রবিবার ২১ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা শিশুদের স্বপ্নের রঙিন ক্যানভাস

জুন ২৬, ২০১৯ | ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

একজন মানুষের স্বপ্নই তাকে লক্ষ অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। প্রতিটা শিশুই স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে অনেক কিছু করার। রঙিন সেই স্বপ্নের কাছে ফিকে হয়ে যায় ধর্ম, বর্ণ, জাতি আর দেশের সীমা। শিশুদের সেই স্বপ্ন কতটা রঙিন হতে পারে তা দেখা যায় রোহিঙ্গা শিশুদের আঁকা ‘হোয়েন আই গ্রো আপ’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে।

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ই এম কে সেন্টার ও জাতিসংঘের জরুরী শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) এর সহযোগিতায় ৫ দিনের এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এখানে রোহিঙ্গা শিশুদের আঁকা ১৫০ টি ও ৬ কার্টুনিস্টের আঁকা ৬ টি ছবি প্রদর্শন করা হয়।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের সামনের দিনগুলো কেমন হবে তা এখনও অনিশ্চিত। কিন্তু এখানকার শিশুরা রং আর তুলির ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলেছে তাদের স্বপ্নের চিত্রকল্প। গ্যালারিজুড়ে ছোট ছোট স্পটলাইটের আলোয় ফুটে ওঠা রঙিন ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়, শিশুরা যেমন পরিবেশেই থাক না কেন, তাদের স্বপ্নের রঙ কখনো মলিন হয় না।

বিজ্ঞাপন

চমৎকার ছবিগুলোতে দেখা যায় কেউ হতে চেয়েছে পুলিশ, কেউ রাজা, কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক, কেউ ড্রাইভার, কেউ বা আবার পাইলট। তবে নির্মম বাস্তবতাও ছাপ ফেলে শিশুদের মনে। মায়ানমারে চোখেরে সামনে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের চিত্রও রঙ তুলিতে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে কেউ কেউ।

এর আগে ১১ ও ১২ জুন ঢাকা থেকে ছয় জনের একটি কার্টুনিস্ট দল উখিয়ার বর্ণমালা চাইল্ড লার্নিং সেন্টার ২ এবং আহসানিয়া মিশনের একটি বিদ্যালয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের নিয়ে দুদিনের ক্যাম্প করে।  যেখানে বাচ্চারা তাদের ইচ্ছা ও স্বপ্নগুলো রঙ-তুলির মাধমে ফুটিয়ে তোলে।

উখিয়ার আর্ট ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিলেন কার্টুনিস্ট আবু হাসান। তিনি বলেন, তার চাওয়া বাচ্চাগুলো যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে ও তাদের স্বপ্নগুলো যেন বাস্তবায়িত হয়। তিনি মনে করেন, একটা শিশুর ভবিষ্যৎ তার নিজ দেশে যেভাবে গড়ে উঠবে শরনার্থী শিবিরের অনিশ্চিত জীবনে সেভাবে হবে না।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি সারাবাংলাকে বলেন, এই এক্সিবিশনের সব চিত্রকর্মে একটা করে ছোট ম্যাসেজ ছিল যা রোহিঙ্গা শিশুদের কাছ থেকে এসেছে। তিনি বলেন, আয়োজকরা শুধুমাত্র একটা মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। রোহিঙ্গা শিশুরা তাদের লালিত স্বপ্ন আর আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছে যেটা তাদের কাছে বড় পাওয়া।

তিনি আরও বলেন, এই এক্সিবিশন ঢাকা থেকে শুরু করলেও তাদের ইচ্ছা এধরণের আয়োজন আরো অনেক দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার।

 

সারাবাংলা/এএএমএ/আরএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন