বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সন্তানকে দেখতে গিয়ে ‘চোর’ অপবাদ, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

জুন ২৫, ২০১৯ | ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় চোর সন্দেহে কথিত গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের পর স্ত্রীর হেফাজতে থাকা সন্তানকে দেখতে গেলে ইমাম হোসেন রুবেলকে (২৮) ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা) মো. রেজাউল করিম সারাবাংলাকে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আজিজ উদ্দিন (২৫) নামে এক যুবককে সোমবার (২৪ জুন) রাতে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বেরিয়ে আসে।

নিহত রুবেল হাটহাজারী উপজেলার নাজিরহাটের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। গ্রেফতার আজিজ উদ্দিন একই উপজেলার মাহমুদাবাদ গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (জেলা) আব্দুর রাজ্জাক সারাবাংলাকে জানান, ২০১২ সালে হাটহাজারী উপজেলার মাহমুদাবাদ গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে নাছিমা আক্তারের সঙ্গে রুবেলের বিয়ে হয়। একবছর পর তাদের এক ছেলে জন্ম নেয়। অভাব-অনটনের কারণে দাম্পত্য কলহের জেরে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে রুবেল ও নাছিমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। নাছিমাকে ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। কিন্তু রুবেল প্রায়ই ছেলেকে দেখার জন্য মাহমুদাবাদ গ্রামে নাছিমাদের বাড়িতে যেত। নাছিমাসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পছন্দ করত না।

বিজ্ঞাপন

বিচ্ছেদের সাতমাস পর ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় রুবেল তার ছেলেকে দেখার জন্য নাছিমাদের বাড়ি যায়। এসময় এলাকার কয়েকজন যুবক ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে তাকে ধরে বেঁধে ফেলে। এরপর তারা রুবেলকে স্থানীয় বাজারে আজিজের মুদির দোকানের সামনে নিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটাতে থাকে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় হাটহাজারী থানায় অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলা হয়। গত মার্চ মাসে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

পিবিআই পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক সারাবাংলাকে বলেন, ‘তদন্তের শুরুতেই আমাদের কাছে এটি নিছক গণপিটুনি মনে হয়নি। সোমবার (২৪ জুন) সন্ধ্যার দিকে আমরা তদন্তের জন্য মাহমুদাবাদ বাজারে যাই। হঠাৎ আমাদের গাড়ি দেখে আজিজ দোকান থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। প্রায় দুই কিলোমিটার ধাওয়া করে আমরা তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। গ্রেফতারের পর সে জানায়, তারা কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে থেঁতলে দিয়ে ও স্পর্শকাতর জায়গায় জখম করে রুবেলকে খুন করেছে। রুবেলের চোর ছিল না।’

পিবিআই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রুবেলের স্ত্রী নাছিমা বা তার পরিবারের সদস্যদের কেউ জড়িত। মঙ্গলবার আজিজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছি। আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন