বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

যক্ষ্মার প্রকোপ কমাতে একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা-ওয়াশিংটন

জুন ২৫, ২০১৯ | ৬:৫৫ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ২০২২ সালের মধ্যে যক্ষ্মার প্রকোপ কমাতে একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা-ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) মধ্যে একটি যৌথঅংশীদারিত্ব বিবৃতি স্বাক্ষর হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) ঢাকার একটি হোটেলে এই যৌথঅংশীদারিত্ব বিবৃতি স্বাক্ষর হয় বলে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র মিশন থেকে এক বার্তায় জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) বাংলাদেশ থেকে যক্ষ্মা রোগ নির্মূল করার জন্য তাদের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছ। নতুন এই অংশীদারিত্ব বিবৃতিতে ২০২২ সালের মধ্যে যক্ষ্মা রোগের প্রকোপ কমাতে একটি যৌথকাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে। ইউএসএআইডি-এর অংশীদারিত্বের নতুন মডেল ‘গ্লোবাল অ্যাকসিলারেটর টু অ্যান্ড টিউবারকুলোসিস’ এর-ই সাম্প্রতিক নমুনা। বিনিয়োগের সংস্থান ও বিশ্বজুড়ে দেশগুলোকে সহায়তা করার পাশাপাশি ২০২২ সালের মধ্যে ৪ কোটি যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসা করতে জাতিসংঘের যে লক্ষ্য তা পূরণ করাই নতুন এ অংশীদারিত্ব মডেলের লক্ষ্য।

অংশীদারিত্ব বিবৃতি স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২২ সালের মধ্যে যক্ষ্মার প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিজ্ঞাপন

ইউএসএআইডি মিশন পরিচালক ডেরিক ব্রাউন বলেন, ‘ইউএসএআইডি বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে এমন সময় তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে যখন দেশটি ২০২২ সাল নাগাদ তাদের লক্ষ্য অর্জনের গতি জোরদার করছে। বাংলাদেশকে আগামী ৫ বছরে ১৫ লাখের বেশি যক্ষ্মা আক্রান্তের নতুন ঘটনা সনাক্ত ও রোগীদের চিকিৎসা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউএসএআইডি বাংলাদেশে সবধরনের অচিহ্নিত যক্ষ্মা সনাক্ত, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মপ্রচেষ্টায় জোরালোভাবে সহযোগিতা করবে।’

বার্তায় জানানো হয়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ২৫ লাখেরও বেশি যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসা করেছিল। তবে প্রায় ২৬ শতাংশ সংক্রমণের ঘটনাই অচিহ্নিত থেকে গেছে। মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স (এমডিআর) অর্থাৎ একাধিক ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা ও শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে অচিহ্নিত থাকার হার সবচেয়ে বেশি।’

অংশীদারিত্ব বিবৃতিতে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ইউএসআইডি যক্ষ্মা রোগ নির্মূলে বাংলাদেশ সরকারের কারিগরী সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। ইউএসএআইডির মূল গুরুত্ব থাকবে পরীক্ষাগার ও ডায়াগনস্টিক পরিষেবা শক্তিশালী করা, সবধরনের যক্ষ্মা চিহ্নিত এবং এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর।

ইউএসএআইডি এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশকে ৭শ কোটি ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সালে সংস্থাটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে প্রায় ২১ কোটি ৯০ লাখ ডলার দিয়েছিল। এসবের মধ্যে ছিল খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং অনুশীলনকে এগিয়ে নেওয়া, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সামর্থ্য বাড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচি।

সারাবাংলা/জেআইএল/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন