ্গে জব্দ করা মোবাইলের আইএমই নম্বর বা ব্র্যান্ডের কোনো মিল নেই।’

‘তদন্তে আমরা জেনেছি- সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত সংলগ্ন পয়েন্ট দিয়ে আসছে এসব মোবাইল। জব্দ করা মোবাইলগুলো সবই আগে ব্যবহৃত মোবাইল। চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই কিংবা অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে আদায় করা এসব মোবাইল সেট পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। চট্টগ্রামে আমরা প্রথমবারের মতো এই ধরনের একটি চালান জব্দ করতে পেরেছি। আমরা অভিযুক্তদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’

ইলিয়াছ আরও বলেন, ‘চুরি-ছিনতাইয়ের মোবাইল সেদেশে বিক্রি হলে অনেকসময় প্রযুক্তির সহায়তায় আসামি ধরা পড়া বা আলামত হিসেবে উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকে। সেগুলো যদি সীমান্ত পার করে দেওয়া যায় তাহলে আর সমস্যা থাকে না।’

একইভাবে বাংলাদেশেও যদি অপরাধীরা একই কৌশল অবলম্বন করে, তাহলে মামলার আলামত উদ্ধার, আসামি গ্রেফতার বা তদন্তে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সারাবাংলা/আরডি/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন