রবিবার ২১ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

রেকর্ড ভাঙছে তাপমাত্রা, ইউরোপের শহরগুলো সতর্ক

জুন ২৬, ২০১৯ | ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বছরের জুলাই-আগস্টে ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছালেও এবার চলতি সপ্তাহেই তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়াতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডসহ বেশকিছু দেশেই তাপমাত্রা অতীতের রেকর্ড ভাঙতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে ইউরোপীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, এর আগে ২০০৩ সালের ২১ জুন ফ্রান্সে ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল, যা জুন মাসের তাপমাত্রার রেকর্ড। অন্যদিকে, দেশটিতে সারাবছরের তাপমাত্রার রেকর্ড ৪৪ দশমিক ১ ডিগ্রি। একই বছরের ২১ আগস্ট এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তবে এবার সেই রেকর্ডও ভাঙতে যাচ্ছে।

ফ্রান্সের আবহাওয়াবিদ গুইলাম ওজনিকাও বলছেন, আমরা তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছি— এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই বললেই চলে। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (২৮ জুন) দক্ষিণ ফ্রান্সের শহর নাইমস ও কারপেন্টারসের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে, জার্মানির পোস্টড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের স্টেফান রামস্টর্ফ টুইট করেছেন, ১৮৯৩ সাল থেকে তারা তাপমাত্রার রেকর্ড রাখছে। চলতি জুনে আগের যেকোনো সময়ের রেকর্ড থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা বেশি হতে পারে। সংস্থাটি বলছে, এরই মধ্যে বার্লিনসহ জার্মানির বেশকিছু শহরের তাপমাত্রা আগের যেকোনো বছরের জুন মাসের তাপমাত্রার রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই স্পেন থেকে শুরু করে চেক প্রজাতন্ত পর্যন্ত বিভিন্ন দেশেই তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, আফ্রিকা থেকে প্রবাহিত হওয়া শক্তিশালী ও উষ্ণ বায়ু ইউরোপে সূক্ষ্ণ কণা বা পিএম২.৫ পার্টিকেল বয়ে নিয়ে আসছে। অত্যন্ত হালকা হওয়ায় এসব কণা দীর্ঘসময় বায়ুতে থেকে যাচ্ছে। এতে করে বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধদের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর আগেই গ্রীষ্মের শুরুতে এমন তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিলে তা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। এর আগে, ইউরোপে ২০০৩ সালের তাপপ্রবাহে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

সতর্ক ইউরোপ

আগাম গ্রীষ্মের এই তাপপ্রবাহে এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে ইউরোপের শহরগুলোতে। জার্মানিতে বেশকিছু শহরে গাড়ির গতিবেশ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী রস্টকে ট্রেনের লাইনে বিশেষ বেড়ি পরানো হয়েছে।

এদিকে, ফ্রান্সের বেশকিছু শহরে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বায়ু দূষণের কারণে যেন তাপমাত্রার প্রভাব আরও বেড়ে না যায়, সে কারণে লিঁও, প্যারিসসহ বেশকিছু শহরে পুরনো গাড়ির চলাচলও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইতালির মিলানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় শহরটিতে গৃহহীনদের জন্য ১০ হাজার বোতল পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভিয়েনার ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত ‘ফিয়েকার’ ঘোড়ার গাড়ির চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন