রবিবার ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

রিফাত হত্যাকাণ্ড মানেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুন ২৭, ২০১৯ | ৩:২৮ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে তিনি সার্বিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বলে মনে করছেন না।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।

‘বরগুনায় প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মনে করেন কি?’- এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে কেন, আমাদের পুলিশবাহিনী তো সঙ্গে সঙ্গে কাজ করছে। এ ধরনের দু’য়েকটি ঘটনা আগেও ঘটেছে। ফেনীতে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর আমাদের পিবিআই তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে আসলে যারা জড়িত তাদের ধরে আদালতে সোপর্দ করেছে। আমাদের পুলিশ অনেক দক্ষ, তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে।’

‘বরগুনার ঘটনা অবশ্যই দুঃখজনক। কেন ঘটেছে, সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি। ঘটনার পর আমাদের পুলিশ কিন্তু বসে নেই। এই মুহূর্তের খবর হলো- দু’জনকে আমাদের পুলিশ ধরে ফেলেছে এবং বাকি যেকয়জন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের সবাইকে আমরা ধরব। সবাইকে আইনের আওতায় এনে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করব।’ বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

পুলিশের সক্ষমতা বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যত ঘটনাই ঘটুক, আমাদের পুলিশ দক্ষতা এবং সক্ষমতায় অনেক এগিয়ে গেছে। পিছিয়ে পড়া পুলিশ এখন আর নেই। ১০ বছর আগের চেয়ে এখনকার পুলিশ অনেক দক্ষ, অনেক সক্ষম এবং অনেক ইনফরমেটিভ।’

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গারা যাতে দেশে কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য নিরাপত্তাবাহিনীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা শুধু যে নিরাপত্তা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে আছি তা নয়, ওই জায়গায় বিশাল বনও উজাড় হয়ে গেছে। সামাজিক পরিবর্তনও আসছে। একজন স্থানীয় শ্রমিক যদি দৈনিক ৫০০-৬০০টাকা আয় করতেন, এখন একজন রোহিঙ্গাকে ২০০ টাকা দিলেই তারা কাজ করছে। আবার তারা নির্ধারিত জায়গা থেকে বেরিয়ে যেকোনো জায়গায় যাবার চেষ্টা করছে। নিরাপত্তা বাহিনী আবার তাদের ধরে নিয়ে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে লক্ষ লক্ষ লোক চলে এসেছে, এটা নিয়ে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না। ধারণা থাকলে আমরা আগে থেকে একটা ব্যবস্থা করে রাখতে পারতাম। কাঁটাতারের একটা বেড়া দেওয়ার কথা ছিল, সেটাও আমরা করতে পারিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা একটা ব্যবস্থা করছি, যাতে তার বের হতে না পারে। ভেতরে যাতে তারা কোনো ঘটনা ঘটাতে না পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করছি।’

‘তারা যাতে কোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে বা কোনো ধরনের যাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে, সেজন্য আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সবাই তৈরি আছি। আশা করি তারা এখানে কিছু করতে পারবে না।’ বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আরও পড়ুন: কেউ প্রতিবাদ করলেন না, সমাজ কোথায় যাচ্ছে? প্রশ্ন হাইকোর্টের

সারাবাংলা/ এনএইচ/পিটেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন