বিজ্ঞাপন

‘বন্ধ থাকা হস্তচালিত তাঁত চালু করতে ৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে’

June 26, 2019 | 6:43 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

সংসদ ভবন থেকে: বন্ধ হয়ে যাওয়া লক্ষাধিক হস্তচালিত তাঁতের মধ্যে ৬৫ হাজার ৪৫১টি তাঁত ফের চালু করতে ৭৫ কোটি ছয় লাখ টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বন্ধ থাকা হস্তচালিত তাঁতগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সরকার ক্ষুদ্র কর্মসূচির আওতায় ৪৪ হাজার ২৪০ জন তাঁতীকে ৬৫ হাজার ৪৫১টি তাঁতের অনুকূলে মোট ৭৫ কোটি ছয় লাখ টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে তাঁতীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

বুধবার (২৬ জুন) সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত এম. আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেলে এ অধিবেশন শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

অধিবেশনে এম. আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আরও জানান, ২০১৭ সালের তাঁত জরিপ অনুযায়ী দেশে হস্তচালিত তাঁতের সংখ্যা ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৮১টি। এর বাইরে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৭৩টি হস্তচালিত তাঁত বন্ধ রয়েছে।

টেবিলে উত্থাপিত সরকার দলীয় আরেক সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের এক প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জানান, সরকারি সিদ্ধান্তে বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন পদ্ধতিতে হস্তান্তরিত শর্ত লঙ্ঘনকারী পুনঃঅধিগ্রহণ করা সাতটি মিলসহ বর্তমানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে মোট ২৫টি মিল রয়েছে। মিলগুলোর মধ্যে ছয়টি মিল বর্তমানে ভাড়া পদ্ধতিতে চালু রয়েছে। অবশিষ্ট ১৯টি মিল বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, বিটিএমসির সব মিলই অলাভজনক। তবে এই ২৫টি মিলের ১৬টি মিল পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় পরিচালনার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই মধ্যে দুইটি মিল পিপিপি কর্তৃপক্ষের অধীনে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ১৪টি মিল পিপিপি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালনার জন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিটিএমসির মিলগুলো বন্ধ থাকায় সংস্থাটির প্রধান আয়ের উৎস ভবন, স্থাপনা ভাড়া ও ব্যাংকে রক্ষিত স্থায়ী আমানতের সুদ। এসব উৎস থেকে পাওয়া আয় প্রয়োজনীয় ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম। ফলে এখানে কর্মরতদের বেতন-ভাতাসহ অত্যাবশ্যক ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বকেয়ার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তিন হাজার ২৩২ লাখ টাকা চেয়ে পত্র দিলেও কোনো অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে জটিলতা প্রকট হচ্ছে। বর্তমানে বেতন-ভাতা ও মঞ্জুরি খাতে বকেয়ার পরিমাণ ২৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বিটিএমসির গ্র্যাচুইটি তহবিলে ঘাটতি থাকায় অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্র্যাইচুইটিও পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন