মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বগুড়া উপনির্বাচনে ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

জুন ২৫, ২০১৯ | ৯:১৮ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বগুড়া: বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের এস এম টি জামান নিকেতার সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ৫৭ হাজারেরও বেশি। তবে এ আসনে নির্বাচনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. নূরুল ইসলাম ওমর, মুসলিম লীগের মুফতি রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ড. মনসুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজ মণ্ডল ও সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠু। এদের মধ্যে সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠু ভোটের ক’দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

সংসদ নির্বাচনের আইন অনুযায়ী নির্বাচনের প্রদত্ত ভোটের আটভাগের একভাগ ভোট পেলে প্রার্থী জামানত ফেরত পায়।কিন্তু একভাগের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাতিলের বিধান রয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ্ জানান, নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ না পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ওই ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বগুড়া-৬ আসনে সংসদ সদস্য হন। গত ২৪ জুন সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ৭ হাজার ২৭১ ভোট পান।

নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত টি জামান নিকেতা পান ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট।

নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থিতার জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া জামানত হিসেবে দেওয়া ফেরত পেতে হলে প্রার্থীদের প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ বা ১৬ হাজার ৭৩৪ ভোট পেতে হতো। কিন্তু বগুড়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই ওই পরিমাণ ভোট পাননি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭০জন ভোটার তাদের ভোটা দিয়েছেন। সেই হিসাবে এই নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৩৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

এর আগে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ হয় এই উপনির্বাচনে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আসনের সবগুলো কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়।

বগুড়ায় পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা’র (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল জানান, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। সুষ্ঠু পরিবেশে ভালোভাবে নির্বাচন হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। ভোটার ও প্রার্থীরা সহযোগিতা করেছেন বলে ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে।

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি ছিল। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৪১টি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসারের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। টহলে ছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ১৫ প্লাটুন সদস্য। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ২৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করেন।

এই আসনের উপনির্বাচনে ১৪১টি ভোটকেন্দ্রের ৯৬৫টি বুথে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়। বগুড়ার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ২০টি ওয়ার্ডকে নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনি এলাকায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯০ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৪৮ জন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয় জনের মধ্যে পাঁচ জন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও মির্জা ফখরুল শেষ পর্যন্ত শপথ নেননি। তার শপথ নেওয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন। পরে ২৪ জুন উপনির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

সারাবাংলা/এমএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন